৩০শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২৪শে রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন যেনো আটকে না যায়

মিয়ানমারে সেনাকর্তৃত্ব

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন যেনো আটকে না যায়

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ যেনো কোনোভাবেই ফিরে না আসে। গণতন্ত্র বা স্থিতিশীলতা ফিরুক মিয়ানমারে। বাংলাদেশ যেনো চায় তেমনি বিশ^ও। শান্তি ও স্থিতিশীলতা থাকলেই যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়। পাঁচ দশক সেনাশাসনে চলার পর ২০১১ সালে নামমাত্র গণতন্ত্র এসেছিল প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে। ‘বেসামরিক সরকার’ লেবাসের আড়ালে প্রকৃত ক্ষমতা ছিল সেনাবাহিনীরই হাতে। এই সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গা গণহত্যার ঘটনাও ঘটেছে।

১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছে বাংলাদেশে। শান্তিতে নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চি সেনাবাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান না নিয়ে বরং নানাভাবে সেনাবাহিনীকেই সমর্থন দিয়ে গেছেন। এত কিছু করার পরও তিনি তাঁর ‘বেসামরিক সরকার’ রক্ষা করতে পারেননি। সোমবার ভোরে সেনাবাহিনী আবার দেশটির ক্ষমতা গ্রহণ করেছে। সু চিসহ তাঁর দলের অনেক নেতাকে আটক করা হয়েছে। এক বছরের জন্য জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা। সু চির দল এনএলডির পক্ষ থেকে সেনাশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সেনাবাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণের নিন্দা জানিয়েছেন এবং গ্রেপ্তারকৃত নেতা-নেত্রীদের মুক্তি দাবি করেছেন।

মিয়ানমারে আবার সেনাশাসন শুরু হতে পারে, বেশ কিছুদিন ধরেই এমন গুঞ্জন ছিল। তার কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে নানা বিষয়ে সু চির সরকারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর বিরোধ ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছিল। তার ওপর গণহত্যাসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত (আইসিজে) ও আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের (আইসিসি) চলমান উদ্যোগগুলো নিয়েও মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ক্ষুব্ধ ছিল। এই অবস্থায় গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে এনএলডির ভূমিধস বিজয় সামরিক বাহিনী কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি। কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই নির্বাচনে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলতে থাকে সামরিক বাহিনী।

অবশেষে অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তার পরিসমাপ্তি ঘটেছে। নভেম্বরের নির্বাচনের ফলাফলও বাতিল করা হয়েছে। সেনাবাহিনী বলেছে, এক বছর পর আরেকটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আসা সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়া হবে। অর্ধশতাব্দীর সেনাশাসনে ত্যক্তবিরক্ত মিয়ানমারবাসী গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের যে স্বপ্ন দেখেছিল তা বিনষ্ট হওয়ায় ব্যাপক হতাশা তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় এনএলডি তাদের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে সেনা অভ্যুত্থান প্রত্যাখ্যান করে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার ডাক দিয়েছে। ফলে অবস্থা কোন দিকে যায়, তা এখন দেখার বিষয়।

সেনা অভ্যুত্থানের এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন বাংলাদেশ আশা করছিল খুব শিগগির হয়তো রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন শুরু হবে। চলতি মাসে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি চূড়ান্ত করার কথা ছিল। এখন ক্ষমতায় এসেছেন সেই সব জেনারেল, যাঁদের বিরুদ্ধে গণহত্যার পরিকল্পনা করার অভিযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলো তদন্ত করছে। তদুপরি মিয়ানমারের সেনাবাহিনী মনে করে রোহিঙ্গারা বিদেশি। তাই সেনাশাসনের সময় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক চাপের কাছে তারা কতটা নতি স্বীকার করে।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com