ভ্যাট প্রত্যাহারে কমবে ফার্নেস অয়েলের দাম

ভ্যাট প্রত্যাহারে কমবে ফার্নেস অয়েলের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক ● সরকার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) আমদানিকৃত ফার্নেস অয়েল থেকে ভ্যাট প্রত্যাহার করেছে। ফলে কম দামে ওই তেল সরবরাহ করতে পারবে বিপিসি। দীর্ঘদিন ধরেই বিপিসি আন্তর্জাতিক বাজারের দ্বিগুণ দামে ফার্নেস অয়েল বিক্রি করে আসছে। আর দাম কমিয়ে আনার জন্য বিপিসি তাদের উপর আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছিল।  বর্তমানে বিপিসি ৪২ টাকা লিটার দরে ৪৭টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ফার্নেস অয়েল সরবরাহ করে। ওসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বেশিরভাগই সরকারি। দাম কমার কারণে আরো কিছু বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিপিসি থেকে ফার্নেস অয়েল সরবরাহ করার সম্ভাবনা রয়েছে। বিপিসি সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বেশি থাকার পরও বিপিসি ইতোপূর্বে ভর্তুকি মূল্যে তেল সরবরাহ করেছে।

কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছলেও জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে দামের তেমন কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। একইভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের ক্ষেত্রেও দাম কমানো হয়নি। আর বিপিসি সরবরাহকৃত ফার্নেস অয়েলের উচ্চমূল্যের কারণে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানিগুলোর কয়েকটি নিজস্ব উদ্যোগে ফার্নেস অয়েল আমদানির জন্য সরকারের নিকট আবেদন করে। এ পর্যন্ত ১২টি বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র সরাসরি আমদানির সুযোগ পেয়েছে। সরকার বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য নিজস্ব উদ্যোগে ফার্নেস অয়েল আমদানির ক্ষেত্রে সামগ্রিক শুল্ক মওকুফ ছাড়াও সার্ভিস চার্জ বাবদ আরো শতকরা ৯ ভাগ ইনসেনটিভ দিয়ে থাকে। বেসরকারি পর্যায়ে ফার্নেস অয়েল আমদানির ক্ষেত্রে ওই ৯ ভাগ প্রণোদনা সবাইকে নিজস্ব উদ্যোগে আমদানির ক্ষেত্রে বেশি আগ্রহী করেছে। কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো নিজস্ব উদ্যোগে ফার্নেস অয়েল আমদানির ক্ষেত্রে ওই ৯ ভাগ প্রণোদনায় অনেক মুনাফা হয়ে থাকে। এজন্য দেশের সকল বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রই নিজস্ব উদ্যোগে ফার্নেস অয়েল আমদানিতে আগ্রহী। যদিও যে দামেই বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ফার্নেস অয়েল ক্রয় করুক না কেন তার পুরোটাই বিদ্যুৎ বিভাগ ফেরৎ দেয়। সূত্র জানায়, বেসরকারি উদ্যোগে ফার্নেস অয়েল কেনা হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর লাভ হয়। তার মধ্যে বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো ৬ মাসের বকেয়া হিসেবে ঋণপত্রও খুলতে পারে।

তারা তেল আমদানির পর তা ব্যবহার করে সরকার থেকে পাওয়া অর্থ দিয়েই ঋণপত্রের টাকা ফেরত দিতে পারে। আর বিপিসি থেকে তেল ক্রয় করলে নগদে সকল টাকা দিতে হয়। ফলে প্রায় ৬ মাস পর্যন্ত ওই টাকার ব্যাংক সুদ প্রদান করতে হয়। এখন সরকার বিপিসির আমদানিকৃত ফার্নেস অয়েলের ওপর শুল্ক প্রত্যাহারের পর বিপিসি প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েল ৪২ টাকার পরিবর্তে ৩৫/৩৬ টাকায় সরবরাহ করতে পারবে। তবে তাও বিশ্ব বাজারে তেলের মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারণ বর্তমানে বিশ্ব বাজারে প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের মূল্য ২০/২২ টাকা। বিপিসিকে ফার্নেস অয়েল বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সরবরাহ করতে হলে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে আসতে হবে। তা নাহলে বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বিপিসি থেকে তেল কিনতে আগ্রহ দেখাবে না। সূত্র আরো জানায়, তেল আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক প্রত্যাহারের ফলে বিপিসি বর্তমানে যে ৪৭টি কেন্দ্রে তেল সরবরাহ করে থাকে। ওসব কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ আগের তুলনায় কমে যাবে।

বিপিসি আগামী ৬ মাসে ওই ৪৭টি কেন্দ্রের জন্য ৩ লাখ ১৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েল আমদানি করবে। বর্তমানে দেশে ১০৯টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। তার মধ্যে অধিকাংশ বেসরকারি কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট বেসরকারি পর্যায়ে তেল আমদানির অনুমতি পায়নি। তাদেরকেই বিপিসির আমদানিকৃত তেলের ওপর নির্ভর থাকতে হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বিপিসির পরিচালক (বিপণন) আলী রেজা জানান, সরকার বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রসমূহকে তেল আমদানির ক্ষেত্রে যে সুবিধা দিয়ে থাকে তা বিপিসিকে দেয়া হলে আরো অনেক কম মূল্যে তেল সরবরাহ করা সম্ভব। কারণ বিপিসি লোকবল, জেটি সুবিধা, সংরক্ষণ সুবিধাসহ তেলের আমদানি ও সরবরাহের সকল অবকাঠামো সুবিধা বিদ্যমান। তাই বিপিসির চেয়ে কম মূল্যে কেউ তেল সরবরাহ করতে পারবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *