মহররম সম্মানীয় মাস শোকের নয়

মহররম সম্মানীয় মাস শোকের নয়

মহররম সম্মানীয় মাস শোকের নয়

মাওলানা আমিনুল ইসলাম : “মহররম” মাস শুরু হয়েছে। আরবী বার মাসের প্রথম মাস হলো ” মহররম”। এই মহররম মাসকে অনেকে শোকের মাস বলে থাকেন। মহররমের ১ তারিখ থেকে অনেকে কালো ব্যাজ ধারণ করে আছেন। অনেকে বাড়িতে কালো পতাকা টাঙিয়েছেন।

কিন্তু কোরআন হাদিসের দিকে তাকালে মহররম শোকের মাস , এরকম কিছু উল্লেখ নেই। বরং কোরআনের ভাষা অনুযায়ী মহররম মাস অনেক সন্মানিত।

পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, নিশ্চয় আকাশ সমুহ ও পৃ্থিবীর সৃষ্টির দিন থেকে আল্লাহর কিতাবে মাস গণনায় বারটি। এর মধ্যে চারটি মাস হচ্ছে সন্মানিত। (সুরা তাওবা : আয়াত ৩৬)

যে চারটি মাস অনেক সন্মানিত। তা নিম্নরুপ, ১/ যিলকদ ২/ যিলহজ্জ ৩/ মহররম ৪/ রজব।

এই সন্মানিত মাসে আরবগণ যুদ্ধ- বিগ্রহে লিপ্ত হত না। তারা এসব সন্মানিত মাসের প্রতি শ্রদ্ধা বোধ জানাত।

কিন্তু পরিতাপের বিষয়, আমরা মহররম মাসকে শোকের মাস বলে হিসেব করে যাচ্ছি।

এখানে অনেকের ধারণা হলো, মহররম মাসের দশ তারিখে যেহেতু ইমাম হুসাইন (রাঃ) শাহাদাত বরণ করেছেন, তাই এ মাসটি শোকের।

এখানে একটা বোঝার ভুল আমাদের। কোরআন নাজিল হয়েছে কবে? আর ইমাম হুসাইন ( রাঃ) শাহাদাত বরণ করেছেন কবে?
কোরআন নাজিল তো হয়েছে, রাসুল ( সাঃ) এর জীবদ্দশায়। আর ইমাম হুসাইন ( রাঃ) এর শাহাদত হয়েছে, রাসুল( সাঃ) এর ইনতেকালের অনেক পরে ৬৩ হিজরীতে।

সুতরাং বোঝা গেল, কোরআনে অনেক পূর্বে থেকে মহররম মাসকে সন্মানিত মাস বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

এখন কথা হল, ৬৩ হিজরীতে যখন ইমাম হুসাইন শহীদ হয়েছেন, সে থেকে কি এটা শোকের মাস হয়ে যাবে?

এর উত্তরে বলা যেতে পারে, ইসলামে শোকের সীমা রেখা তিন দিন। এর বেশী শোক পালন শরীয়ত সম্মত নয়। সুতরাং এই চৌদ্দশত বছর পর মহররম মাসকে শোকের মাস বলা সমীচীন নয়।

তবে একথা বলা যেতে পারে, এই সন্মানিত মাসে বা আশুরার মত ফজীলতপূর্ণ দিনে ইমাম হুসাইন (রাঃ) এর শহীদ হওয়াটা তাঁর শাহাদতের মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে।

আমরা না বুঝে অনেক কিছু করে ফেলি, এবং সেটাকে ইবাদত মনে করি, এটা কিন্তু ঠিক নয়। ইবাদত করতে হবে তো কুরআন হাদীস অনুযায়ী। শরয়ী দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী। যেখানে শরয়ী সমর্থন নেই, সেখানে ইবাদত হয় কিভাবে?

মহররমকে কেন্দ্র করে দেশের কিছু কিছু জায়গায় মনগড়া কাজ- কারবার চলছে। ভিত্তিহীন এবং গর্হিত কাজে কিছু মানুষ সময় ব্যয় করে যাচ্ছে।অথচ যে গুলো শরীয়াতের মুল বিষয়, সে গুলোর ধারে কাছে তারা নেই।

অহেতুক কাজে অর্থ, সময়, খরচ হচ্ছে, কিন্তু তাতে বিন্দু মাত্র ছওয়াব নেই। বরং গোনাহের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তাই ঐ সকল নিন্দনীয় কাজ ত্যাগ করা চাই।

আল্লাহ আমাদের সহী বুঝ দান করুন। আমিন।

লেখক : শিক্ষক ও সমাজ বিশ্লেষক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *