মালয়েশিয়ায় বিপন্ন শ্রমিক : পদে পদে গ্রেফতার আতঙ্ক

মালয়েশিয়ায় বিপন্ন শ্রমিক : পদে পদে গ্রেফতার আতঙ্ক

পাথেয় ডেস্ক :: মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের ধরপাকড় অব্যাহত রেখেছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন পুলিশ। সাঁড়াশি অভিযানের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশিসহ আরও দুই শতাধিক বিদেশি শ্রমিককে আটক করা হয়েছে। এক যোগে কুয়ালালামপুরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এসব শ্রমিককে আটক করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সূত্র জানায়, ১ জুলাই মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া অভিযানে এ পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার সাতশরও বেশি অবৈধ শ্রমিক আটক করা হয়েছে। আটকদের মধ্যে ৮ শতাধিক বাংলাদেশি রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে ১ জুলাই থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত ৭০৩ জন বাংলাদেশি আটক হয়েছেন বলে দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে। সাঁড়াশি অভিযানে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের চলছে দুর্দিন। বৃহস্পতিবার সরেজমিন দেখা গেছে, বাংলাদেশিদের দোকানপাট খোলা থাকলেও নেই কোন কাস্টমার। ভয়ে কেউ ঘর হতে বের না হওয়ায় এই অবস্থা হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। এদিকে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক মুস্তাফার আলী বলেছেন, ১৫ ফেব্রুয়ারি অবৈধ বিদেশিদের নিবন্ধন কাজ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত তারা ৪০টি ভুয়া ই-কার্ডের সন্ধান পেয়েছেন। তিনি বলেন, যেসব এজেন্ট ভুয়া ই-কার্ড ইস্যু করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আমরা এমন একজন বাংলাদেশিকে আটক করেছি। মাললেশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, অবৈধ কর্মীদের জন্য নতুন করে ‘ফ্রি প্লাস ওয়ান’ পদ্ধতিতে দেশে ফেরার সুযোগ দিয়েছে মালয়েশীয় সরকার। ফ্রি প্লাস ওয়ান পদ্ধতিতে যে কোনো অবৈধ বিদেশি শ্রমিক ৪০০ রিংগিত জরিমানা এবং কুয়ালালামপুর-ঢাকা বিমানের টিকিট নিয়ে পুত্রাজায়ার ইমিগ্রেশনে গেলেই দেশে ফেরার জন্য সুযোগ দেয়া হবে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

কাজের সাময়িক অনুপতিপত্র সংগ্রহ না করা ১০৩৫ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে মালয়েশিয়া। সে দেশের অভিবাসন দফতরের বরাত দিয়ে মালয়েশিয়ার দ্য স্টার পত্রিকার খবরে এ কথা জানানো হয়েছে। আটককৃত সহস্রাধিক অভিবাসীর মধ্যে ৫১৫ জনই বাংলাদেশি বলে জানিয়েছে তারা।

এরআগে, দেশটির ১৫৫টি এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই বিপুলসংখ্যক অভিবাসীকে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। আটকদের মধ্যে ৫১৫ জন বাংলাদেশি ছাড়াও, ১৩৫ জন ইন্দোনেশীয়, ১০২ জন ফিলিপিনো, ৫০ জন থাই ও দুজন ভিয়েতনামি নাগরিক রয়েছেন। আটকদের মধ্যে ১০১ জন নারী ও তিনটি শিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছে মালয়েশীয় অভিবাসন দফতর। অভিবাসন দফতরের মহাপরিচালক মুস্তাফার আলী জানিয়েছেন, নিয়ম ভেঙে অবৈধ অভিবাসীদের কাজে রাখায় ১৬ জন চাকরিদাতাকেও তারা আটক করেছেন। তাকে উদ্ধৃত করে মালয়েশীয় দৈনিক সান লিখেছে, আটকরা ই-কার্ডের জন্য আবেদন না করার বিভিন্ন রকম কারণ দেখিয়েছেন। কেউ কেউ বলেছেন, তারা আবেদনের সময়সীমা জানতেন না। আবার কেউ বলেছেন, ওই সময়সীমা বাড়ানো হবে বলে চাকরিদাতারা তাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন। ইমিগ্রেশন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২৬ হাজার ৯৫৭টি কোম্পানির মোট এক লাখ ৫৫ হাজার ৬৮০ জন কর্মী ই-কার্ডের আবেদন করেন। ১৫টি দেশের নাগরিক এই আবেদন করেছেন। এদের মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যা ৭১ হাজার ৯০৩; এর পরেই রয়েছে ইন্দোনেশিয়া (২৬ হাজার ৭৬৪) ও মিয়ানমারের (১১ হাজার ৮২৫) নাগরিকরা। এই ই-কার্ডের মেয়াদ আগামী বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। অর্থাৎ, যাদের কাছে বৈধ পাসপোর্ট বা কাজের অনুমতি নেই, ওই ই-কার্ড হাতে থাকলে তারা ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় থেকে কাজ করতে পারবেন। ওই সময়ের মধ্যে তাদের নিজ নিজ দূতাবাস থেকে পাসপোর্ট ও ট্র্যাভেল ডকুমেন্ট সংগ্রহ করে নতুন করে ওয়ার্ক পারমিট নিতে হবে। তা না হলে নির্ধারিত সময়ের পর তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে হুঁশিয়ার করেছে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ। সান ডেইলি লিখেছে, মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা ছয় লাখের বেশি। সেই হিসেবে অবৈধ শ্রমিকদের মাত্র ২৩ শতাংশ ই-কার্ড সংগ্রহ করেছে।

মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বৈধ কাগজপত্রহীন শ্রমিকদের বৈধভাবে পুনঃনিয়োগের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত চার মাস ধরে এনফোর্সমেন্ট কার্ডের (ই-কার্ড) আবেদন নেওয়া হয়, যার সময় শেষ হয় ৩০ জুন। কর্তৃপক্ষ বলছে, আটককৃতদের কাছে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের দেওয়া (ই-কার্ড) তথা সাময়িক অবস্থানের অনুমতিপত্র পাওয়া যায়নি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *