পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ডেনমার্কে মুসলিমদের একটি তালিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, এই তালিকা মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যের নামান্তর। তালিকাটি মুসলিমদের আদি দেশগুলোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। কে কোন দেশ থেকে এসেছে, সেই তথ্যকে ভিত্তি ধরে মুসলিমদের শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। সমালোচকরা এই পদক্ষেপে বৈষম্য দেখছেন। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
খবরে বলা হচ্ছে, তালিকায় অ-পশ্চিমা দেশ থেকে আসা মুসলিমদের আলাদা চোখে দেখা হচ্ছে। যেমন মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা, পাকিস্তান কিংবা তুরস্ক (এমইএনএপিটি) থেকে আসা মুসলিমদের ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব উস্কে দেওয়া হয়েছে। ডেনিশ সরকার মনে করে, অ-পশ্চিমা দেশ থেকে আসা মুসলমানদের পর্যবেক্ষণে রাখা দরকার।
দুই বছর আগে ডেনিশ ইমিগ্রেশন ও ইন্টিগ্রেশনবিষয়ক সাবেক মন্ত্রী মাতিয়াত টেসপায়ে জানতে চেয়েছিলেন, অপরাধীদের সঙ্গে তাদের ফেলে আসা মাতৃভূমির কোনো সম্পর্ক বা সংযোগ আছে কিনা তা খুঁজে দেখা দরকার। অর্থাৎ লোকেরা কোথা থেকে এবং কিভাবে এসেছে- তা নিয়ে পরিসংখ্যান তৈরির কথা বলেছিলেন তিনি।
খবরে বলা হচ্ছে, ২০২০ সাল পর্যন্ত ওই তালিকার অন্তর্গত মুসলিমরা ডেনমার্কে অ-পশ্চিমা সব নাগরিকের মধ্যে ৫৪ শতাংশ। যদিও ডেনমার্কের রাজনৈতিক ধারায় বরাবরই মুসলমানরা সমস্যাযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত। তবে উদারপন্থীরা ‘ভালো মুসলিম’ ও ‘খারাপ মুসলিম’ ক্যাটাগরি হিসেবে মূল্যবোধ বিবেচনা করে।
যেসব মুসলিম স্কুলে যায়, কাজ করে, ডেনিশ মূল্যবোধ গ্রহণ করে এবং খুব বেশি ধর্মীয় সহাবস্থানের অনুরোধ করে না- তাদের ভালো মুসলিম হিসেবে বিবেচনা করেন রাজনীতিকরা।
তবে যেসব মুসলিম আর্থিকভাবে ধনাঢ্য নয়, কিংবা যারা সামাজিক আবাসনে অবদান রাখতে ও ডেনিশ ভাষায় কথা বলতে পারেন না তারা প্রায়শই নিন্দিত হয়। অর্থাৎ আপনি যদি অর্থে-বিত্তে একজন ধনাঢ্য মুসলিম না হন, তাহলেই তাদের ক্ষেত্রে ‘মুসলিম’ নামটি সমস্যা হয়ে পড়ে। তাদের নেতিবাচক চোখে দেখা হয়।
বর্ণবাদ বিশেষজ্ঞ ও সমাজবিজ্ঞানী ড. আমানি হাসানি বলেন, উদ্বেগের বিষয় হলো নাগরিকত্বের আবেদনের মূল্যায়নের অংশ হিসেবে এমইএনএপিটি তালিকার অবমূল্যায়ন হতে পারে।
টিআরটি ওয়ার্ল্ডকে ড. হাসানি বলেন, নাগরিকত্ব অনুমোদন কমিটির কিছু রাজনীতিবিদ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ থেকে আসা আবেদনকারীদের নেতিবাচক হিসেবে দেখেন। তারা মুসলিম মূল্যবোধকে ডেনিশ বিরোধী মূল্যবোধ হিসেবে বিবেচনা করেন।


