মাননীয় মুরুব্বীগণ, দয়া করে বিবেচনা করুন

মাননীয় মুরুব্বীগণ, দয়া করে বিবেচনা করুন

মাননীয় মুরুব্বীগণ, দেশ ও জাতির অবস্থা বিবেচনা করুন

মাওলানা আমিনুল ইসলাম : মুরুব্বী মানা অভ্যাস আমাদের। কওমী মাদ্রাসাগুলোতে মুরুব্বী আলেম, উস্তাদ এবং বড়দের মেনে চলার ব্যাপারে ছাত্রদের তালিম দেওয়া হয়। কখনো আমরা মুরুব্বীদের কথার বাইরে যাইনি। ভবিষ্যতেও যাওয়ার ইচ্ছা নেই। কওমী মাদ্রাসার এই মুরুব্বী মানা তালিমের কারণে কিন্তু কোনদিন কোন ছাত্র বা কোন আলেম মুরুব্বীদের উপরে কথা বলে না। তাইতো কওমী মাদ্রাসার ফারেগীন সবচেয়ে আদব- আখলাকী। এই সব ইদারার ছাত্রগণ সবচেয়ে বেশী নম্র-ভদ্র।

বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি কি রকম আমাদের জানা আছে। অধিকাংশ জায়গাতে সব কিছু বন্ধ হয়ে গেছে। পুরো বিশ্বটা যেন স্থবির হয়ে পড়েছে। মানুষের গতি এখন একদম স্লথ। আমাদের বাংলাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জনসভা, সমাবেশ, সেমিনার, গণ জমায়েত, ওয়াজ মাহফিলের উপর নিষেধাজ্ঞা চলে এসেছে। বহু জায়গাতে দ্বীনী মাহফিল ক্যান্সেল।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় জমায়েত যেখানে হয়, মক্কা- মদিনা, সেখানখার ভিসা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এমনকি হারাম শরীফে এবং মসজিদে নববীতে যাতায়াত স্থানীয়দের জন্যে ও সীমিত আকারে করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন স্কলারগণ মসজিদে এবং জুমায়ার নামাজে অল্প সময় ব্যয় করতে বলেছেন।

মানে পুরো বিশ্বটা একটা নিয়ন্ত্রিত জীবনের মধ্যে চলে আসছে। এখন আর কেউ নিজেদের ইচ্ছাধীন কিছু করতে পারছেন না।

তবে আমরা বাংলাদেশের কওমী মাদ্রাসা বোর্ড, বেফাক এবং সর্বোচ্চ বোর্ড হাইয়াতুল উলইয়া যেন এখনো আগের মত।
কোন কিছুর ছোঁয়া লাগেনি। সেই আগের পজিশনে কাটাচ্ছি। কিন্তু এভাবে কতদিন। এ সিদ্ধান্ত কি যথাযথ? ছাত্রদের মাদ্রাসার কোয়ারেন্টাইনে রেখে পুরো মাদ্রাসা ঠিক আগের মত চালালাম।

মাদ্রাসায় সকল ছাত্রকে আগের অবস্থানে রেখে শুধু বললাম ক্লাস বন্ধ। আবার পরীক্ষার সময়টা নির্ধারিত তারিখে রেখে মুখে মুখে বলে দিচ্ছি মাদ্রাসার সকল কার্যক্রম বন্ধ। মুরুব্বীদের কি পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া উচিত ছিলনা। ২৮ তারিখে যে বেফাকের পরীক্ষা বহাল রাখা হয়েছে, এ পরীক্ষা নেওয়া কিভাবে সম্ভব?

পরীক্ষা কেন্দ্র তো সারা বাংলাদেশে। কোন কোন জায়গায় আছে একদম প্রশাসনের নাকের ডগায়। মার্চের ২৮ তারিখে যখন পরীক্ষা শুরু হবে, তখন আমাদের শিক্ষকগণ কি যথাযথ পরীক্ষা নিতে পারবেন? পরীক্ষা নিতে গেলে তো আমাদের ছাত্র শিক্ষকদের আনাগোনা হবে। ঘণ্টা পিটাতে হবে। তখন কিভাবে এগুলো করবেন? প্রশাসনের সামনে এভাবে ঘন্টা পেটায়ে কিভাবে পরীক্ষা নেওয়া হবে?

আমার মনে হয়, এখন পরীক্ষা শুরু হয়নি বলে কোন সমস্যা আমরা ফেস করছি না। তবে জায়গায় জায়গায় কিছু সমস্যা যে নেই, তা নয়। কিন্তু পরীক্ষা শুরু হলে নানাবিধ সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে সাংবাদিক ভায়েরা যখন সংবাদের কভারেজ করবেন, তখন তো তারা এটাই লিখবে, নিষিদ্ধ সময়ে কওমী মাদ্রাসায় পরীক্ষা চলছে।

এজন্য ভাববার বিষয় বেফাক এবং হাইয়াতুল উলয়ার মুরুব্বীদের। পরিস্থিতি নজর করে পুনরায় পরামর্শে বসা যেতে পারে। দেশ ও আন্তর্জাতিক অবস্থা লক্ষ্য করে সিদ্ধান্ত নিলে ভাল হয়। তাই মুরুব্বীদের উপরে কথা বলার শক্তি আমার নেই। শুধু আপনাদের দিকে চেয়ে আছি।

লেখক : শিক্ষক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *