লেবানন সীমান্তে ‘উচ্চ সতর্কতা’ ঘোষণা ইসরায়েলের

লেবানন সীমান্তে ‘উচ্চ সতর্কতা’ ঘোষণা ইসরায়েলের

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম: লেবাননভিত্তিক প্রভাবশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর নেতা হাসান নাসরাল্লাহ গাজার সংঘাতের বিষয়ে এত দিনের নীরবতা ভেঙেছেন। তবে গতকাল শুক্রবার গোপন অবস্থান থেকে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি হামাসের হামলার প্রশংসা করলেও সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করেননি।

হিজবুল্লাহর নেতার বক্তব্যের পর গতকাল ইসরায়েল লেবাননের সঙ্গে সীমান্তে ‘অতি উচ্চ সতর্ক’ অবস্থা ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, হামাসের হাতে থাকা জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হলেই কেবল তিনি এতে রাজি হবেন।

হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহ গোপন অবস্থান থেকে দেওয়া বক্তৃতায় বলেন, ‘হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলা ছিল সঠিক, প্রাজ্ঞ ও ন্যায়ানুগ।…এ হামলা ১০০ শতাংশ ফিলিস্তিনি।’ মাইকে তাঁর ভাষণ শুনতে বৈরুতের সমাবেশে যোগ দেয় হাজারো মানুষ। নাসরাল্লাহ যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে বলেন, তারাই গাজার যুদ্ধের জন্য দায়ী।

হিজবুল্লাহপ্রধান বলেন, সীমান্তে তাদের যুদ্ধ প্রস্তুতি ‘উল্লেখযোগ্য’ মাত্রার। তিনি বলেন, ‘যারা দাবি করে, হিজবুল্লাহর এখনই শত্রুর সঙ্গে সর্বাত্মক যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া উচিত তারা সীমান্তে যা ঘটছে তাকে ন্যূনতম হিসেবেই দেখতে পারে। কিন্তু বস্তুনিষ্ঠভাবে তাকালে একে উল্লেখযোগ্য আকারেরই মনে হবে।’

নিজেদের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির জন্য পথ খোলা রেখে নাসরাল্লাহ বলেন, ‘আমি আশ্বাস দিচ্ছি, এটিই শেষ নয়।

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, যুদ্ধে যুদ্ধে ক্লান্ত লেবাননিদের নতুন আরেকটি সংঘাতের বিষয়ে অনাগ্রহ এবং ভূমধ্যসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতিও হয়তো হিজবুল্লাহপ্রধানের সরাসরি যুদ্ধের ডাক না দেওয়ার কারণ।

গাজায় ইসরায়েলি প্রাণঘাতী ও ধ্বংসাত্মক হামলার প্রেক্ষাপটে হিজবুল্লাহ দক্ষিণ লেবানন থেকে উত্তর ইসরায়েলে বিক্ষিপ্ত আক্রমণ চালাচ্ছে। এ পর্যন্ত তাদের হামলা সীমিত পরিসরে থাকলেও ওই সীমান্তে সংঘাত বেড়ে যেতে পারে বলে অনেকের আশঙ্কা।

হিজবুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচিত। ইসরায়েল সতর্ক করে দিয়ে এরই মধ্যে বলেছে, এ বাহিনী গাজার যুদ্ধে যোগ দিলে ‘অকল্পনীয়’ পরিণতি হবে।

যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নাকচ নেতানিয়াহুর

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আবারও গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন গাজায় আরো ত্রাণ সাহায্য প্রবেশের সুযোগ দিতে সংঘাতে ‘মানবিক বিরতির’ আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করার পর পর এক টিভি ভাষণে নেতানিয়াহু এই কথা বলেন। ব্লিনকেন বলেছিলেন, ‘এ ধরনের যুদ্ধবিরতি জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার ভালো পরিবেশ তৈরি করতে পারে।’

ব্লিনকেন তখন আরো বলেন, ‘কিভাবে মানবিক যুদ্ধবিরতি কাজ করতে পারে, তার বিশদগুলো ঠিক করা হচ্ছে। এটি কিভাবে হবে, সে সম্পর্কে ইসরায়েলের যৌক্তিক প্রশ্ন রয়েছে।’

যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়া এড়ানোর লক্ষ্যে অ্যান্টনি ব্লিনকেনের ইসরায়েলের প্রতিবেশী জর্দানও সফর করার কথা।

হাসপাতালের কাছে বিস্ফোরণ

গত রাতে গাজা শহরের প্রধান হাসপাতাল আল শিফার বাইরে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি হাসপাতালের বাইরে একটি ক্ষতিগ্রস্ত অ্যাম্বুল্যান্সের ছবি শেয়ার করেছে। এতে বলা হয়েছে, গাজার রাফাহ সীমান্তে আহত ফিলিস্তিনিদের নামিয়ে দিয়ে ফেরার পথে ওই অ্যাম্বুল্যান্সে গোলা আঘাত হানে।

জিম্মির খোঁজে মার্কিন ড্রোন

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামাসের হাতে আটক ইসরায়েলি জিম্মিদের সন্ধানে সহায়তা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি ড্রোন গাজার ওপর দিয়ে উড়ছে। নাম না জানা দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ড্রোনগুলো এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলছে। দুজন মার্কিন কর্মকর্তা বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএসকে ড্রোন ওড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গাজায় হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ৯ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যার প্রায় অর্ধেক শিশু। গাজায় কর্মরত আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা হামাস কর্তৃপক্ষের দেওয়া এই হতাহতের সংখ্যা নির্ভরযোগ্য বলেই জানিয়েছেন।

 

সূত্র : এএফপি, বিবিসি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *