২রা মার্চ, ২০২১ ইং , ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৭ই রজব, ১৪৪২ হিজরী

মার্চ-এপ্রিলে খুলবে স্কুল

মার্চ-এপ্রিলে খুলবে স্কুল

শিশুদের হতাশায় ফেলবেন না

পাথেয় টোয়েন্টিফের ডটকম :  বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের কারণে গত বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। বিশেষ এই পরিস্থিতির কারণেই বিশেষভাবে এই পরীক্ষার পরীক্ষার্থীদের ফল প্রস্তুত করা হয়েছে। সেই ফল প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে এভাবে ঘোষণা করা ফল নিয়ে কোনো ধরনের বিরূপ মন্তব্য না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ৩০ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা না হওয়া নিয়ে পরীক্ষার্থীদের এক ধরনের মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ অবস্থাতেও অনেকে এই পরীক্ষা ও ফল নিয়ে সমালোচনা করছেন। তাদের আরও সচেতন হওয়া উচিত। মহামারির কারণে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু তাদের পড়াশোনার মধ্যে রাখতে হবে, যেন তারা হতাশ হয়ে না পড়ে। আপনারা শিশুদের হতাশায় ফেলবেন না।

জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুতগতিতে করোনা ভ্যাকসিন ক্রয় করে দেশে আনার প্রসঙ্গে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ভ্যাকসিন নিয়ে যখন থেকে গবেষণা শুরু হয়েছে, তখন থেকেই কিন্তু আগাম টাকা-পয়সা দিয়ে আমরা বুকড করে রেখেছিলাম। যখনি এটি আবিষ্কার হবে এবং যখনি ডব্লিউএইচও ব্যবহার করার অনুমোদন দেবে সঙ্গে সঙ্গে যেন ক্রয় করতে পারি, আনতে পারি এবং দিতে পারি।

প্রধানমন্ত্রী তার সামনে টেবিলে থাকা ডিজিটাল বাটন চেপে ফলাফল ঘোষণ কার্যক্রম ঘোষণা করেন। এর আগে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির হাতে ২০২০ সালের এসএইচসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল তুলে দেন স্ব স্ব শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানরা। ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে গণভবন প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, শিক্ষা সচিব মো. মাহবুব হোসেন ছাড়াও বিভিন্ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ভ্যাকসিন প্রদান করার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাভাইরাস এটিকে মোকাবেলা করার জন্য যত পদ্ধতি আছে, আমরা সব প্রয়োগ করে যাচ্ছি। স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলতে সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি।’ ‘এরইমধ্যে ভ্যাকসিন যেহেতু বের হয়েছে। যখন থেকে শুরু হয়েছে গবেষণা, আমি তখন থেকেই কিন্তু আগাম টাকা পয়সা দিয়ে আমরা বুকড করে রেখেছিলাম। যখনি এটি আবিষ্কার হবে এবং যখনি ডব্লিউএইচও এটি ব্যবহার করার অনুমোদন দেবে, সঙ্গে সঙ্গে আমরা যেন ক্রয় করতে পারি, আনতে পারি এবং দিতে পারি-’ বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা জানেন যে, আমরা করোনার ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করেছি। আমাদের যারা শিক্ষক বা শিক্ষা সংশ্লিষ্ট যে সব কর্মচারী-কর্মকর্তা আছেন তাদের যেন এই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।’

মার্চ-এপ্রিলে খুলবে স্কুল-কলেজ ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রীর : ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কওমি মাদরাসা ছাড়া সারাদেশের স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা আছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতিও চলছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইঙ্গিত দিয়েছেন, মার্চের আগে সম্ভবত দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলছে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী (ফেব্রুয়ারি) মাসটা আমরা করোনা পরিস্থিতি দেখব। তারপর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। আগে শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার জন্য করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে হবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com