যুদ্ধজাহাজের ক্রেতা থেকে নির্মাতা হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ

যুদ্ধজাহাজের ক্রেতা থেকে নির্মাতা হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : দেশে সাশ্রয়ী দামে আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন আকার ও শ্রেণির জাহাজ ও যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করা হচ্ছে।

সম্প্রতি নৌবাহিনীর নিজস্ব তত্ত্বাবধানে খুলনা শিপইয়ার্ডে পেট্রোল ক্রাফট স্কোয়াড্রোনের চারটি যুদ্ধজাহাজ বানৌজা “শহীদ দৌলত”, “শহীদ ফরিদ”, “শহীদ মহিবুল্লাহ” ও “শহীদ আখতার উদ্দিন” নামে চারটি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়া চারটি ল্যান্ডিং ক্রাফট ইউটিলিটি (এলসিইউ) বানৌজা “ডলফিন”, “তিমি”, “টুনা” ও “পেঙ্গুইন”-এর কমিশনিং করা হবে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিবিড় তত্ত্বাবধানে খুলনা শিপইয়ার্ডে এসব জাহাজ তৈরি করা হয়েছে।

বুধবার পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিএনএস শের-ই-বাংলা নৌ ঘাঁটি এবং খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডে চারটি প্যাট্রোল ক্রাফট এবং চারটি এলসিইউ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নবনির্মিত এই জাহাজগুলো শুধু তরুণ নাবিকদের প্রশিক্ষণ ও বিমান চলাচলের সুবিধা হিসেবেই কাজ করবে না বরং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সক্ষমতাও বাড়াবে।

বহরে বিভিন্ন শ্রেণির ছোট-বড় শতাধিক জাহাজ নিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ক্রমাগত তার নৌ সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। ‍“স্কোয়াড্রন লিডার শহীদ দৌলত”, “শহীদ ফরিদ”, “শহীদ মহিবুল্লাহ” এবং “শহীদ আখতার উদ্দিন” নামে ১৯৯৫ সালে আমদানি করা চারটি যুদ্ধজাহাজ পুরোনো হয়ে যাওয়ায় বহর থেকে বাদ দেওয়া হয়। তবে এখন বহরে বিভিন্ন শ্রেণির ছোট-বড় শতাধিক জাহাজ নিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ক্রমাগত তার সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। পুরোনো নামে নতুন করে বহরে যোগ হওয়া এসব যুদ্ধজাহাজ দেশের এই শিল্পটির বিকাশে বড় ভূমিকা রাখবে।

অত্যাবশ্যকীয় যুদ্ধ সরঞ্জামে সজ্জিত এই জাহাজগুলোতে মূলত যুদ্ধের পণ্য পরিবহন করা হবে। এতে রয়েছে বোট বন্দুক, বড়-গভীর চার্জার (এলডিসি), রকেট ডেপথ চার্জার (আরডিসি), সোলার প্যানেল এবং অন্যান্য অত্যাধুনিক সিস্টেম।

এছাড়াও, চারটি এলসিইউ যুদ্ধের সময় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ল্যান্ডিং ক্রাফটটি রোহিঙ্গাদের ত্রাণসামগ্রী পরিবহনের জন্যও মোতায়েন করা হবে, তাদের রুটটি চট্টগ্রাম থেকে ভাসানচর পর্যন্ত বিস্তৃত।

নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তা বলেন, “আগে, এই ধরনের জাহাজ বিদেশ থেকে আমদানি করা হতো, যার জন্য উল্লেখযোগ্য খরচ হয়। তবে, একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে। কারণ সেগুলো এখন খুলনা শিপইয়ার্ডে স্থানীয়ভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে। আজ নৌবাহিনী আটটি জাহাজকে কমিশন দেবে। যার সবগুলোই নৌবাহিনীর সতর্ক তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয়েছে।”

কম উৎপাদন খরচ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আনুমানিক ৩০ বছর আগে আনুমানিক ৩৪ কোটি টাকায় একটি যুদ্ধজাহাজ কেনা হয়েছিল। তবে এখন আমাদের দেশে মাত্র ১৭ কোটি টাকায় একই ধরনের জাহাজ নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে। এই উল্লেখযোগ্য হ্রাস। খরচে দেখলে বোঝা যায় যে এটা কতটা সাশ্রয়ী হয়েছে।”

“কম খরচের একটি কারণ হলো- বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্যভাবে কম শ্রম খরচ। জাহাজ নির্মাণের কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করা হলেও সস্তা শ্রমিকের প্রাপ্যতা কম খরচে জাহাজ নির্মাণ সম্ভবপর করে তোলে। যদিও আমরা প্রযুক্তিগতভাবে অন্যান্য দেশের চেয়ে কম অগ্রসর। তবে আমরা অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সজ্জিত স্থানীয়ভাবে তৈরি জাহাজ তৈরি করে তাদের সাথে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম।”

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, “আন্তর্জাতিক মানের নির্মিত বেশ কয়েকটি বড় জাহাজ ইতিমধ্যেই অভ্যন্তরীণভাবে নির্মিত হয়েছে।”

জাহাজের কমিশনিং অনুষ্ঠানের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনা শিপইয়ার্ডে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের বিষয়ে বলেন, “বাংলাদেশে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ শুধুমাত্র উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে না, বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় করে। নৌবাহিনীর ক্রেতা থেকে নির্মাতা হয়ে ওঠার ঘটনা বাহিনীর উন্নতি ও অগ্রগতির বিষয়টিই তুলে ধরেছে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের নৌবাহিনী জাতীয় সীমানা ছাড়িয়ে বিস্তৃত হয়েছে, বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক মহড়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে এবং নিজেরাই সফল মহড়া পরিচালনা করছে।

সুত্র : ঢাকা ট্রিবিউন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *