লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধান কেনার সুপারিশ

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধান কেনার সুপারিশ

পাথেয় রিপোর্ট : ধানের মূল্য নিয়ে কৃষকদের আন্দোলন এর পর এবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে কৃষকদের বাঁচাতে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধান কেনার ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। একইসঙ্গে সরকারি-বেসরকারি, যেকোনো পর্যায়ে চাল আমদানি বন্ধের পাশাপাশি সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে চাল কেনা এবং মধ্যসত্ত্বভোগীরা যাতে কোনো সুযোগ না পায় সেজন্য কঠোর নজরদারি রাখতে বলেছে কমিটি।

এছাড়া বৈঠকে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ভেজাল বিরোধী অভিযান জোরদারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটি সভাপতি মোহাম্মদ নাসিম। বৈঠকে কমিটি সদস্য খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, ধীরেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, মো. মো. আয়েন উদ্দিন ও আতাউর রহমান খান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘এবার উৎপাদন বেশি হয়েছে। এজন্য সরকারকে বলেছি, যে দেড় লাখ টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তার চেয়ে যাতে বেশি কেনা হয়। কিন্তু এবার উৎপাদন বেশি হওয়ায় আমরা তার চেয়ে বেশি কেনার জন্য বলেছি। এক্ষেত্রে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার জন্য বলা হয়েছে। যাতে মধ্যসত্ত্ব ভোগীরা ধান কোনার সুযোগ না পায়। এছাড়া ভর্তুকি দিয়ে হলেও চাল রপ্তানি করার সুপারিশ করা হয়েছে ’

সরকার ধান-চাল ক্রয়ের জন্য ২৫ এপ্রিল থেকে ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করলেও জেলায় ক্রয় অভিযান এখনও শুরু হয়নি। সরকারিভাবে এবার প্রতিকেজি ধান ২৬ টাকা এবং প্রতি কেজি চাল ৩৬ টাকায় কিনবে সরকার।

চলতি বোরো মৌসুমে সরকারের ১০ লাখ টন সেদ্ধ বোরো চাল কেনার লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া ৩৫ টাকা কেজি দরে আরও দেড় লাখ টন বোরোর আতপ চাল, ২৬ টাকা কেজিতে দেড় লাখ টন বোরো ধান এবং ২৮ টাকা কেজি দরে ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম কিনবে সরকার।

সরকারি ধান-চাল ক্রয় এখনও শুরু না হওয়ায় ফড়িয়ারা ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করে ধান কিনছে। ফলে কৃষকরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। সরকার প্রতি মণ বোরো ধান ১০৪০ টাকায় কিনলেও কৃষক পাচ্ছে তার চেয়ে অনেক কম।

এখন বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়, যেখানে ধান কাটার একজন শ্রমিককে দিতে হয় তার চেয়ে বেশি টাকা। ধানের দাম নিয়ে অসন্তোষ থেকে পাকা ক্ষেতে কৃষকের আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

বৈঠকের পর খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার জানান, ‘সারাদেশে ২০০টি পাঁচ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ‘প্যাডি সাইলো’ নির্মাণ করার পরিকল্পনা করছে সরকার। প্যাডি সাইলো নির্মাণ করা হলে কৃষক সেখানে নিজের ধান শুকিয়ে বিক্রি করতে পারবে। আগামী এক মাসের মধ্যে এ প্রকল্পের জন্য ডিপিপি প্রণয়ন করা হবে।’

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ধান যাতে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে কেনা হয় তা তদারকির জন্য ২০টি মনিটরিং টিম কাজ করবে। তারা কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করবে।’

কমিটি সূত্র জানায়, ধান ক্রয় ও চাল রপ্তানী ছাড়াও কমিটির বৈঠকে খাদ্যে ভেজাল পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে ভেজাল বিরোধী অভিযান সারা বছর অব্যাহত রাখার তাগিদ দেওয়া হয়। আর এজন্য নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম শক্তিশালী করতে জনবল বৃদ্ধি এবং প্রতিটি জেলায় কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুপারিশ করা হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *