পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসির মৃত্যুর জন্য দেশটির স্বৈরাশাসনকে দায়ী করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান।
সোমবার (১৭ জুন) ইস্তাম্বুলে টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে এরদোগান বলেন, যারা সাবেক এই প্রেসিডেন্টকে কারাগারে পাঠিয়েছিল এবং তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছিল ইতিহাস কখনও সেই স্বৈরশাসককে ক্ষমা করবে না।
সাবেক স্বৈরশাসক হুসনি মোবারকের পতনের পর মিসরে প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি সোমবার আদালতের কাঠগড়ায় বিচার চলাকালে মারা যান। ২০১৩ সালে সেনাবাহিনীর দ্বারা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই কারাগারে ছিলেন মুরসি।
৬৭ বছর বয়সী মুরসি মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা ছিলেন। মুরসি প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় মিসর ও তুরস্কের মধ্যে খুবই ভালো সম্পর্ক ছিল। ২০১৩ সালে মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে প্রেসিডেন্ট হন সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি। এরপর থেকে মিসরের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে মুরসির মৃত্যুকে শহীদের সাথে তুলনা করেন এরদোগান। তিনি বলেন, ‘আমাদের চোখে মুরসি হলেন একজন শহীদ। তিনি যা বিশ্বাস করতেন, সেই বিশ্বাসের জন্য তাকে প্রাণ দিতে হয়েছে।’
মিসরের ঘটনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো দেখেও না দেখার ভান করছে বলেও অভিযোগ করেন এরদোগান। এদিকে মুরসির মৃত্যুতে শোক জানিয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসুগ্লু বলেছেন, অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল। কিন্তু তার স্মৃতি কখনো মুছে যাবে না।
মুরসি গ্রেফতার হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হয়। ফিলিস্তিনের ইসলামপন্থি সংগঠন হামাসের সাথে ভালো সম্পর্ক থাকায় মুরসির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনে তত্কালীন সেনাপ্রধান ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসির সরকার।

