নিজস্ব প্রতিবেদক ● রক্তনালীর টিউমারে আক্রান্ত মুক্তামনি শুক্রবার সকাল ছয়টায় হাসপাতাল ছেড়ে বাড়িতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার তাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেওয়া হয়েছে। মুক্তামনির বাবা ইবরাহীম হোসেন এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ডাক্তাররা ওকে ছাড়পত্র দিয়েছেন। তিনটা ওষুধ আর অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন।
মুক্তামনির বাবা বলেন, আল্লাহর ইচ্ছায় কাল (শুক্রবার) সকাল ৫-৬টার দিকে সাতক্ষীরার উদ্দেশে রওনা দিতে চাই। সেন স্যার আমাকে ফোনে যোগাযোগ করতে বলেছেন। একমাস পর আবারও চেকআপের জন্য আসতে বলেছেন।
মুক্তামনি বলে, আমি চলে যাচ্ছি। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন।
এর আগে গত সোমবার মেডিক্যাল বোর্ড বসে মুক্তামনিকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেবার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়। এ প্রসঙ্গে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, আমরা মুক্তামনির বাবাকে আমাদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছি। ডাক্তাররা তাদের সব বিষয়ে বুঝিয়ে দেবেন। এরপর সুবিধাজনক সময়ে তাকে যেতে বলা হয়েছে।
ডা. সেন বলেন, মুক্তামনিকে আমরাই কয়েকদিনের জন্য ছাড়ছি। সে আবারও আসবে। তাকে তিন সপ্তাহ পর আসতে বলা হয়েছে।
তার যাতায়াতের জন্য কোনও আর্থিক সহায়তা করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ও যেন ভালোভাবে যেতে পারে সেজন্য অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে দিয়েছি।
মুক্তামনির বাড়ি সাতক্ষীরার সদর উপজেলার দক্ষিণ কামার বায়েশা গ্রামে। এ বছরের ১২ জুলাই ঢামেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি হয় সে। প্রথমে তার রোগটিকে বিরল রোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরে বায়োপসি করে জানা যায়, তার রক্তনালীতে টিউমার হয়েছে। তখন তার উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে যোগাযোগ করেন বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকরা। মুক্তামনির সব রিপোর্ট দেখে তারা চিকিৎসা করতে অস্বীকৃতি জানান। পরে ঢামেকের চিকিৎসকরাই তার অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন। এদিকে, মুক্তামনির চিকিৎসার সব ধরনের খরচের দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মুক্তামনির হাতে ৫ আগস্ট প্রথম অস্ত্রোপচার হয়। তার হাতের ফোলা অংশ অস্ত্রোপচার করে ফেলে দেন চিকিৎসকরা। পরে দুই পায়ের চামড়া নিয়ে দু’দফায় তার হাতে লাগানো হয়।
ঢামেকের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক আবুল কালামের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ একদল চিকিৎসক মুক্তামনির স্কিন গ্রাফটিং (চামড়া লাগানো) অপারেশনে অংশ নেন। পরে মুক্তামনির হাত আবার ফুলে যাওয়ায়, ফোলা কমানোর উদ্দেশ্যে হাতে প্রেসার ব্যান্ডেজ বেঁধে দেওয়া হয়।


