২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৮ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি 

মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি 

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার নতুন করে আবার ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করেছে। সোমবার জারি করা এই নির্দেশনা গতকাল বুধবার থেকেই বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। প্রথম দিন রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে শারীরিক দূরত্ব, মুখে মাস্ক পরে বের হওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাগুলো মানার ক্ষেত্রে সর্বত্রই অবহেলা দেখা গেছে।

গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের নির্দেশনা দিয়ে ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে দুই সপ্তাহের জন্য। গতকাল রাজধানীসহ দেশের নানা জায়গায় এই নির্দেশনা লঙ্ঘন হতে দেখা গেছে। ভাড়া দ্বিগুণ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে অতিরিক্ত যাত্রীও নিয়েছে গণপরিবহন। রাজধানীতে গণপরিবহন কম থাকায় যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ে। বেশি ভাড়া নিয়ে গেট বন্ধ করে চলতে দেখা গেছে অনেক রুটের বাসকে। একইভাবে দূরপাল্লার যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়ে।

স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসনের তরফ থেকে প্রচার চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানাও করা হচ্ছে।

করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা সামলাতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি অফিসগুলো অর্ধেক জনবল নিয়ে কাজ শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাইড শেয়ারিং সেবা আগামী দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও শেরপুরে পর্যটন একই সময়ের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন, যা আজ থেকে কার্যকর হবে।

রাজধানীর সড়কে অসন্তোষ : গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের নির্দেশনার কারণে গতকাল বিপাকে পড়তে হয়েছে যাত্রী ও বাস মালিকদের। রাজধানীর মহাখালী, সায়েদাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে, অনেক যাত্রীকে বাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। অগ্রিম টিকিট নেওয়া যাত্রীদের সামাল দিতে বেগ পেতে হয়েছে বাস পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লোকদের।

ঢাকা মহানগরে চলাচলকারী পরিবহনগুলোর বেশ কয়েকটি পরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করার ঘটনা পাওয়া গেছে। বেশির ভাগ পরিবহনেই যাত্রীদের আচরণ ছিল অসহিষ্ণু, বাস কর্তৃপক্ষের দেওয়া স্যানিটাইজার ও মাস্ক ব্যবহারে আপত্তি জানিয়েছে যাত্রীরা।

মিরপুরের কালশী এলাকায় প্রজাপতি পরিবহনের একটি বাসে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক আসন খালি থাকলেও দুই কিশোর একটি আসনে পাশাপাশি বসে গল্প করছে। একজনের মাস্ক থুঁতনিতে নামানো, আরেকজনেরটা হাতে। তারা নির্দেশনা না মেনে কেন পাশাপাশি বসল জানতে চাইলে তাদের আগেই বাসের সহকারী জবাব দেন, ‘ভাই উনাদের অনেক অনুরোধ করেছি খালি আসনে গিয়ে বসতে। তারা ধমক দিয়ে বলে করোনা হলে আমাদের হবে, তোমার কি?’

সকাল ১১টার দিকে কল্যাণপুর বাস স্টপেজে দেখা যায়, বেশ কিছু যাত্রী বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। এক ঘণ্টা ধরে বাস পাচ্ছে না বলে জানায় তারা। আয়েশা হুমায়রা নামের একজন যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি স্বল্প বেতনে চাকরি করি। এত বেশি ভাড়া দিয়ে প্রতিদিন অফিসে কী করে যাব?’

