বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সর্বকালের রেকর্ড : অর্থমন্ত্রী

 

নিজস্ব প্রতিবেদক ● চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের স্থিতি ৩২ দশমিক ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। যা সর্বকালের রেকর্ড বলে সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। শনিবার বিকেলে জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনে সরকার দলীয় সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহর টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সন্তোষজনক। বিগত ৩ জানুয়ারি রিজার্ভের স্থিতি ছিল মার্কিন ডলার ৩২ দশমিক ২৪ বিলিয়ন যা সর্বকালের রেকর্ড।

সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য বেগম পিনু খানের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে বর্তমান তারিখ পর্যন্ত অর্থ্যাৎ জানুয়ারি-ডিসেম্বর সময়কালে দেশের সর্বোচ্চ পরিচালন (অপারেটিং) মুনাফা অর্জনকারী ব্যাংকের নাম ইসলামি ব্যাংক। সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন নতুন প্রযুক্তিগত আক্রমণ যেমন: জিরো-ডে ম্যালওয়্যার এবং অ্যাডভান্স পারসিট্যান্স থ্রেটস (এপিটি) মোকাবেলার জন্য সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়ন, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে গৃহীত সেবাসমূহের ঝুঁকি মোকাবেলায় নিরাপত্তা কেন্দ্র স্থাপন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকার দলীয় সদস্য এম এ আবদুল লতিফের আরেক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বাজার সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিংয়ের জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে যা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ সেবা আরও কম খরচে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

মেধাবীদের পুরো শিক্ষাজীবনে বৃত্তি দেওয়ার পরিকল্পনা : দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর পুরো শিক্ষাজীবনের জন্য সরকারি বৃত্তি দেওয়ার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা শোনালেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এজন্য দাতব্য কাজে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত হতে বলেছেন তিনি। রাজধানীর মিরপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে শনিবার ডাচ-বাংলা ব্যাংকের উদ্যোগে আয়োজিত শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ পরিকল্পনার কথা শোনান। জীবনে ১৬ বছর বৃত্তি পেয়েছেন জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের বৃত্তি অনেকটা টোকেন ছিল- ৩ টাকা, ৫ টাকা, ২০ টাকা; এর বেশি পাইনি। সেদিক দিয়ে ডাচ-বাংলা ব্যাংক বৃত্তি দিচ্ছে যে একজন পুরোপুরি পড়ালেখা শেষ করবেন। সরকারও এরইমধ্যে বৃত্তির হার বাড়িয়েছে, তবে ডাচ-বাংলার স্টেজে পৌঁছতে পারেনি। নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আশা করবো ভবিষ্যতে সরকারও, আমরাও এদিকে অগ্রসর হবো। সরকারের কোষাগার ভরার জন্য অবশ্যই সাধারণ জনগণেরও সহায়তার প্রয়োজন। তাদের আরও বেশি করে কর দিতে হবে, সরকারের রাজস্ব বাড়াতে হবে। তাহলে সরকার কার্যক্রম নেওয়ার জন্য।

তবে এজন্য তিনি অনুষ্ঠানে কোনো প্রোপাগা-া করতে আসেননি বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। ২০১৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন মেডিকেলে ভর্তি দুই হাজার ২৮ মেধাবী শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে এবার ডাচ-বাংলা ব্যাংকের তরফে। বর্তমানে এ ব্যাংকের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ১৮ হাজার ১৬১ জন। আর মোট বৃত্তি পেয়েছে ৪৩ হাজার ৬২৮ জন। বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের মতো শিক্ষাবৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা প্রদানে এগিয়ে এলে সেটি সবার বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করবে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, আরও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান এটা অনুসরণ করলে খুবই ভালো হবে। ডাচ-বাংলা ব্যাংক যেমন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে আর্থিক সহায়তা করে যাচ্ছে, অন্য বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এটা করতে হবে। ডাচ-বাংলা ব্যাংকের উদ্যোগ দর্শনীয় এবং উল্লেখযোগ্য উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও এটা করলে দেশের বহু লোক দাতব্য কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত হবে। বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিতির জন্য নিজের আগ্রহের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তারা যেন আমার সঙ্গে আলোচনা করে অনুষ্ঠানের ঠিক করেন, তার থেকে বুঝতে পারেন এই অনুষ্ঠানে আমার আগ্রহ কত বেশি। ব্যাংকটির এই কর্মসূচির প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, এই ধরনের কার্যক্রম একদিকে সামাজিক দায়বদ্ধতা পূরণ করলো, অন্যদিকে দেশ ও সমাজ গঠনে মূল্যবান অবদান রাখতে সক্ষম হলো। জাতির উন্নয়নে প্রধান বিষয় শিক্ষার প্রসার জানিয়ে মুহিত বলেন, দেশে ৩০ শতাংশের বেশি জনগণ অশিক্ষিত। প্রাথমিক স্তরে ৯৩ শতাংশ শিক্ষা দিতে সক্ষম হয়েছি। যদিও প্রতিবন্ধীদের বিশেষ প্রয়োজন পূরণ করতে পারিনি। মাধ্যমিক পর্যায়ে তেমন অগ্রগতি সাধন করতে পারিনি, তবে আগের তুলনায় যথেষ্ট ছাত্র-ছাত্রী যাচ্ছে।

আমাদের আরও বেশি কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। ডাচ-বাংলার মেয়েদের ৯০ শতাংশের বৃত্তি প্রদানের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মেয়েদের এগিয়ে নিতে ডাচ-বাংলা ব্যাংক কাজ করছে। প্রতিবন্ধীদের জন্য যথোপযুক্ত সুযোগ সৃষ্টি করা সরকারের সম্ভব হয়নি। এ দিকে তারা বিশেষ নজর দিয়েছে। বৃত্তিপ্রাপ্তরা দেশ ও জাতির জন্য সমাজে অবদান রাখবে বলে আশা পোষণ করেন ডাচ-বাংলা ব্যাংকের চেয়ারম্যান সায়েম আহমেদ। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবুল কাশেম মো. শিরিন এবং বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে পাঁচজন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

patheo24/mr

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *