২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৭ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

‘মুসলিমদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করেননি মমতা’

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকি বলেছেন, তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুসলিমদের উন্নয়নের জন্য যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা পূরণ করেননি।

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে তিনি মেটিয়াবুরুজ বিধানসভা কেন্দ্রে সংযুক্ত মোর্চা সমর্থিত ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) প্রার্থী নূরুজ্জামান মোল্লার সমর্থনে বক্তব্য রাখার সময়ে ওই মন্তব্য করেন।

আব্বাস সিদ্দিকি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, ‘মমতা ব্যানার্জি বলেছিল, দশ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দেব, দিয়েছে? বলেছিল মুসলিমদের ১৫ শতাংশ সংরক্ষণ (শিক্ষা, চাকরি) দেব, দিয়েছে? ওয়াকফ সম্পত্তি পুনরুদ্ধার করার কথা বলেছিল, করেছে? বলেছিল মাদ্রাসা আলিয়া ইউনিভার্সিটি করব, করেছে? ফুরফুরায় রেল দেব বলেছিল, দিয়েছে? কিন্তু উনি (মমতা) বার বার বলছেন মুসলিমদের ৯৯ শতাংশ কাজ হয়ে গেছে!’

আব্বাস সিদ্দিকি বলেন, মমতা একসময়ে বলেছিলেন, যে গরু দুধ দেয়, তার লাথিও খেতে হয়। অর্থাৎ মুসলিমরা গরু। কিন্তু আমরা লাথি মারিনি। মুসলিম যদি তোমরা গরু বাদে মানুষ সত্যি হও তাহলে ২০২১ সালের নির্বাচনে একবার ‘দিদি’কে গুঁতোনো দরকার আছে। ওকে বুঝিয়ে দেওয়া দরকার যে আমাদের ভোটে জিতিস, আর আমাদেরকেই ফাঁসাস! সেজন্য আমার কথা হল, বাঁচতে গেলে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নিজেদেরকে ঐক্যবদ্ধ করলে তবেই বাংলা বাঁচবে। তবেই আমাদের দেশ বাঁচবে।’

আব্বাস সিদ্দিকি আরও বলেন, ‘এই বাংলায় কোনোদিন বিজেপি আসতে পারত না যদি বিভাজন তৈরি না হতো। ৩৪ বছর বামফ্রন্ট এবং ২২ বছরের কংগ্রেস শাসনামলে অনেক কাজ হয়ত হয়নি কিন্তু বিজেপিকে তারা ঢুকতে দেয়নি।’

আব্বাস সিদ্দিকি বলেন, ‘ওয়াকফ সম্পত্তি মুসলিমদের ব্যক্তিগত সম্পদ। যেখান থেকে প্রত্যেক বছরে ২২ হাজার কোটি টাকা ইনকাম হতে পারে। ওই টাকা আমাদের কেউ ফিরিয়ে দেবে না। আমাদেরকে কেড়ে নিতে হবে। কাড়তে গেলে নিজের দলের দরকার আছে। মমতার পিছনে দাঁড়ালে কেড়ে নেওয়া যাবে না। কারণ উনি পুরো ঢপ দিচ্ছেন। ওয়াকফ সম্পত্তি পুনরুদ্ধার করে দেবেন বলেছিলেন। কিন্তু তা করেননি। অধিকন্তু আমাদের ওয়াকফ সম্পত্তির উপরে জোর করে বিজেপির পার্টি অফিস খুলিয়েছে এই মমতা ব্যানার্জি!’

তিনি বলেন, ‘দিদির (মমতা) সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নেই, শত্রুতাও নেই। কিন্তু এতটুকু জানি মমতা ব্যানার্জির জন্যই এই বাংলায় বিজেপি এসেছে। সেজন্য ২০২১-এ বুঝেশুনে ভোট দাও, না হলে মনে রেখে দিও ক্যাম্পে থাকতে হবে। তোমার চোখের সামনে তোমার মা-বোনের ইজ্জত আব্রু লুঠবে, তুমি কিচ্ছু করতে পারবে না। সেজন্য এই বিজেপিকে রুখতে গেলে যে কারখানা থেকে বিজেপির জন্ম হচ্ছে ওই তৃণমূলের কারখানায় আগে তালা লাগাতে হবে।’

আব্বাস সিদ্দিকির দাবি, তৃণমূলের প্রতীক ‘জোড়াফুল’ ধীরে ধীরে বিজেপির প্রতীক ‘পদ্মফুল’-এ পরিণত হয়। তিনি বলেন, প্রথমে জোড়াফুলের জন্ম হয় পরে বিশেষ পদ্ধতিতে তা পদ্মফুল হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে তিনি এপর্যন্ত যেসব তৃণমূল নেতা-মন্ত্রী দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন তাদের নাম উল্লেখ করেন।

পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকির আইএসএফ দল বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে সংযুক্ত মোর্চা গড়ে নির্বাচনে লড়ছে।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com