পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতের কেরালা রাজ্যে আমিরাত ফেরত এক ব্যক্তির দেহে মাঙ্কিপক্স শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যেটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) কেরালার স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীণা জর্জ জানান, মঙ্গলবার (১২ জুলাই) সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে থিরুভানান্তপুরম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন ওই ব্যক্তি। তার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে।
মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত ওই ব্যক্তি সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য না দিলেও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। সবধরনের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে এবং রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
তিনি আরো জানান, আক্রান্ত ওই ব্যক্তির সাথে প্রাথমিক সংস্পর্শে এসেছেন এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন- ওই ব্যক্তির বাবা-মা, এক ট্যাক্সিচালক, এক অটোচালক এবং বিমানের ১১ সহযাত্রী।
আক্রান্ত ঐ ব্যক্তি কেরালায় পৌঁছানোর পরই মাঙ্কিপক্স সন্দেহে তার নমুনা পরীক্ষার উদ্দেশ্যে পুনের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ভাইরোলজিতে পাঠানো হয়। আর তাকে আইসোলেশনে রেখে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
টেস্টের পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়ার পর শুক্রবার (১৫ জুলাই) ভারতের জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (এনসিডিসি) একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি বিশেষজ্ঞ দল কেরালায় পাঠিয়েছে। এই দলের কাজ হবে প্রাদুর্ভাব নিয়ে তদন্ত করতে এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সতর্কতা পদক্ষেপ নিতে রাজ্য সরকারকে সহায়তা করা।
এদিকে, মাঙ্কিপক্স নিয়ে স্ট্যান্ডার্ড প্রটোকল তৈরি করতে আগামী সপ্তাহে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এখন পর্যন্ত ইউরোপ ও আফ্রিকার ৬০টিরও বেশি দেশে এই রোগের সন্ধান পাওয়া গেছে।
মাঙ্কিপক্স ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর দেহে ফুসকুড়ির পাশাপাশি জ্বরের লক্ষণ দেখা দেয়। সাধারণত এটি প্রাণঘাতি না হলেও, এর দুটি ধরনের মধ্যে একটি ধরন বেশি বিপজ্জনক।
‘কঙ্গো স্ট্রেইন’ নামে পরিচিত ধরনটিতে আক্রান্ত রোগীদের প্রায় ১০ শতাংশের মৃত্যু হয়। সে তুলনায় ‘ওয়েস্ট আফ্রিকান’ ধরনটি কম বিপজ্জনক। এতে আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুর হার ১ শতাংশের কাছাকাছি।


