২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৬ই জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

‘মাওলানা কাসেমী নেই বলেই সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছে’

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ‘জমিয়তের যিনি মহাসচিব ছিলেন, মাওলানা কাসেমী সাহেব, অত্যন্ত শ্রদ্ধার মানুষ। আমি ব্যক্তিগতভাবেই শ্রদ্ধা করতাম। সত্যিকার অর্থেই গণতান্ত্রিক বলতে যা বুঝায়, তা তিনি ছিলেন এবং বড় আলেম, ইসলামী চিন্তাবিদ ছিলেন। উনি মারা যাওয়াতেই এই সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছে। এটার ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই।’

আজ রবিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন। গতকাল শনিবার (১৭ জুলাই) অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো জানাতে আজ (১৮ জুলাই) তিনি সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে সাংবাদিকরা জমিয়তের জোটত্যাগের বিষয়টি উত্থাপন করার পর মির্জা ফখরুল বিস্তারিত কথা বলেন।

গত ১৪ জুলাই বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ত্যাগের কারণ হিসেবে জমিয়তের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া অভিযোগ করে সাংবাদিকদের জানান, আলেমদের গ্রেফতারের প্রতিবাদ না করা, জমিয়তের প্রয়াত মহাসচিব নূর হোসেন কাসেমীর মৃত্যুতে বিএনপির পক্ষ থেকে সমবেদনা না জানানো এবং তার জানাজায় শরিক না হওয়া প্রভৃতি কারণে তারা জোট থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, সেদিনই (১৪ জুলাই) আমাকে এক সাংবাদিক ফোন করেছিলেন। আমি বলেছিলাম, এটা তো হচ্ছে রাজনীতি। রাজনীতি ভাঙাগড়ার খেলা। কখনো একুল ভাঙে, ওকূল গড়ে- এরকম চলে। মূল বিষয়টা সেটা না। বিষয়টা হচ্ছে, তারা চলে যাবেন, সরকারের চাপে, মামলা মোকাদ্দমা, প্রচণ্ডরকমের চাপ, তারওপর অনেকের চাকরি চলে যাবে। বেশিরভাগই তারা মাদ্রাসায় চাকরি করেন। তারা তো যেতেই পারেন। তারা রাজনীতিতে টিকতে পারছেন না, যেতেই পারেন। কিন্তু যাওয়ার সময় সত্য কথাগুলো বলে যাওয়াই ভালো। অযথা অন্যদের দোষারোপ করে তারা একটা নজির সৃষ্টি করতে চান, এটা ঠিক না।’ বিএনপির সঙ্গে জমিয়ত একাংশের কখনওই কোনও সমস্যা হয়নি বলেও দাবি করেন বিএনপির মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, ২০ দলীয় জোটের যে ঘোষণাপত্র তখন (গঠনের সময়, ২০১২ সালে) ছিল- তাতে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের জোট এবং ওই আন্দোলনের পরই নির্বাচনে যাওয়ার কথা ছিল। সেখানে কিন্তু শরিক যে কোনও দল তার নিজস্ব রাজনীতি করবে, নিজেদের কথা বলবে, সেখানে আরেকটি রাজনৈতিক দলের মত চাপানোর কোনও ব্যাপার নেই। প্রশ্নও উঠতে পারে না। সেখানে তারা যে কথাগুলো বলেছেন, একটাও সত্য নয়, একেবারেই সত্য নয়।

মাওলানা কাসেমীর মৃত্যুর সময় নিজে অসুস্থ ছিলেন উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনারা জানেন, সেসময় আমি বিদেশে চিকিৎসা নিতে চলে যাই। কিন্তু তিনি মারা যাওয়ার সঙ্গে-সঙ্গেই আমি স্টেটমেন্টস দিয়েছি, শোকবাণী দিয়েছি। পরবর্তীকালে ২৬ মার্চকে কেন্দ্র করে যতগুলো সমস্যা হয়েছে, নরেন্দ্র মোদির সফরকে কেন্দ্র করে, মামলা-মোকদ্দমা, হামলা, হয়রানি হয়েছে, সব সময়ই আমি বিবৃতি দিয়েছি। প্রেস কনফারেন্সে আমি কথা বলেছি। এগুলোর ওপর স্পেশাল প্রেস কনফারেন্স করেছি।

ফখরুল বলেন, ‘আমরা…আমিই সবচেয়ে আগে বিবৃতি দিয়েছি আলেম-ওলামার বিষয়ে। এটা তারা কীভাবে বললেন, কেন বললেন, আমি জানি না (হেসে)। তারা সত্য কথা বলেননি। মানুষ আশা করে আলেম-ওলামারা সত্য কথা বলবেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে মানুষের সেই আস্থা এখন থাকবে কিনা, আমি জানি না। সত্য কথা না বললে থাকার কথা নয়।’

জমিয়তের শরিয়া প্রসঙ্গে অভিযোগ নিয়ে বিএনপির মহাসচিব ব্যাখ্যা করেন, ‘আর শরিয়া আইনের ব্যাপারটা তো আমাদের দলের কোথাও নাই। শরিয়া আইন করতে চাইলে ওনারা করুক। আমাদের দলে বলা আছে, পরিষ্কারভাবে- যে আমরা শরীয়াবিরোধী কোনও আইন পাস করবো না। আমাদের সরকার যখন ছিল, আমরা তো করিনি। ফলে, আমরা শরিয়া আইনের বিরোধী, এসব বলা মানেই ব্যক্তিগত আক্রমণ করা।’

‘আমি মনে করি, ওনারা ভালো কাজ করেননি। এই সমস্ত ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে তারা দূরে সরে আসবেন। রাজনীতিতে তারা টিকতে পারছেন না, বিরোধী রাজনীতিতে উনারা টিকতে পারছেন না, সে কারণে উনারা চলে গেছেন। সে কথা বলে দিলেই হয়, যে সরকারের প্রচন্ড চাপে আমরা টিকতে পারছি না’ যোগ করেন ফখরুল।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলীয় ঘোষণাপত্র অনুযায়ী রাজনীতি করছি। ২০ দলীয় জোটও সেভাবেই রাজনীতি করছে। পারস্পরিক আস্থা আমাদের চমৎকার আছে।’

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com