‘যৌন নিপীড়নসহ এমন কোনো অপকর্ম নেই যা সিরাজ করেননি’

‘যৌন নিপীড়নসহ এমন কোনো অপকর্ম নেই যা সিরাজ করেননি’

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : এমন কোনো অপকর্ম নেই যা ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদদৌলা করেননি। তিনি যৌন নিপীড়ন, অর্থ আত্মসাৎ , সার্টিফিকেট বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্যসহ সকল অপকর্মের হোতা।

গ্রেপ্তারকৃতদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধান, এলাকাবাসী, মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সময় গভর্নিং বডি এবং প্রশাসনের কাছে দেওয়া অভিযোগে একের পর এক বেরিয়ে আসছে অধ্যক্ষ সিরাজের অপকর্মের কাহিনি। তার অর্থ আত্মসাতের উৎস হলো মাদরাসার নিজস্ব আয় ও সরকারি বরাদ্দের টাকা। এসব অর্থের ৫০ ভাগ গভর্নিং বডি, স্থানীয় আওয়ামী লীগের কিছু নেতা ও প্রশাসনের একশ্রেণির কর্মকর্তাকে নিয়মিত মাসোহারা হিসাবে দিতেন। বিনিময়ে অপকর্ম ও অর্থ আত্মসাৎ করেও তিনি থাকতেন নিরাপদে। ওই মাদরাসার গভর্নিং বডি গতকাল বাতিল করেছে সরকার।

এদিকে গত ৬ এপ্রিল ওই মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফির গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদরাসা পরিচালনা পরিষদের সহ-সভাপতি রুহুল আমিনকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। এই নেতার কাছে অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও আত্মসাতের অনেক ঘটনার প্রতিকার চেয়ে নিহত শিক্ষার্থী নুসরাত, শিক্ষক, অভিভাবকরা আবেদন করেছিলেন। তিনি কোনো প্রতিকার তো করেননি উল্টো সিরাজের পক্ষাবলম্বন করেন। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করার কাজে অধ্যক্ষকে সহায়তা করতেন রুহুল।

জানা গেছে, সোনাগাজী ফাজিল মাদরাসার এক ছাত্রীকে গত বছরের অক্টোবর মাসে যৌন নিপীড়ন করেন অধ্যক্ষ। এই ছাত্রীর পিতা প্রতিকার চেয়ে গভর্নিং বডির কাছে আবেদন করেন। কিন্তু কোন ব্যবস্থা তো নেয়া হয়নি উল্টো ছাত্রীর অভিভাবক নাজেহাল হন। অভিযোগ রয়েছে, এই মাদরাসায় পড়েনি কিংবা শিক্ষকতাও করেননি কোনদিন- এমন ভুয়া শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছে ২৫ হাজার টাকায় সার্টিফিকেট বিক্রি করতেন অধ্যক্ষ সিরাজ। টাকা নেওয়ার পাশাপাশি অনেক নারীকে যৌন নিপীড়নও করেছেন তিনি। সার্টিফিকেটের বিনিময়ে তিনি পেতেন নারীর সাহচার্য। খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ করেও লাখ লাখ টাকা বাণিজ্য করেছেন এই সিরাজ। মোট কথা অর্থ ছাড়া তিনি কোন কাজ করেননি। এটাই ছিলো তার নেশা। অধ্যক্ষ সিরাজ ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে এক গডফাদার ও গভর্নিং বডির সদস্যদের মোটা অংকের ঘুষ দিয়ে এই মাদরাসার অধ্যক্ষের পদটি বাগিয়ে নেন। অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে এ ধরনের ১৮টি দুর্নীতি, অনিয়ম সম্পর্কে গভর্নিং বডির সদস্য আব্দুল মান্নান প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেন। মাদরাসার শিক্ষকদের পক্ষ হতে এক ডজনেরও অধিক শিক্ষক সিরাজের বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেন। কিন্তু প্রশাসন কিংবা গভর্নিং বডির পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বরং অভিযোগকারীদের তিরস্কার করা হয়েছে।

ফেনী প্রতিনিধি জানান, রুহুল আমিন ওরফে গুজা রুহুল সম্পর্কে সোনাগাজীর আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছেন, তার বাড়ি উপজেলার মধ্যম চর চান্দিয়া কুচ্চাখোলা গ্রামে। সোনাগাজীর তাকিয়া রোডের জেলে পাড়া এলাকায় বসবাস করেন। তারা দুঃখ করে বলেন, কিছু হাইব্রিড নেতাকে আওয়ামী লীগের নব্য নেতা বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। রুহুল আমিনের চৌদ্দগোষ্ঠী বিএনপি করে। সে-ও আগে কোনদিন আওয়ামী লীগ করেনি। তাকে হঠাৎ করে দলের উপজেলা সভাপতি করে দেওয়ায় এলাকার প্রবীণ নেতারা ক্ষুব্ধ ছিলেন।

অধ্যক্ষ সিরাজের পরিবার বাড়িছাড়া : নুসরাত হত্যার ঘটনার পর অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার স্ত্রী সোনাগাজী জনতা ব্যাংক থেকে ১৮ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। অভিযোগ রয়েছে, স্বামীকে বাঁচানোর জন্য ওসিকে ১০ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়। এ ঘটনার পর থেকে সন্তানদের নিয়ে তিনি এলাকা ছেড়ে চলে যান। এলাকাবাসী জানান, অধ্যক্ষের স্ত্রীকে গ্রেফতার করতে পারলে টাকার উৎসসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ঘাটিত হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *