২৪শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৩ই জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

‘মুখে বড় বড় কথা, কাজের বেলায় লবডঙ্কা’

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতের কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের সমালোচনা করে পশ্চিমবঙ্গের যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, মুখে বড় বড় কথা, ‘মারিতং জগৎ’, আর কাজের বেলায় লবডঙ্কা।

মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) পশ্চিমবঙ্গের আলীপুরদুয়ারে দলীয় এক সমাবেশে ভাষণ দেয়ার সময় ওই মন্তব্য করেন শ্চিমবঙ্গের যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনোদিন ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করেনি। আগামী দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দিল্লিতে ধর্মনিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিজেপির বেঁচে থাকতে গেলে দাঙ্গা প্রয়োজন, মিথ্যা প্রয়োজন, ধর্ম প্রয়োজন নকল দেশপ্রেম প্রয়োজন। সেজন্য এদেরকে আর জায়গা দেবেন না। এরা সকালে রাম, আর বিকেলে নাথুরাম (গান্ধীজির হত্যাকারী)। সকালে হাতে তিরঙ্গা (জাতীয় পতাকা) আর বিকেলে করছে দাঙ্গা। এই বিজেপিকে কোনও বুথে রাখা চলবে না। গণতান্ত্রিকভাবে ওদেরকে জবাব দিতে হবে।

পশ্চিমবঙ্গের যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি বলেন, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি এখানে সভা করেছেন, আমি জিজ্ঞেস করতে চাই, কেন্দ্রীয় সরকারের পাঁচ বছর হয়ে গেছে। আলীপুরদুয়ারের জন্য বাড়তি কত টাকা এসেছে? আলীপুরদুয়ারের জন্য কী করেছেন? এখানে যারা রয়েছেন কেউ আমাকে হাত তুলে বলতে পারবেন নরেন্দ্র মোদির কোনও প্রকল্পের জন্য আপনারা উপকার পেয়েছেন? আপনাদের ব্যাঙ্কে পনের লাখ টাকা ঢুকেছে? ‘আচ্ছে দিন’ (সুদিন) এসেছে? তিনি বলেন, নোট বাতিলের কারণে গরিবরা আরও গরীব হয়েছে। ধনীরা আরও ধনী হয়েছে। জিএসটির (পণ্য ও পরিসেবা কর) জন্য ছোট, বড়, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যবসা লাটে উঠেছে। ভারতবর্ষ ক্রমশ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের দিকে পৌঁছে গেছে। কিন্তু আপনাদের মুখে বড় বড় কথা!

অভিষেক বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে পার্থক্য হল আমরা বলেছিলাম আলীপুরদুয়ারকে আমরা জেলা বানাবো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেটা করেছেন। আমরা বলেছিলাম আমরা ক্ষমতায় আসার পরে জঙ্গলমহল বা উত্তরবঙ্গ সেখানে আমরা শান্তির পর্যটন করব, তা আমরা করেছি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার আগে ভারতজুড়ে প্রচার করে বলেছিলেন, ‘আচ্ছে দিন’ আসবে। তিনি নাকি চা বিক্রি করেন। আর এখন বলছেন চা-ওয়ালার গল্প শেষ, এখন বলছেন আমি ‘চৌকিদার’। আমি বলতে চাই, ভারতের মানুষের এমন চৌকিদারের প্রয়োজন নেই। যে চৌকিদার থাকতে নীরব মোদি, ললিত মোদি, বিজয় মালিয়ারা বারো হাজার কোটি টাকা মেরে দিয়ে ভারত ছেড়ে চলে গেছে। আমাদের নেত্রী ও তাদের মধ্যে পার্থক্য কী? ২০১৩ সালে সারদা’র প্রতারক সুদীপ্ত সেনকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাশ্মির থেকে কলার ধরে জেলে ঢুকিয়েছিল। আর ওরা বিজয় মালিয়াকে ভারত ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। আমরা ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে কোনোদিন কেটলি হাতে রেল স্টেশনে চা বিক্রি করতে দেখিনি। কিন্তু আমরা বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে আজও টালির ঘরের ছাদের তলায় থেকে দশ কোটি মানুষের উন্নয়নের ধারা পরিচালনা করতে দেখেছি।’

অভিষেক বলেন, ‘পাঁচ বছর ধরে বাংলার মানুষকে নিপীড়িত, বঞ্চিত, লাঞ্ছিত, বিতাড়িত, শোষিত ও অতাচারিত করে রেখে দিয়েছে বিজেপি। ২০১৯ সালের লড়াইটা সাম্প্রদায়িক মোদি ও দিদির লড়াই। এর মাঝখানে কেউ নেই। যে রাজনৈতিক দল প্রতিবাদ করতে গেছে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই, ইডি লাগিয়ে ধমকে, চমকে তাদেরকে বাড়িতে বসিয়ে দিয়েছে।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অন্য ধাতুতে তৈরি, তোমরা যত ধমকাবে আন্দোলনের ভাষা তত তীব্র হবে’ বলেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেন।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com