৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ৩রা রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

বেড়েছে শিশুর খাদ্য ও অন্যান্য সামগ্রীর দাম

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির দৌড়ে পিছিয়ে নেই শিশুর খাদ্য ও অন্যান্য সামগ্রী। এর মধ্যে নবজাতক ও শিশুদের মায়ের দুধের বিকল্প বা ব্রেস্ট মিল্ক সাবস্টিটিউট (বিএমএস) এবং শিশুর ব্যবহার্য ডায়াপারের দাম বেশ বেড়েছে। এ দুটি প্রধান শিশু খাদ্য ও পণ্য কিনতে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছেন অভিভাবকরা।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, উল্লিখিত পণ্য দুটির দাম বাড়ায় একদিক দিয়ে ভালো হয়েছে। দুটি পণ্যই শিশুস্বাস্থ্যের অনুকূল নয়। এসব জিনিস পরিহার করে স্বাস্থ্যসম্মত বিকল্প পথ বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। এতে ইতিবাচক ফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঢাকার শান্তিনগরের বাসিন্দা কর্মজীবী নারী অনিন্দ্যা সাহার ভাষ্য, গত মাসে নেসলে দুবাইয়ের তৈরি ৮০০ গ্রাম নান-১ গুঁড়া দুধ দুই হাজার ৭০০ টাকায় কিনেছেন। বর্তমানে তা বাজারে বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৯৫০ থেকে তিন হাজার টাকায়।

অনিন্দ্যা বলেন, বারবার কাঁথা বা ন্যাপকিন বদলানোর ঝামেলা এড়াতে শিশুর জন্য ডায়াপার লাগেই। এ জন্য এই দরকারি জিনিসটি তিনি নিয়মিত কিনে থাকেন। কিন্তু এক মাসের মধ্যে ৪২ পিসের এক প্যাকেট প্যান্ট ডায়াপারের দাম বেড়েছে প্রায় ৫০ টাকা।

তিনি বলেন, ঢাকা শহরের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে কর্মজীবী নারীদের শিশুর ফর্মুলা ও ডায়াপারের বিকল্প খুঁজে নেওয়া কষ্টকর। গত দুই মাসে শিশুর জন্য বহুল ব্যবহৃত এ পণ্য দুটির দাম বাড়ায় চিন্তিত তিনি।

অনিন্দ্যা সাহা বলেন, ‘বাধ্য হয়ে শিশুর জন্য ডায়াপার ব্যবহার করতে হচ্ছে। ডায়াপার, গুঁড়াদুধ—সব কিছুর দাম এ বছর কয়েকবার বেড়েছে। অথচ আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের আয় বাড়ছে না। ’

এক বছর বয়সী শিশুর জন্য নিয়মিত ডায়াপার কেনেন বাসাবোর বাসিন্দা দীপ্ত আহমেদ। ৩৬ পিসের এক প্যাকেট ডায়াপার আগে ৫৬০ টাকায় কিনেছেন। বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৫৯০ টাকায়। তিনি বলেন, ‘প্রতি মাসে অন্তত দুই প্যাকেট ডায়াপার লাগে। শীতে একটু বেশি লাগে। খরচ তখন আরো বাড়বে। সব কিছুর সঙ্গে শিশুর লালন-পালন সহায়ক জিনিসের খরচও বাড়ছে। ’

শান্তিনগর এলাকার বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা যায়, বাজারে প্রচলিত সব বিএমএসেরই দাম বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত নেসলের ফর্মুলা মিল্ক ল্যাকটোজেনের ৪০০ গ্রামের ক্যানপ্রতি দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা। বড় সাইজের ৪৪ পিসের ম্যামি-পকো-প্যান্টস ডায়াপারের দাম রাখা হচ্ছে এক হাজার ৩০০ টাকা।

এক মাস আগেও এর দাম ছিল এক হাজার ১৫০ টাকা। তিন থেকে ছয় কেজি ওজনের শিশুর বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৪০ পিসের এক প্যাকেট প্যান্ট ডায়াপারের দাম ৫০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা। সাত থেকে ১৮ কেজি ওজনের শিশুর ৬০ পিসের ডায়াপারের প্রতি প্যাকেটের দাম বেড়েছে প্রায় ১০০ টাকা।

শান্তিনগর মোড় এলাকার সজিব জেনারেল স্টোরের মালিক কাওসারের ভাষ্য, ৪০০ গ্রামের প্রতি ক্যান ল্যাকটোজেন-২ ও ৩ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকায়, জুন ও জুলাই মাসের তুলনায় যা বেড়েছে ক্যানপ্রতি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। সমপরিমাণের ল্যাকটোজেন-১ প্রতি ক্যান বিক্রি হচ্ছে ৬৭৫ টাকা, যা গত মাসের তুলনায় ৩০ টাকা বেশি। এসব পণ্যের দাম আরো বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।

ল্যাকটোজেন ছাড়াও বাজারে প্রচলিত প্রতিটি বিএমএসের দাম ২৫ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। মূল্যবৃদ্ধির আগে কিছুদিন বাজারে এগুলোর সংকট ছিল বলে জানান পাশের চিটাগাং স্টোরের এক বিক্রয়কর্মী।

  • ইতিবাচক দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

ফর্মুলা দুধ ও ডায়াপারের মূল্যবৃদ্ধিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ব্যবহারকারীদের নিরুপায় পরিস্থিতিকে আমলে না নিয়ে ফর্মুলা দুধের বিপরীতে সম্পূর্ণ মাতৃদুগ্ধ ও প্রাকৃতিক খাবারে শিশুকে অভ্যস্ত করে তোলার পরামর্শ তাঁদের। ডায়াপারকে শিশুস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হিসেবেও চিহ্নিত করেন তাঁরা।

কর্মজীবী নারীদের ছয় মাসের বেশি বয়সী শিশুদের মাতৃদুগ্ধের সঙ্গে সম্পূরক খাবারের অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়ে কভিড-১৯ জাতীয় কমিটির সভাপতি শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, ‘শিশুকে ফর্মুলা দুধ খাওয়ানোর পুরোপুরি বিপক্ষে আমি। যাঁরা শিশুকে খাওয়াচ্ছেন তাঁদের বলব, এটা ত্যাগ করুন। পুষ্টিকর যেসব শাক-সবজি আমরা খাচ্ছি, তা শিশুকে খাওয়ানোর অভ্যাস করতে হবে। আমি বলব এটাই সুযোগ।’

শিশুদের সম্পূরক খাদ্যগুলোর দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকারের মনিটরিং জরুরি বলেও জানান তিনি। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সবাইকে এর সঙ্গে থাকতে হবে বলে মনে করেন অধ্যাপক শহীদুল্লাহ।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের আর্দ্রতা কম। ডায়াপার ব্যবহার করলে এমন আবহাওয়ায় শিশুর র‌্যাশ হতে পারে। আগে যখন ডায়াপার ছিল না, তখন আমাদের মা-খালারা শিশুর জন্য সুতির পরিষ্কার কাপড় ব্যবহার করতেন। এটা বেশি স্বাস্থ্যসম্মত। এতে অতিরিক্ত ব্যয় এড়িয়ে চলতেও সুবিধা হবে।’

আদ্-দ্বীন উইমেনস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সাইদা আনোয়ারা বলেন, ‘কর্মজীবীরা শিশুকে সম্পূরক খাদ্যেরই অভ্যাস গড়ে তুলবেন। সময় হিসাব করে ব্রেস্ট ফিডিং করাতে পারেন। ফর্মুলা দুধে কোনোভাবেই শিশুকে অভ্যস্ত করা যাবে না।’

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com