১৮ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১০ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

যেদিন অবিশ্বাসী ও অপরাধীরা আফসোস করবে

  • মুফতি আব্দুল মুহাইমিন

অবিশ্বাসী ও অপরাধীদেরকে যখন জাহান্নামের পাশে নিয়ে যাওয়া হবে,তখন তারা মুমিন না হওয়ার কারণে আফসোস করবে। আবার দুনিয়ায় ফিরে আসতে চাইবে। কিন্তু কোনো লাভ হবে না। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে-

‘তুমি যদি দেখতে পেতে যখন তাদেরকে দোজখের পাশে দাঁড় করানো হবে এবং তারা বলবে, হায়! যদি আমাদের পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন ঘটত, তাহলে আমরা আমাদের প্রতিপালকের নিদর্শনকে মিথ্যা বলতাম না এবং আমরা বিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।’ (সূরা আনআম ,আয়াত : ২৭)

এ আয়াতে অবিশ্বাসী ও অপরাধীদের অবস্থা বর্ণনা হয়েছে, আখেরাতে যখন তাদেরকে জাহান্নামের কিনারায় দাঁড় করানো হবে এবং তারা কল্পনাতীত ভয়াবহ শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে, তখন তারা আফসোস করে বলবে, আমাদেরকে পুনরায় দুনিয়াতে প্রেরণ করা হলে আমরা প্রতিপালকের নিদর্শনাবলি ও নির্দেশাবলিকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতাম না; বরং এগুলো বিশ্বাস করে ঈমানদারদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতাম।
কিন্তু আর ফেরার সুযোগ থাকবে না।

দুনিয়াতে ভুল করলে শুধরানোর সুযোগ থাকে। তওবা করা যায়। যত মারাত্মক ও বড় গুনাহই হোক না কেন আল্লাহ তাআলার কাছে খাঁটি দিলে তওবা করলে তিনি ক্ষমা করে দিবেন। কিন্তু হাশরের ময়দানে আফসোস করলে কোনো লাভ হবে না। অনেকে বলবে, হে আল্লাহ! আমাদেরকে আবার দুনিয়ায় পাঠিয়ে দিন; আমরা আপনার হুকুম মতো চলব। কিন্তু কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। তাদের কথা পবিত্র কুরআনের আছে-

‘উহারা বলিবে, হে আমাদের প্রতিপালক! দুর্ভাগ্য আমাদেরকে পাইয়া বসিয়াছিল এবং আমরা ছিলাম এক বিভ্রান্ত সম্প্রদায় । হে আমাদের প্রতিপালক! এ থেকে আমাদেরকে উদ্ধার করো; আমরা যদি পুনরায় তা করি, তবে আমরা জালেম গণ্য হব। আল্লাহ বলবেন, তোমরা ধিক্কৃত অবস্থায় এখানেই পড়ে থাক এবং আমার সাথে কোনো কথা বলো না।’ (সূরা মুমিনুন:১০৬-১০৮)

অর্থাৎ এখন তোমাদের জন্যে সব পথই বন্ধ। আমলের সময় শেষ হয়ে গেছে। এখন হলো প্রতিদান প্রদানের সময়। তাওহীদের সময় তোমরা শিরক করেছিলে। সুতরাং এখন অনুশোচনা করে কি লাভ?
আমার সাথে কোনো কথা বলো না।

কুরআনের অন্য আয়াতে এসেছে-

‘হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা দেখলাম ও শুনলাম। এখন আমাদেরকে ফেরত পাঠিয়ে দিন, আমরা সৎকর্ম করব। আমরা দৃঢ় বিশ্বাসী হয়ে গেছি।’ (সূরা সাজদাহ, আয়াত : ১২)

তথা আল্লাহ তাআলা বলেন, পাপীরা যখন নিজেদের পুনর্জীবন স্বচক্ষে দেখবে তখন অত্যন্ত লজ্জিত অবস্থায় মাথা নীচু করে আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান হবে। তখন তারা বলবেঃ হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের চোখ এখন উজ্জ্বল হয়েছে এবং আমাদের কানগুলো খাড়া হয়েছে। এখন আমরা বুঝতে ও জানতে পেরেছি। এখন আমরা বুঝে সুঝে কাজ করবো। আমাদের অন্ধত্ব ও বধিরতা দূর হয়ে গেছে। সুতরাং আমাদেরকে পুনরায় দুনিয়ায় ফিরিয়ে দিন। আমরা সকর্ম করবো, আমরা তো দৃঢ় বিশ্বাসী। ঐ সময় কাফিররা নিজেদের তিরস্কার করতে থাকবে। জাহান্নামে প্রবেশের সময় তারা আক্ষেপ করে বলবে, যদি আমরা শুনতাম অথবা বিবেক বুদ্ধি প্রয়োগ করতাম, তাহলে আমরা জাহান্নামবাসী হতাম না।

হে মুসলিম উম্মাহ, নিজেদেরকে প্রস্তুত করি, যেন আমাদেরকেও আফসোস করতে না হয়। দীনের পথে চলি, আল্লাহর হুকুম আহকাম মেনে চলি, গুনাহের পথ পরিত্যাগ করি, এবং আল্লাহর কাছে তাওবা করি।

লেখক: খতিব ও শিক্ষক

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com