২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ইং , ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১২ই রজব, ১৪৪২ হিজরী

মুসলমানদের পারস্পরিক সর্ম্পক ভ্রাতৃত্বের

এ হ সা ন বিন মু জা হি র

মুসলমানদের পারস্পরিক সর্ম্পক ভ্রাতৃত্বের

ইসলামে মুসলমানদের পারস্পরিক সর্ম্পক ভ্রাতৃত্বের। ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্য বজায় রাখার ব্যাপারে মহান আল্লাহ এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জোর তাগিদ দিয়েছেন। মহান অল্লাহ রাব্বুল আলামিন এরশাদ করেন-‘নিশ্চয়ই মুমিনগণ পরস্পর ভাই ভাই’। (সুরা হুজরাত : ১০)। তাওহিদের পর মুমিনদেরকে যে ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি তাগিদ দেয়া হয়েছে তা হলো সংঘবদ্ধতা।

ইসলামে সংঘবদ্ধতার গুরুত্ব অপরিসীম। সংঘবদ্ধতা সর্ম্পকে মহান রাব্বুল আলামিন এরশাদ করেন, তোমরা সেইসব লোকদের মত হবে না, যাদের কাছে স্পষ্ট ও প্রকাশ্য নিদর্শন আসার পরও তারা বিভিন্ন দল-উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং নানা ধরণের মতানৈক্য সৃষ্টি করেছে, তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি’। (সূরা আল ইমরান : ১০৫)।

আল্লাহ তায়ালা আরও এরশাদ করেন- ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, সালাত কায়েম করো এবং কখনো মুশরিকদের দলভুক্ত হবে না, যারা তাদের দ্বীনকে টুকরো করে দিয়েছে এবং নিজেরা নানা দলে বিভক্ত হয়েছে এদের প্রত্যেকটি দলই নিজেদের যা আছে তা নিয়েই মত্ত’। (সূরা তাওবা : ৩১-৩২)। মহান রাব্বুল আলামিন আরও এরশাদ করেন-‘হে ঈমানদারগণ! তোমারা আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না’। (সূরা ইমরান : ১০৩)। কুরআনে আরও এরশাদ হয়েছে-‘নিশ্চয়ই আমি তাদেররে বেশি ভালোবাসি যারা আল্লাহর রাস্তায় এমনভাবে সারিবদ্ধ হয়ে লড়াই করে, ঠিক যেন শিষাঢালা এক সূদৃঢ় প্রাচীর’। (সূরা সফ : ৬১)। হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, ‘মুমিনগণ একজন মানুষের মতো, যার চোখ আক্রান্ত হলে সমস্ত শরীর আক্রান্ত হয় আর তার মাথা আক্রান্ত হলে সমস্ত শরীর আহত হয়’। (মুসলিম : ২৫৮৬)। হজরত হারিছ আল আশআরী রাদিয়াআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, আমি তোমাদেরকে পাঁচটি বিষয়ের নির্দেশ দিচ্ছি, স্বয়ং রব আমাকে এগুলোর নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়গুলো হচ্ছে : ১. সংঘবদ্ধ। ২. আমীরের নির্দেশ শ্রবণ। ৩. আমীরের নির্দেশ পালন। ৪. হিজরত। ৫. অল্লাহর রাস্তায় জিহাদ। যে ব্যক্তি সংঘবদ্ধতা ত্যাগ করে এক বিঘৎ পরিমাণ দূরে সরে গেছে সে নিজের গর্দান থেকে ইসলামের রজ্জু খুলে ফেলেছে।

সাহাবিগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম কায়েম এবং সাওম পালন করা সত্ত্বেও? উত্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, নামাজ কায়েম এবং রোজা পালন এবং মুসলমান বলে দাবী করা সত্ত্বেও’। (তিরমিজি : ২৭৯০)। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও এরশাদ করেন, ‘পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া, অনুগ্রহ, মায়া-মমতার দৃষ্টিকোণ থেকে তুমি মুমিনদের দেখবে একটি দেহের মতো। যদি দেহের কোন একট অংশ আহত হয়ে পড়ে তবে অন্যান্য অংশও তা অনুভব করে’। (বুখারি : ৬০১১)। রাসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো এরশাদ করেন- ‘তোমরা ঐক্যবদ্ধভাবে জীবন-যাপন করো, সংঘবদ্ধ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে জীবন যাপন করো না, কারণ বিচ্ছিন্ন হলে শয়তানের কুপ্ররোচনায় আকৃষ্ট হয়ে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে’। (আবু দাউদ : ১৯৩৬)। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন- ‘মুমিনগণ অপর মুমিনের জন্য একটি প্রাচীরের মতো, যার এক অংশ অপর অংশকে মজবুত করে। এরপর তিনি এক হাতের আঙ্গুল অপর হাতের আঙ্গুলে প্রবিষ্ট করেন’। (বুখারি : ২৭২৫)। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-‘তিনজন লোক কোন নির্জন প্রান্তরে থাকলেও একজনকে আমীর না বানিয়ে থাকা জায়েজ নয়’। (আহমদ আল মুসনাদ : ৬৩৬০)। হজরত ইবনু উমর রাদিয়াআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- ‘যে ব্যক্তি সংঘবদ্ধ থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে তার মৃত্যু হবে জাহেলিয়াতের মৃত্যু’। (মুসলিম: ৫২৯২)।

হজরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন-‘যে ব্যক্তি জান্নাতের সর্বোত্তম অংশে বসবাস করে আনন্দিত হতে চায় সে যেন ঐক্যবদ্ধভাবে আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধরে’। (তিরমিজি : ১১২৬)। মহান আল্লাহতায়ালা আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে তঁর দ্বীন আকঁড়ে ধরার তাওফিক দান করুন।

লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট ও শিক্ষক

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি
Design & Developed BY ThemesBazar.Com