মিরপুর থেকে মাওয়াগামী স্বাধীন পরিবহনের যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘৬০ শতাংশ বেশি নয়, বাসের লোকেরা ভাড়া নিচ্ছে দ্বিগুণ। ৪০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৮০ টাকা।’

দুপুর আড়াইটার দিকে কাকরাইল মোড় থেকে বসুন্ধরা এলাকায় যাওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন বাসযাত্রী ওমর ফারুক। কিন্তু তিনি কোনো বাসেই উঠতে পারছিলেন না। একের পর এক বাস এলেও সেগুলোর গেট বন্ধ দেখতে পান। তাঁর মতো আরো অর্ধশতাধিক যাত্রী বাসের জন্য অপেক্ষা করছিল। বিকেল ৪টার দিকে ভিক্টর ক্লাসিক পরিবহনের একটি বাস যানজটে আটকে গেলে তিনি গিয়ে ওঠার সুযোগ পান। প্রতি আসনেই যাত্রী ছিল ওই বাসে। এর পরও তাঁকে পেছনের আসনে গিয়ে বসতে বলেন ওই বাসের কর্মী। তিনি পেছনের আসনে বসতে গেলে সেখানে বসে থাকা এক যাত্রী প্রতিবাদ করেন। পরে অন্য দুই যাত্রীর সহায়তায় তিনি বসার সুযোগ পান। ভাড়া নিতে এসে বাসকর্মী ৪০ টাকা চান। কিন্তু নিয়মিত ভাড়া ২০ টাকা। ৬০ শতাংশ বেশি হলে ভাড়া হয় ৩২ টাকা। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটিও হয়। শেষ পর্যন্ত তিনি ৩৫ টাকা দেন।

গাবতলী থেকে ফরিদপুরগামী গোন্ডেন লাইন পরিবহনের বাসে অনেক যাত্রীরই অগ্রিম টিকিট নেওয়া ছিল। অর্ধেক যাত্রী বহনের নির্দেশনা মেনে তাদের পরবর্তী সময়ে ছেড়ে যাওয়া অন্য বাসে ভাগ ভাগ করে তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে যাত্রীদের কাছ থেকে ৬০ শতাংশ বেশি ভাড়া নেওয়া হয়েছে।

মহাখালী থেকে নেত্রকোনাগামী বিরিশিরি সার্ভিসের বাসযাত্রী আলম হোসেন বলেন, বাসের লোকেরা জানিয়েছেন যে দুই আসনে এক যাত্রী নেওয়া হবে, সে জন্য বাস পেতে দেরি হবে।

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালেও দেখা যায় অনেক যাত্রী বাসের জন্য অপক্ষো করছে। তবে যেসব যাত্রী দল বেঁধে অপেক্ষা করছে তাদের বেশির ভাগেরই মুখে মাস্ক নেই। মাস্কবিহীন অনেক যাত্রী দেখা গেছে বাসেও।

রেল : পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ১১ এপ্রিলের পরের সব আন্তনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি বন্ধ রেখেছে রেলওয়ে। রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) সরদার শাহাদাত আলী বলেন, আন্তনগর ট্রেন ছাড়া অন্য সব কয়টিতে অর্ধেক আসনে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। এখানে অগ্রিম টিকিটের বিষয়টি না থাকায় সমস্যা হচ্ছে না।

তবে গতকাল লোকাল মেইল ট্রেনের চিত্র ছিল ভয়ংকর। বিকেল সাড়ে ৩টায় কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনটিতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। এই ট্রেনের টিকিট বুকিং ক্লার্ক জিল্লু বলেন, ‘এগুলোতে কোনো আসন নম্বর নাই। তাই অর্ধেক টিকিট বিক্রির কোনো সুযোগ নাই। আর এখান থেকেও যদি কম তোলা হয়, গেণ্ডারিয়া যাওয়ার পর সেটা এমনেই ভরে যাবে, ওখানে তো ঠেকানোর কোনো ব্যবস্থা নাই।’

নৌপরিবহন : স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের শর্তে যাত্রীপ্রতি ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ)। গতকাল সচিবালয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে এক সভার পর বিআইডাব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক স্বাক্ষরিত ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাবের চিঠি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা আদালতের চিত্র : ঢাকার নিম্ন আদালত ঘুরে দেখা যায়, আইনজীবীরা মাস্ক পরলেও বিচারপ্রার্থী অনেকে মাস্ক ছাড়াই আদালত প্রাঙ্গণে এসেছেন। ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার হযরত আলী কালের কণ্ঠ বলেন, ‘করোনার সচেতনতার জন্য আমরা নোটিশ দিয়েছি, আদালত প্রাঙ্গণে মাইকিং করা হচ্ছে।’

