বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে নতুন রেকর্ড

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে নতুন রেকর্ড

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : দেশে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন (রিজার্ভ) ৪৬ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে করোনার মহামারির মধ্যেও এই রেকর্ড হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৯ জুন) দিন শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৬ দশমিক শূন্য ৮২ বিলিয়ন ডলার। অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি এই রিজার্ভ। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কাজী ছাইদুর রহমান।

তিনি জানান, মঙ্গলবার (২৯ জুন) দিন শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৬ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৪ হাজার ৬০৮ কোটি ডলার। বাংলা‌দে‌শি মুদ্রায় যার প‌রিমাণ ৩ লাখ ৯১ হাজার ৬৯৭ কো‌টি টাকা (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ধরে) প্রায়।

জানা গেছে, সোমবার (২৮ জুন) পর্যন্ত প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১৭৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। যা তার আগের বছর (২০২০ সাল) একই সময়ের চেয়ে ১০ কোটি ডলার বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে দেশে এখন পর্যন্ত প্রবাসী আয় এসেছে ২ হাজার ৪৫৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার। আগের বছরের তুলনায় এ বছর রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধির হার ৩৬ দশমিক ৪০ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, সামনে পবিত্র ঈদুল আজহা (কোরবানির ঈদ)। এ উপলক্ষে বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা। প্রতি বছরই ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার আগে বছরের অন্য মাসগুলোর তুলনায় রেমিট্যান্স পাঠানোর পরিমাণ বেড়ে যায়।

তবে রিজার্ভ বৃদ্ধির পেছনে রপ্তানি আয়েরও প্রভাব আছে। চলতি বছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৫ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার। যা পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি। ২০২০ সালের ১১ মাসে রপ্তানি হয়েছিল ৩ হাজার ৯৫ কোটি ৯১ লাখ ডলারের পণ্য।

প্রসঙ্গত, দেশের এই রিজার্ভ দিয়ে ১১ মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয়, প্রতি মাসে ৪ বিলিয়ন ডলার হিসাবে, মেটানো সম্ভব। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের ৩ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ থাকতে হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *