২৮শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ২৬শে শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

‘রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরার পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি’

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে আরসা ও মুন্না গোষ্ঠীর দৌরাত্ম্যের অভিযোগ উঠেছে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে। রোহিঙ্গা নেতা মহিব উল্লাহকে হত্যার আগে অনেক হুমকি দেওয়া হয়েছিল। জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যালেশেট গতকাল মঙ্গলবার জেনেভায় ওই প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

বাংলাদেশ জোর দিয়ে বলে আসছে, আরসার মতো কোনো গোষ্ঠীর তৎপরতা রোহিঙ্গা শিবিরে নেই। মহিব উল্লাহ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গত বছর জাতিসংঘের বিশেষ দূতদের বাংলাদেশ লিখিতভাবে জানিয়েছে, মহিব উল্লাহর জীবন হুমকিতে বা তাঁকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী হত্যার হুমকি দিয়েছে—এমন কোনো তথ্য বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কাছে ছিল না।

জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে উত্থাপিত প্রতিবেদনে মিয়ানমার পরিস্থিতির পাশাপাশি রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা ও সেখান থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি স্থান পেয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কক্সবাজার ও ভাসানচরে জাতিসংঘকে সাক্ষাৎকার দেওয়া রোহিঙ্গারা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।

আর কক্সবাজারে সাক্ষাৎকার দেওয়া সবাই সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির নাটকীয় অবনতির ইঙ্গিত দিয়েছে। তারা এ জন্য আরসা ও মুন্না গোষ্ঠীর মতো অপরাধী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে। ওই অপরাধী গোষ্ঠীগুলো শিবিরের নিয়ন্ত্রণ নিতে সংঘাতে জড়াচ্ছে। তারা হুমকি, নির্যাতন, অপহরণ ও শিবিরের বাসিন্দা নয়—এমন ব্যক্তিদের হত্যায় জড়িত।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাখাইন রাজ্য পরিস্থিতি মিয়ানমারের অন্য অঞ্চলের তুলনায় শান্ত। তবে সেখানে রোহিঙ্গাদের অধিকারের পরিস্থিতি বদলায়নি। বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের রাখাইন রাজ্যে ফিরে যাওয়ার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি।

প্রতিবেদনে মিয়ানমারে এখনো রোহিঙ্গাদের জাতীয়তা যাচাইকরণ কার্ড নিতে বাধ্য করার মতো বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ আছে। জাতিসংঘ বলেছে, কক্সবাজারে আশ্রয়শিবিরে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে কিছু রোহিঙ্গা পরিবার মিয়ানমারে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এখনো রোহিঙ্গাদের সমাজ থেকে বাদ দেওয়ার নীতি অনুসরণ করছে।

প্রতিবেদনে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের প্রধান মিশেল ব্যালেশেট বলেন, মিয়ানমারে সহিংসতা বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই এবং এখনই সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ধারাবাহিকভাবে ও ব্যাপক মাত্রায় মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে, নিপীড়ন চালাচ্ছে। সেই অপরাধগুলোর কিছু কিছু যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নাগরিকত্ব, নাগরিক অধিকার, চলাফেরার স্বাধীনতা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জীবিকার অধিকার থেকে বঞ্চিত। একইভাবে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ ভূখণ্ডে ফিরে যাওয়ার অধিকারও নেই। এমনকি অতীতে তাদের ওপর সংঘটিত অপরাধগুলোর ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ নেই। এসব বিষয় সুরাহা না হওয়ায় তাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com