সরকারি কার্যালয়ে অর্ধেক জনবল : করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা সামলাতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি কার্যালয়গুলোতে অর্ধেক জনবল নিয়ে কাজ শুরুর প্রস্তুতি চলছে। অবশ্য গতকাল সচিবালয়ের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ঘুরে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আগের মতো কর্মচারীদের উপস্থিতি দেখা গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহ থেকে সরকারি কার্যালয়ে অর্ধেক জনবল নিয়ে কাজ শুরুর বিষয়টি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নিজেদের কর্মচারীদের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। গত সোমবার জারি করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক, প্রকল্প পরিচালক, পরিচালক, উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালকগণ যথানিয়মে অফিসে উপস্থিত থাকবেন। সংশ্লিষ্ট উইং প্রধানগণ আলোচনা করে স্ব-স্ব উইংয়ের সাপোর্ট স্টাফের দৈনিক উপস্থিতির সংখ্যা নির্ধারণ করবেন। তবে সেই উপস্থিতির সংখ্যা ৫০ শতাংশের বেশি হবে না।’

গতকাল জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘কেউ হয়তো আজই (বুধবার) পুরোপুরি অর্ধেক জনবল নিয়ে কাজ করতে পারেননি। আশা করি দু-এক দিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে। তবে যেসব অফিস জরুরি কাজের সঙ্গে যুক্ত তাদের বিষয়টি প্রয়োজন অনুযায়ী ঠিক করবে।’

জেলা-উপজেলার গণপরিবহন ও অন্যান্য চিত্র : রাজধানীর মতো সারা দেশেই গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা উপেক্ষিত হয়েছে। চট্টগ্রামে অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের নির্দেশনা যেমন মানা হচ্ছে না তেমনি ভাড়ার ক্ষেত্রেও ৬০ শতাংশে বেশি নেওয়া হচ্ছে। যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক ও কাউন্টার কর্মীর বেশির ভাগের মুখেই মাস্ক দেখা যায়নি।

আমাদের আঞ্চলিক প্রতিনিধি (ময়মনসিংহ) নান্দাইল ও ঈশ্বরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখেছেন, ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের এমকে সুপার, শ্যামল ছায়া ছাড়াও বিভিন্ন গণপরিবহনে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হচ্ছে। যাত্রীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে উদাসীন। দুই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা বলেছেন, নিয়ম মানতে বাধ্য করতে কাজ করছেন তাঁরা।

ফরিদপুরে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক পৌর এলাকার বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখেছেন, কয়েকটি যাত্রীবাহী বাসে সরকারি নির্দেশনা মানতে দেখা গেলও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মানা হয়নি। জেলার মধুখালী থেকে ফরিদপুরগামী যাত্রী আহমেদ শরীফ জানান, বাস শ্রমিকরা ভাড়া বেশি নিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু যাত্রী কম নিচ্ছে না। প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রয়োজনে সড়ক ও মহাসড়কে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

জামালপুর প্রতিনিধি জানান, জামালপুর থেকে বাসে ঢাকার ভাড়া ছিল ৩২৮ টাকা। ৩০০ টাকাতেও যাত্রী নেওয়া হতো। কিন্তু অর্ধেক যাত্রী বহনের শর্তে বাসভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর ফলে এখন গুনতে হচ্ছে ৫৪৬ টাকা করে। এ নিয়ে পরিবহন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যাত্রীদের দর-কষাকষি করতে দেখা গেছে। বাস টার্মিনালে আগে পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে হাত ধোয়া ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা থাকলেও এবার দেখা যায়নি।

