১৯শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ৫ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৫ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

লাখো আফগান নাগরিক মৃত্যুর মুখে : জাতিসংঘ মহাসচিব

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বৈদেশিক সাহায্যের ওপর আফগানিস্তানের অর্থনীতি অনেকাংশেই নির্ভরশীল ছিল। গত আগস্টে তালেবানরা আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর দেশটির আর্থিক সঙ্কট তো বেড়েছেই, বন্ধ হয়েছে বৈদেশিক সাহায্যও। ফলশ্রুতিতে আফগানিস্তানের অর্থনীতি একরকম ভেঙেই পড়েছে। এ কারণে লাখ লাখ আফগান নাগরিক মৃত্যুর দোরগোড়ায় রয়েছেন বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতিয়েরেস।

আফগানিস্তানের আর্থিক দুর্গতি কাটাতে জাতিসংঘের ৫ বিলিয়ন ডলারের মানবিক আবেদনে তহবিল দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছেন গুতিয়েরেস। পাশাপাশি আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সঙ্কট নিরসনে দেশটির বাজেয়াপ্ত সম্পদ ছেড়ে দেওয়া এবং আফগান ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে সচল করার কথাও জানান তিনি।

এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

প্রসঙ্গত, ২০ বছর পর মার্কিন ও ন্যাটো সৈন্যরা আফগানিস্তান ছেড়ে দেওয়ার পর গত বছরের ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয় সশস্ত্র তালেবান বাহিনী। তালেবানদের ক্ষমতা দখলের পর থেকেই আফগানিস্তানের অর্থনীতি ভেঙে পড়তে শুরু করে। পরবর্তীতে সেপ্টেম্বরের শুরুতে তালেবান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার ঘোষণা দিলেও বিশ্বের কোনো দেশই এখনও পর্যন্ত তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। ফলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দাতা সংস্থা অর্থ সাহায্য বন্ধ করে দেওয়ায় দেশটির আর্থিক বিপর্যয় কেবল বেড়েছেই।

বর্তমানে ৮.৭ মিলিয়ন (৮৭ লাখ) আফগান নাগরিক অনাহারের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। আন্তোনিও গুতিয়েরেসের ভাষ্যমতে, আর্থিক সঙ্কটের প্রথমদিকে আফগান অর্থনীতিতে দ্রুত তারল্য প্রবেশ করানো গেলে লক্ষাধিক আফগান নাগরিকের দরিদ্রতা, অনাহার আর অসহায়ত্ব এড়ানো যেত।

জাতিসংঘ মহাসচিব জোর দিয়ে বলেন, বর্তমানে লাখ লাখ আফগান মৃত্যুর দোরগোড়ায় রয়েছে বিধায় বিপর্যয় ও সংকট এড়ানোটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এক সংবাদ সম্মেলনে আন্তেনিও গুতেরেস জানান, হিমায়িত তাপমাত্রা এবং হিমায়িত সম্পদ, দুটোই আফগানিস্তানের জনগণের জন্য হুমকিস্বরূপ প্রাণঘাতী বিষয়। তাই এ পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন ও সংকটাপন্ন অর্থনীতিকে বাঁচাতে প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যবহার করা থেকে বাধা দেয় এমন নিয়ম ও শর্তগুলো স্থগিত করতে হবে।

হিমায়িত সম্পদের বিষয়ে তিনি জানান, আফগানিস্তানের বৈদেশিক সাহায্যের ৭ বিলিয়ন ডলার যুক্তরাষ্ট্রে হিমায়িত রয়েছে। আর বিশ্বের অধিকাংশ আর্থিক ব্যবস্থা ডলারের ওপর নির্ভর করে চলে। কাজেই আফগান অর্থনীতির দুর্দশা কাটাতে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

এছাড়া, আফগানিস্তানের অর্থনীতির অচলাবস্থা নিরসন ও বৈদেশিক সাহায্যের বিষয়ে শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে জাতিসংঘের মানবিক প্রধান মার্টিন গ্রিফিথস এবং রেড ক্রসের ইন্টারন্যাশনাল কমিটির সভাপতি পিটার মাউরের ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

আফগানিস্তানের জন্য গত মাসে ইউনিসেফ এবং ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামকে পুনর্গঠন ট্রাস্ট তহবিল থেকে ২৮০ মিলিয়ন ডলার অর্থ সাহায্য দেয় বিশ্বব্যাংক। আফগান নাগরিকদের সঙ্কট নিরসনে বাকি থাকা ১.২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি সম্পদের ব্যবস্থা হবে বলেও নিজের আশাবাদ ব্যক্ত করেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

এছাড়া, আফগান নারীদের মৌলিক মানবাধিকারের স্বীকৃতি দিতে তালেবান নেতাদের আহ্বান করেন গুতিয়েরেস। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আফগানিস্তানে অফিস এবং শ্রেণিকক্ষে আফগান নারীদের অংশগ্রহণ নেই। নারী অধিকারের স্বীকৃতি না দিয়ে করে কোনো দেশ উন্নতির আশা করতে পারে না।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com