৬ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১লা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

ভাসানচরের পথে আরও ২৬০ রোহিঙ্গা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের আশ্রয় কেন্দ্র থেকে ভাসানচরের উদ্দেশ্যে সাতটি বাসে আরও ২৬০ জন রোহিঙ্গা রওনা দিয়েছেন। বুধবার (২৪ নভেম্বর) উখিয়া ডিগ্রি কলেজের মাঠ থেকে রোহিঙ্গাদের বহনকারী বাসগুলি চট্টগ্রামের নেভাল ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

গত এপ্রিলে বৈরি আবহাওয়ার কারণে যাত্রা স্থগিত করার পর ইউএনএইচসিআর ও সরকারের মাঝে ভাসানচরে শরণার্থী ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) হওয়ার পর ২৪ নভেম্বর প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা যাত্রা শুরু হয়েছে। এ দফায় প্রায় দেড় হাজার রোহিঙ্গা ভাসানচরে যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র জানায়, ভাসানচরে যাবার উদ্দেশ্যে উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে মঙ্গলবার বিকাল থেকে সরঞ্জামসহ সপরিবারে উখিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে আসতে থাকে রোহিঙ্গারা। বুধবার সকালেও আসে অনেকে। সকল প্রক্রিয়া শেষ করে ১০টার দিকে বাসে ওঠা শুরু করে রোহিঙ্গারা। এরপর সোয়া ১১টার দিকে ভাসানচরের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রামের পথে রওনা হয়। আজ সারাদিনে হাজার দেড়েক রোহিঙ্গা যাত্রার পর রাতে চট্টগ্রামের বিএন শাহীন কলেজের ট্রানিজট ক্যাম্পে পৌঁছাবে। সেখান থেকে পরের দিন নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় ভাসানচরে যাবার প্রস্তুতি রয়েছে।

কক্সবাজার ত্রাণ ও শরণার্থী প্রত্যাবাসন কমিশনার শাহ রেজওয়ান হায়াত জানান, সপ্তম দফায় প্রথম দলের রোহিঙ্গাদের একটি অংশ উখিয়া থেকে ভাসানচরের উদ্দেশ্যে সকালে রওনা দিয়েছে। সারাদিনের যাত্রা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বলা যাচ্ছে মোট কতজন এবারে ভাসানচর যাচ্ছে।

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝিরা বলেন, আগের মতো ভাসানচর যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গারা স্ব-স্ব ক্যাম্প ইনচার্জ কার্যালয়ে নাম জমা দিয়েছে। ভাসানচরের পরিবেশ, থাকা খাওয়ার সুবিধা সম্পর্কে ব্রিফিং করার পর যারা যেতে রাজি হচ্ছে তাদের নিবন্ধনের মাধ্যমে ভাসানচর স্থানন্তর করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

তাদের মতে, আগের মতো তেমন সাড়া মিলছে না। ভাসানচর থেকে পালিয়ে আসা অনেকে বিরূপ প্রচারণা চালিয়েছে। সেখানে বন্দির মতো বসবাস করতে হয় উল্লেখ করে তারা প্রচার করেছে, চাইলেই উখিয়া-টেকনাফের ক্যাম্পের মতো সেখানে যখন-তখন কোথাও যাওয়া যায় না। উখিয়া-টেকনাফে থাকা কোন স্বজন মারা গেলেও সহজে দেখতে আসতে পারবে না বলায় এপ্রিলে যাত্রা বন্ধ হবার পর আবার চালু হলে যাবার জন্য মনস্থির করা অনেক পরিবার আবার চুপসে গেছে।

আবার, রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যাসহ সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার কারণে আতঙ্কিত উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের লম্বাশিয়া, বালুখালীসহ বিভিন্ন শিবিরের অনেকে ভাসানচরে যেতে রাজি হয়েছে। আগে অনেক চেষ্টাতেও তারা ভাসানচর যেতে চায়নি তারা, এমনটি দাবি রোহিঙ্গা নেতাদের।

কক্সবাজার-১৪ এপিবিএনের পুলিশ সুপার নাইমুল হক নাইম জানান, রোহিঙ্গাদের একটি দল বেলা সোয়া ১১টার দিকে ভাসানচরের উদ্দেশ্যে উখিয়া ত্যাগ করেছে। আরও কয়েকটি দল যাবার প্রস্তুতি নিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে ছয় দফায় প্রায় ১৯ হাজার রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে পাঠানো হয়। এ ছাড়া গত বছরের মে মাসে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টাকালে ৩০৬ রোহিঙ্গাকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে সেখানে নিয়ে রাখা হয়েছে।

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গণহত্যা ও নিপীড়নের মুখে দেশটি থেকে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। আগের ও তখনকার মিলিয়ে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারে বসবাস করছে। ওই বছরের নভেম্বরে কক্সবাজার থেকে এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে একটি প্রকল্প নেয় সরকার। আশ্রয়ণ-৩ নামে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com