৮ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৩রা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

রাজারবাগ পীরের অবৈধ সম্পদের খোঁজে মাঠে নেমেছে দুদক

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : রাজারবাগ দরবার শরিফের পীর দিল্লুর রহমানের অবৈধ সম্পদের খোঁজে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (৮ নভেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই অনুসন্ধান টিম গঠন করা হবে।

দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত বিভাগের মহাপরিচালক সাঈদ মাহবুব খান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, রাজারবাগ দরবার শরিফের পীর দিল্লুর রহমানসহ বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কমপক্ষে ৮০০টি ভুয়া মামলা করেছেন। এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৪৯টি মামলা দেওয়ার তথ্যও রয়েছে। এসব মামলার পেছনে রয়েছে সাত হাজার একর জমি ও রাবার বাগান দখল। পীরের পক্ষে তার অনুগতরা এসব মামলা দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।

বিষয়টি দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। মামলাগুলো স্থগিত করে পীরের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। শুধু তা-ই নয়, এর আগে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন রাজারবাগ পীরের সব আস্তানা বন্ধের যে সুপারিশ করে, তা বাস্তবায়নের জন্যও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে পীরের অনুসারীদের বিরুদ্ধে করা আটটি মামলা তদন্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়।

চলতি বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর রাজারবাগ দরবারের পীর দিল্লুর রহমান এবং তার দরবারের সব সম্পত্তির হিসাব চেয়ে ওই আদেশ দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে দরবার শরিফের সব সম্পদের তথ্য খুঁজতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), তাদের জঙ্গি সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা তদন্ত করতে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট এবং উচ্চ আদালতে রিটকারী আটজনের বিরুদ্ধে করা হয়রানিমূলক মামলার বিষয়ে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন দিল্লুর রহমান।

গত ২৬ অক্টোবর রাজারবাগ দরবার শরিফের পীর দিল্লুর রহমান এবং তার প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা সম্পদের বিষয়ে তদন্ত করতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। আদালত পীর দিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে তদন্ত স্থগিত চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দেন। ফলে, রাজারবাগ দরবার শরিফ ও পীরের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে কোনো বাধা থাকল না বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

এদিকে পুলিশের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘অধিকাংশ মামলার নথিপত্র সংগ্রহের পর পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, আবেদনকারীর বিরুদ্ধে একাধিক মানবপাচার, নারী নির্যাতন, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, হত্যার চেষ্টা মামলাসহ প্রতারণা, জাল-জালিয়াতি, ডাকাতির প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন ধর্তব্য ও অধর্তব্য ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। অধিকাংশ মামলার বাদী, সাক্ষী, ভিকটিমরা কোনো না কোনোভাবে রাজারবাগ দরবার শরিফ এবং ওই দরবার শরিফের পীরের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

এছাড়া ২০২০ সালে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের একটি তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সিআইডির প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজারবাগের দরবার শরিফের পীর দিল্লুর রহমান ও তার অনুসারীরা দরবার শরিফের স্বার্থ হাসিলের জন্য নিরীহ জনসাধারণের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করে আসছে মর্মে প্রতীয়মান হয়েছে।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com