বিয়ানীবাজার (সিলেট) প্রতিনিধি জানান, সিলেট-বিয়ানীবাজার-বারইগ্রাম সড়ক এবং উপজেলার অন্যান্য সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনগুলোতে অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে মাইকিং করা হচ্ছে। এতে কাজ না হলে প্রশাসন মাঠে নামবে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, বাস কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের শারীরিক দূরত্ব মানার বালাই নেই। বেশির ভাগের মুখেই মাস্ক নেই। পলাশবাড়ীর ইসলাম গণি বলেন, ‘দেখেন ভাই চারপাশের অবস্থা।’ রংপুরের যাত্রী শিক্ষার্থী সোহেল রানা বলেন, গাইবান্ধা-রংপুর রুটে ৯০ টাকার ভাড়া ১৬০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।

চাঁদপুর প্রতিনিধি জানান, লঞ্চ টার্মিনালে বন্দর কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ) কঠোর অবস্থানে থাকলেও যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো সেই আগের মতোই চলাচল করতে দেখা গেছে। বেশির ভাগ যাত্রীর মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। তা ছাড়া কেউ-ই শারীরিক দূরত্ব মেনে চলেনি। শহরের বিপণিবিতান এবং সড়কে লোকজনকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে।

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, শহরের কোর্ট স্টেশন এলাকার চাষি বাজারে আব্দুল হাই নামের এক কৃষক সবজি বিক্রি করছিলেন। তিনি বলেন, কোনো বিধি-নিষেধের কথা তাঁর জানা নেই। আদালত চলাকালেই অসুস্থ হয়ে এজলাস থেকে নেমে যান সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আমজাদ হোসেন। পরে জানা যায়, তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আদালতে আসা বানিয়াচংয়ের মাতাপুরের সর্দার এস এম হাফিজুর রহমান বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছাড়া আদালতে শুনানি না করলে লোকজনের উপস্থিতি আরো কম হতো। গণপরিবহনেও ছিল একই অবস্থা।

ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, শহরে কিংবা গ্রামে সবখানেই মাস্ক ছাড়াই ঘর থেকে বের হচ্ছে মানুষ। বাজারেও গাদাগাদি করে চলছে বেচাকেনা। ছোট যানবাহনে একাধিক যাত্রী একসঙ্গে বসে যাতায়াত করছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জনসাধারণের মাঝে মাস্ক বিতরণ করা হচ্ছে। এর পরও স্বাস্থ্যবিধি না মানলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অভিযান, জরিমানা : স্বাস্থ্যবিধি মানতে কোনো কোনো জায়গায় কঠোর ছিল প্রশাসন। বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার খবর পাওয়া গেছে। অন্তত ৩৪ জনকে জরিমানা করা হয়েছে। ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, নলছিটি উপজেলায় তিনজনকে ৩০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি জানান, মাস্ক বিতরণের পাশাপাশি মাস্ক না পরায় কয়েকজনকে জরিমানা করা হয়েছে। ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, ১১ জনকে এক হাজার ৪৫০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, ২৩ পথচারীকে ৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রিকশা ও অটোরিকশাচালকদের মাঝে ২০০ মাস্ক বিতরণ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

পর্যটন বন্ধ দুই সপ্তাহ : তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে পর্যটন বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। রাঙামাটি প্রতিনিধি জানান, সাজেকসহ জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করে আরো বেশ কিছু নির্দেশনা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। গতকাল জেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অন্য নির্দেশনার মধ্যে আছে রাত ৮টায় সব দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বিপণিবিতান বন্ধ, হোটেল-মোটেলে অর্ধেক টেবিল-চেয়ার তুলে রেখে ভোক্তাদের সেবা দেওয়া ও আবাসিক হোটেল বন্ধ।

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান জানান, জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র আগামী দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখার পাশাপাশি বাতিল করা হয়েছে পাহাড়িদের বর্ষবরণ উৎসবের সব আয়োজন।

শেরপুর প্রতিনিধি জানান, ঝিনাইগাতীর গজনী অবকাশ, নালিতাবাড়ীর মধুটিলা ইকো পার্ক, পানিহাতা, সদরের ডিসি উদ্যান, অর্কিড, শ্রীবরদীর রাজার পাহাড়সহ জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকবে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত। এ বিষয়ে গতকাল গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে জেলা প্রশাসন।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com