নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রীর কোটা বাতিলের ঘোষণা বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ না হলে রোববার কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। বুধবার পূর্ব ঘোষিত মানববন্ধন শেষে এ কথা জানান কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা।
তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কোটা বাতিলের ঘোষণা প্রজ্ঞাপন আকারে বৃহস্পতিবার জারি না হলে রোববার সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী অবস্থান নেন। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে শুরু হয়ে চারুকলা ঘুরে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) গিয়ে শেষ হয়। টিএসসিতে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন পালিত হয়।
বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক নুরুল হক নূর বলেন, সরকারের ডাকে আমরা সাড়া দিয়েছি। ৭ মের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানিয়েছিলাম আমরা। কিন্তু এমনটা না হওয়ায় ছাত্ররা বিক্ষুব্ধ। বাংলার ছাত্রসমাজ তাদের অধিকার আদায়ে আর ছাড় দেবে না। বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞাপন জারি না করা হলে রোববারে সারাদেশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন কোটা বতিলের ঘোষণা দিয়েছিলেন, তখন আমরা তার বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছি। আন্দোলন স্থগিত করে আনন্দ মিছিল করেছি। কিন্তু তার ঘোষণার ২৭ দিন পার হয়ে গেলেও আমরা প্রজ্ঞাপন পাইনি। ছাত্রদের সঙ্গে কেন এমন প্রহসন করা হচ্ছে?
এছাড়াও মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন এবং যুগ্ম-আহ্বায়ক রাশেদ খান।
রাশেদ খান বলেন, বাংলার ছাত্র সমাজকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা রক্ষা করা হয়নি। তাদের সঙ্গে নাটক করা হচ্ছে। বাংলার ছাত্র সমাজ নাটক মেনে নেবে না। বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলে ছাত্র সমাজ আবারও রাস্তায় নামবে।
হাসান আল মামুন বলেন, ছাত্র সমাজ যদি খেপে যায়, তবে সব অশুভ শক্তিকে ধ্বংস করে দেবে। প্রজ্ঞাপনের জন্যে সব কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র আন্দোলন হবে।
মানববন্ধনে একজন আন্দোলনকারী বলেন, কোনো ঘোষণা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করতে এত সময় লাগার কথা না। আমরা দেখেছি, যেদিন পাঁচটি জেলার নামের বানান পরিবর্তন করা হয়েছে, তারপরের দিনই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। কিন্তু ২৭ দিন হয়ে গেল, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি।
মানববন্ধনে ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে। সেখানে লেখা ছিলÑ কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন কই? কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন চাই, প্রজ্ঞাপন দিয়ে দিন, আমরা পড়ার টেবিলে বসতে চাই, আর নয় কালক্ষেপণ, দিতে হবে প্রজ্ঞাপন, কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন দিন, ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরতে দিন এবং শুধু মুখে নয়, লিখিত প্রজ্ঞাপন চাই।


