২৯শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১৪ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৮ই জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

মডেল মসজিদে ইমাম নিয়োগ: কিছু কথা

আমিনুল ইসলাম কাসেমী : জাতীয় উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের মুহতারাম সভাপতি সাহেব ৫৬০ টি মডেল মসজিদে যোগ্য ও পরহেজগার লোক নিয়োগ করার কথা বলেছেন। অনেক ধন্যবাদ জানাই মাওলানা নুরুল হুদা ফয়েজী সাহেবকে। তিনি সময়োপোযোগী কথা বলেছেন।

খুবই গুরুত্বপুর্ণ বিষয় ইমাম নিয়োগ। এখানে যদি কোন অযোগ্য লোক এসে যায় তাহলে কিন্তু সর্বনাশ। দেশব্যাপি মসজিদ করে সরকার যেভাবে প্রশংসা কুড়াচ্ছে, এখন কোথাও যদি ইমাম অযোগ্য এবং বেআমল নিয়োগ হয়, তাহলে কিন্তু সরকারের এমন মহৎ কাজের মূল্য থাকবে না।

ইমাম নিয়োগের ক্ষেত্রে দেশের শীর্ষ আলেমদের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। যেহেতু আলেমগণই এব্যাপারে বেশী জানেন-বোঝেন। তাই আলেমদের পরামর্শ, আলেমদের সহযোগিতা সবার আগে নেওয়া চাই। ইমাম নিয়োগের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ের প্রতি বেশী নজর দেওয়া যেতে পারে-

ক. ইলমুল কেরাতে পারদর্শি হওয়া। সহীহ শুদ্ধ ভাবে যেন কোরআন পড়তে পারে। পড়াটা যেন শ্রুতিমধুর হয়। যে রকম সুন্দর মসজিদ, ঠিক ইমামের তেলাওয়াত ঐরকম সুন্দর হওয়া জরুরী। যেমন সৌদি আরবে দেখি, মসজিদগুলো যেমন সুন্দর ঠিক ইমামের তেলাওয়াত তেমন সুন্দর।

খ. ইমাম সাহেব যেন সহীহ আকিদা বিশ্বাসের হয়। কোন বাতিল ফেরকার অনুসারী যেন না হয়। ইমামের আকিদা সহীহ না হলে বড় মুশকিল হয়ে দাঁড়াবে। কেননা, ভ্রান্ত- চিন্তা- চেতনার লোক হলে সেখানকার পরিবেশের মানুষেরা সেই ভ্রান্ত আকিদায় বিশ্বাসী হয়ে যাবে। মানে ইমাম যে মতের হয়, সাধারণত মুসল্লি সে মতের হয়।

গ. ইমাম সাহেব অবশ্যই পরহেজগার হওয়া জরুরী। একজন ইমামের যদি আল্লাহর ভয় না থাকে, তাকওয়া পরহেজগারী না থাকে, তাহলে তার দ্বারা মুসল্লি কোন ফায়দা হাসিল করতে পারে না।

ঘ. আমল-আখলাক দুরুস্ত হওয়া। সুন্নাতের পাবন্দী হওয়া। বাহ্যিক লেবাস-পোষাক ঠিক হওয়া জরুরী। এরকম আরো কিছু বিষয় আছে, যেগুলো একজন ইমাম সাহেবের থাকা প্রয়োজন। এ বিষয়গুলো অবশ্যই কর্তৃপক্ষের খেয়াল রাখা চাই।

মডেল মসজিদগুলো যেরকম সৌন্দর্যমন্ডিত হয়েছে, ইমাম সাহেবের এমন হওয়া দরকার। বিশেষ করে কোরআন তেলাওয়াত টা হৃদয়কাড়া হওয়া জরুরী। যাতে ঐ মসজিদের প্রতি মানুষের বিশেষ আকর্ষণ থাকে। তবে সতর্ক হতে হবে, ইমামের কোরআন তেলাওয়াত যেন অশুদ্ধ না হয়। ইমাম সাহেব যেন বেআমল না হয়। সে যেন সুন্নাতের খেলাফ না চলে।

বহু জায়গাতে দেখা যায় লবিং করে অযোগ্য লোক ইমামের পদে চলে আসে। আবার ইমাম হয়ে সুন্নাতের খেলাফ চলে, যেমন ইমাম সাহেব দাঁড়ি ছাঁটে, এরকম ইমাম- খতীব নিয়োগ হলে সাধারণ মানুষের কাছে আস্থা হারিয়ে ফেলবে।

আমাদের দেশের মুসল্লিগণ খুব সতর্ক। নিজে সুন্নাতের পাবন্দী না হলেও ইমাম সাহেব সুন্নাতের খেলাফ চললে খুবই বিরক্তবোধ করে। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চৌকান্না থাকতে হবে। বিশেষ করে ইমাম-খতীবের পোষ্টে যেন কোন বেআমল লোক নিয়োগ না হতে পারে সে ব্যাপারে দৃষ্টি রাখবেন বলে আশা করি। আল্লাহ আমাদের উপর রহম করুন। আমিন।

লেখক: শিক্ষক ও কলামিষ্ট

আরও পড়ুন: মডেল মসজিদে কওমী শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেয়া হোক

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com