বেলংকার ইজতিমা: ভরা গৃহে শূন্য আমি তোমা বিহনে

বেলংকার ইজতিমা: ভরা গৃহে শূন্য আমি তোমা বিহনে

আশরাফ উদ্দীন রায়হান

পড়ালেখার তাগিদে আমরা যারা ঘরবাড়ি ও পরিবার-পরিজন ছেড়ে দূরে থাকি, এলাকার প্রতি আমাদের হৃদয়ের ভাবাবেগ বোঝানো এককথায় অসম্ভব। যেখানেই যাই আর যেখানেই থাকি সেখানেই ‘আমরা কিশোরগঞ্জের মানুষ’ পরিচয় প্রকাশিত হলে বাড়তি কদর পাওয়া যায়। এটা নিতান্তই অতীন্দ্রিয় অনুভূতি, যা বোঝাতে পারার সাধ্য আমার নাই। ‘কিশোরগঞ্জের মানুষ’ পরিচয়টার সাথে সাথে আজকাল ‘বেলংকা’ নামটিও সমুচ্চারিত ও সমধিক পরিচিত হয়ে গেছে মানুষের মন-মননে। আর এটি যে আমাদের বেলংকার সবেধন নীলমণি আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দামাত বারাকাতুহুমের কর্মকৃতি আর অবদানেই হয়েছে, সে কথা তো লেখাই বাহুল্য। আর কিছু বলতে পারি বা না পারি, এ-কথা তো আবেগোষ্ণ কণ্ঠে বলাই যায়, আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দামাত বারাকাতুহুম যে গ্রামের সন্তান আমিও সে পল্লীরই ছেলে।

বেলংকার নামডাক আজকাল কান পাতলেই শোনা যায়। আমি যোজন যোজন দূরে থাকলেও যেন ইথারে ভেসে এসে কানে বাজে বেলংকার ডাক। সে ডাকে লেপ্টে আছে এক অনির্বচনীয় মোহময়তা আর আকুল ভাবাবেশ। জন্মগাঁ বেলংকার প্রতি নাড়ির টানকে ভুলে যেতে পারেননি এ-কালের বিরল মনস্বীতাসম্পন্ন মনীষী আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দামাত বারাকাতুহুমও। এ জন্যই বুঝি-বা এলাকার আওয়াম জনসাধারণের দ্বীন-ঈমানের তরক্কির জন্য দেড় যুগের অধিক সময় ধরে প্রতি বছর আয়োজন করেন ঐতিহাসিক ইসলাহী ইজতিমার। আমার শৈশব আর এই ইজতিমার সূচনা যেন সমান্তরাল সরলরেখায় চলেছে বহমান সময়ের পরিক্রমায়।

আমাদের বেলংকার এই ইজতিমার মৌলিক আবেদন মানুষকে আত্মশুদ্ধির জন্য উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্য থেকেই তো এর নামকরণ হয়েছে ‘ইসলাহী ইজতিমা’। গতানুগতিকভাবে শুক্রবার-শনিবার-রবিবার তিন দিনের এই মিলনমেলা এবারও বসতে যাচ্ছে আসন্ন ২৬, ২৭ ও ২৮ জানুয়ারি। আর এ উপলক্ষ্যে এক বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার প্রহরের অবসান হতে চলেছে বেলংকার মানুষদের। এই ইজতিমা যে আমাদের কাছে কতটা প্রেমময়তা আর ভালোবাসার ব্যাপার, তা ভাষায় ব্যক্ত করার মতো না। একই সাথে এটি আমাদের কাছে দুই ঈদের পরে সবচেয়ে বড় উৎসবও বটে।

বেলংকার নামডাক আজকাল কান পাতলেই শোনা যায়। আমি যোজন যোজন দূরে থাকলেও যেন ইথারে ভেসে এসে কানে বাজে বেলংকার ডাক। সে ডাকে লেপ্টে আছে এক অনির্বচনীয় মোহময়তা আর আকুল ভাবাবেশ।

ইসলাহী ইজতিমা উপলক্ষ্যে এলাকার সব মানুষের সমাগম হয় আনন্দ-উদ্দীপনামুখর পরিবেশে। জীবিকার তাগিদে দূরে থাকা পরিবারের অবলম্বন কর্মজীবী মানুষগুলোও ইজতিমা উপলক্ষ্যে বাড়িতে আসেন। সবাই একত্র হয়ে আমল-আনন্দের বিমল স্রোতস্বিনীতে অবগাহন করে কাটিয়ে দেয় তিনটি দিন।

বিগত অন্যান্য বছরগুলোতে পড়ালেখার চাপ থাকলেও তা সামলে তুমুল উৎসাহে উত্তরবঙ্গ থেকে গিয়েই শরীক হয়েছি প্রাণের বেলংকার এই প্রেমের ইজতিমায়। কিন্তু এবার গবেষণাসহ একাডেমিক ও ক্যারিয়ার বিষয়ক পড়ালেখা ও প্রস্তুতি এ ত্রিমুখী চাপের কারণে ইজতিমায় হাজির হতে পারছি না, যা আমাকে ক্ষণে ক্ষণে বিষাদকাতর করে তুলছে! শায়খ ও মুর্শিদ আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দামাত বারাকাতুহুমের জ্যোতির্ময় মুখাবয়ব চোখের সামনে থেকে যেন একবারেরও জন্যও অদৃশ্য হচ্ছে না। শত শত মাইল দূরে থেকেও আমি যেন দিব্যকর্ণে শুনতে পাচ্ছি শায়খের গগনবিদারী আকুল রোনাজারি ‘মালিক! মালিক! ও মালিক! তুমি মাফ কইরাই দাও’-এর চিরশ্রুত মুনাজাত।

 

লেখক : রাজশাহী বিশ্ব বিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *