২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ইং , ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৩ই রজব, ১৪৪২ হিজরী

মিয়ানমারে এবার ইন্টারনেট সেবা বন্ধ

মিয়ানমারে এবার ইন্টারনেট সেবা বন্ধ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মিয়ানমারে এবার ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দিয়েছে জান্তা সরকার। বিবিসির খবরে বলা হয়, নেটব্লকস ইন্টারনেট অবজারভেটরির তথ্যমতে, প্রায় পুরো ইন্টারনেট সেবাই বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যান্য সময়ের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এর আগে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, টুইটার ও ইনস্টাগ্রাম।

সেনা অভ্যুত্থানের বিরোধিতা করে দেশটিতে শনিবার ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হয়েছে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে। প্রায় এক হাজার বিক্ষোভকারী ইয়াঙ্গুন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে রাস্তায় মিছিল করেছেন। বিক্ষোভকারীরা ‘সামরিক স্বৈরাচার নিপাত যাক, নিপাত যাক; গণতন্ত্রের জয় হোক, জয় হোক’ বলে স্লোগান দেন। তাঁরা মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি ও বন্দী নেতাদের মুক্তি দাবি করেন। তবে পুলিশ বিক্ষোভ দমাতে শিল্ড হাতে সিটি সেন্টারের প্রধান সড়কগুলো অবরোধ করে রেখেছে।

কারখানার শ্রমিক, শিক্ষার্থীরাসহ বিক্ষোভকারীরা সু চিসহ সামরিক সরকারের হাতে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দাবি করেন। তাঁরা ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় মিছিল নিয়ে বিক্ষোভ করেন। বাসগুলো হর্ন বাজিয়ে বিক্ষোভে সমর্থন প্রকাশ করে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের হাতে গোলাপ ও পানির বোতল তুলে দিয়ে নতুন শাসনব্যবস্থার প্রতি সমর্থন না দিয়ে বিক্ষোভে সমর্থন দেওয়া আহ্বান জানায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হ্যাশট্যাগউইনিডডেমোক্রেসি, হ্যাশট্যাগহিয়ারদ্য ভয়েস অবমিয়ানমার ও ফ্রিডম ফর ফিয়ার নামে আন্দোলন চলে। এসব বিক্ষোভ দমাতে মিয়ানমার সরকার গত বৃহস্পতিবার ফেসবুক বন্ধ করে দেয়। মিয়ানমারে ফেসবুক মানুষের খবর পাওয়ার প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করে। সেনা অভ্যুত্থান ও বিক্ষোভের নানা খবর ফেসবুকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফেসবুক বন্ধের পরে টুইটার ও ইনস্টাগ্রামে কয়েক হাজার ব্যবহারকারী সক্রিয় হন। তাঁরা সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদ জানাতে হ্যাশট্যাগ ব্যবহার শুরু করেন। স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার রাত ১০টার দিকে টুইটার ও ইনস্টাগ্রামও বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ আসে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। এএফপির খবর বলছে, তাদের কাছে মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করা হয়নি-এমন নথিপত্র রয়েছে। তাতে বলা আছে, দুটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই জনগণকে ভুলপথে নিয়ে যাচ্ছিল।

গত সোমবার মিয়ানমারে অভ্যুত্থান করে দেশটির সেনাবাহিনী। সু চির নেতৃত্বাধীন এনএলডির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করেছে তারা। সেনা কর্তৃপক্ষ দেশটিতে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করেছে। সু চির বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। এসব অভিযোগে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রিমান্ডে থাকবেন সু চি। অবৈধভাবে আমদানি করা ওয়াকিটকি রাখার অভিযোগে করা মামলায় সু চির দুই বছরের কারাদ- হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি
Design & Developed BY ThemesBazar.Com