বিশেষ প্রতিবেদক ● সমীক্ষা ছাড়াই রুট পারমিট দেয়ায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে পরিবহন খাত। পূর্বাপর না ভেবেই বাস মালিকদের একের পর এক রুট পারমিট দিয়ে দেয়ায় রাজধানীর গণপরিবহনে তৈরি হয়েছে বিশৃঙ্খলা। অপ্রয়োজনীয়ভাবে অসংখ্য রুটের সঙ্গে তৈরি হয়েছে অসংখ্য বাস কোম্পানি ও মালিক। ফলে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে পরিবহন খাত। এমন মত দিয়েছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। সমস্যা সমাধানে পুরো ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর পরামর্শ তাদের। লোক বেশি, আয়তন কম, রাস্তাও ছোট। কিন্তু রুট পারমিটের কোনো কমতি নেই এই নগরে। যথাযথ সমীক্ষা ছাড়াই রুট পারমিট দিয়ে দেয়ায় ঢাকার রাস্তায় তৈরি হয়েছে রুটের জট। দেখা যায়, রাজধানীতে মোটাদাগে উত্তর-দক্ষিণামুখী বড় রাস্তা ৪টি। এগুলো উত্তরা, মিরপুর, গাবতলী থেকে শুরু হয়ে গিয়েছে ঢাকার দক্ষিণে।
এছাড়া পশ্চিম থেকে পূর্বমুখী রাস্তা আছে অন্তত ২টি। তবে হাতে গোনা এই কয়টি বড় রুটে হিজিবিজি করে সৃষ্টি করা হয়েছে কমপক্ষে ১৭০টি রুট। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নগরীতে যানজট, যাত্রী ভোগান্তি, বিশৃঙ্খলা আর গণপরিবহনে নিয়ন্ত্রণহীনতার পেছনে আছে রুটের এই অযৌক্তিক বিন্যাস। পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. সামছুল হক বলেন, সব কোম্পানির গাড়ি কেন মতিঝিল, গুলিস্তান আসবে। এটি সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক বিন্যাস বলে।
পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. এস এম সালেহউদ্দিন বলেন, একটা মালিকের যদি ১০টি গাড়ি থাকে সেই সব গাড়ি লিজ দিয়েছে ১০টি চালককে। আর ঐ ১০টা চালকই কিন্তু অপারেটরের মালিক।
তারা বলছেন, রুট কমিয়ে নির্দিষ্ট রুট ভিত্তিক আলাদা বাস কোম্পানি করা প্রয়োজন, যেখানে অন্য রুটের বাস আসতে পারবে না। তাদের মতে, শাখা বা সংযোগ সড়ক থেকেও কোনো বাস না ঢুকে শুধু যাত্রী নামিয়ে দেবে মূল সড়কগুলোতে। যদিও বিআরটিএ এখন বলছে, বাসের রুট পুনর্বিন্যাসসহ পুরো ব্যবস্থাটিকেই ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। বিআরটিএ ডিরেক্টর (এনফোর্সমেন্ট) নাজমুল আহসান মজুমদার বলেন, কোম্পানির সংখ্যা ও রুট কিভাবে ঢাকা সিটিতে ব্যবস্থাপনা করা যায় আর এটার সাথে যারা সংশ্লিষ্ট আছে তাদেরকে নিয়ে যে সিদ্ধান্ত নেয়া দরকার আমরা সেটি করবো। বাস রুট নিয়ে বিশেষজ্ঞ যে পরামর্শ দিচ্ছে সেগুলো নতুন কিছু নয়। সরকারের নেয়া গণপরিবহন পরিকল্পনার মধ্যেই রয়েছে সেইসব পরামর্শ। তবে সেইসবের বাস্তবায়ন আটকে আছে অজ্ঞাত সব জটিলতায়। এমনকি কোন রুটে যাত্রীর সংখ্যা কেমন আর সেই অনুযায়ী কি রকম সংখ্যা বাস নামাতে হবে সেই বিষয়েও সুস্পষ্ট কোনো গবেষণা নেই কোনো সংস্থার কাছে।


