২রা মার্চ, ২০২১ ইং , ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৭ই রজব, ১৪৪২ হিজরী

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্যের লড়াই

ভিন্ন ভিন্ন সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ৯ জন নিহত

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্যের লড়াই

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আবারও অস্ত্রধারী দুই গ্রুপের মাঝে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে এক রোহিঙ্গা যুবক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) ভোরে তাজনিমারখোলা রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ডি/৮ ব্লকে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবকের নাম মোহাম্মদ জাবেদ (২০)। তিনি তাজনিমারখোলা রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের ডি/৪ ব্লকের বাসিন্দা। তিনি রোহিঙ্গা নাগরিক মোহাম্মদ ইসলামের ছেলে।

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার ভোরে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপ মোজাম্মেল ওরফে শেখ ও মৌলভী ইউনুস ও নুরুল হাকিম গ্রুপের মাঝে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে দু’পক্ষের মাঝে থেমে থেমে ১০-১৫ রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়।

কক্সবাজার ১৬ এপিবিএনের অধিনায়ক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তারিক গোলাগুলির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গোলাগুলির খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে এপিবিএনের একটি দল পাঠানো হয়। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর পাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন গ্রুপের মধ্যে কয়েক দফা গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় অন্ততপক্ষে ৯ জন নিহত হয়েছেন। কিছুদিন পর পর এমন গোলাগুলির ঘটনায় ক্যাম্পজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এদিকে রোহিঙ্গাদের অপরাধ কর্মকাণ্ড ঠেকাতে কী করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, গত দুই বছরে ক্যাম্পের ভেতরে রোহিঙ্গাদের আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে অন্তত ৪৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

এছাড়া আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর সাথে কথিত বন্দুক-যুদ্ধে আরও ৩২ জন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে।

র‌্যাবের উইং কমান্ডার আজিম আহমেদ বলছেন, হেলিকপ্টার দিয়ে আমরা ওদের আস্তানাগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। আমরা ড্রোনের মাধ্যমেও তাদের পজিশন বা পাহাড়ে তাদের আস্তানা খুঁজে বের করার জন্য। এই জিনিসগুলো দেখার জন্য আমরা একটা রেকি করেছি। যাতে আমাদের একটা আইডিয়া হয়েছে। কিছু জায়গা আমরা চিহ্নিত করেছি। রোহিঙ্গাদের সবাইকে সরকার তালিকাভুক্ত করার চেষ্টা করলেও অনেকেই মূলধারার জনগোষ্ঠীর সাথে মিশে গেছেন।

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ সরকার শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি না দিলেও মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা এই জনগোষ্ঠী বিশ্বব্যাপী শরণার্থী হিসেবেই চিহ্নিত এবং আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোর সহযোগিতা ও সহানুভূতি তাদের প্রতি রয়েছে।

এসব কারণে রোহিঙ্গাদের অপরাধী কর্মকাণ্ডের জন্য আইনের আওতায় আনা কিছুটা জটিল, বিবিসিকে বলছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক খন্দকার ফারজানা রহমান, যিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ করেছেন।

তার মতে, রোহিঙ্গারা এমন একটা জায়গা থেকে এসেছে, এমন একটা নির্যাতন, নিপীড়নের মধ্যে থেকে এসেছে যে সাইকোলজিক্যালি তারা এক ধরনের কনফ্লিক্ট ক্যারি করে। তাদের মধ্যে অনেক ধরনের ট্রমা ডিপ্রেশন কাজ করে। এই ধরনের নেগেটিভ ইমোশন থাকলে সেখানে আনুপাতিক হারে সেখানে অপরাধ বেশি হবেই। আপনি যদি ১৯৩০ সালের শিকাগোর ইতিহাস পড়ে দেখেন, সেখানেও একই জিনিস ঘটেছিলো। সেখানে ইমিগ্র্যান্টরা আসার পরে তাদের এত নেগেটিভ ইমোশন্স ছিল যে সেখানে ক্রাইম রেট বেড়ে গিয়েছিলো। তিনি আরও মনে করেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করেছে। মিয়ানমারেও সেটা হয়েছে, আমরা বাংলাদেশেও রাজনৈতিক গেইন আবার কখনো অর্থনৈতিক কারণে তাদের ব্যবহার করছি।

তিনি বলছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপরাধ হলে, প্রথমে তাদের নিজস্ব একটা ব্যবস্থা আছে, তারা তাদের নিজেদের এই পদ্ধতিতে সেটার ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু বড় ধরনের সহিংস অপরাধ হলে অবশ্য তাদের বাংলাদেশে আইনের আওতায় বিচার হয়।

কিন্তু স্থানীয়দের জায়গা-জমি, জীবিকা এক অর্থে দখল করে নেয়া এবং তাদের জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব রাখছে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা। সেই সাথে অপরাধী কর্মকাণ্ডের জন্য স্থানীয়রা রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতি হারিয়ে ফেলছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com