শরিফ হাসানাতের কবিতা- মুহাম্মদ  (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)

শরিফ হাসানাতের কবিতা- মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)

মুহাম্মদ

(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)

কী এক বছর ছিল ৫৭০ খ্রিস্টাব্দ!

একজন মানুষ জন্মগ্রহণ করেছিলেন,

একজন নবী হবেন, নবীদেরও সরদার

মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

তাঁর নাম ছিল, কত মধুময়।

মানুষ বিপথগামী ছিল যখন তিনি এলেন

উপেক্ষা করে গেলেন পাথরের মূর্তি সমস্ত

তিনি যে সমগ্র মানবজাতির জন্য—

এক উদাহরণ—সে কথা কি কেউ জানতো!

রবি-উল-আউয়াল—

সে এক বরকতময় দিন ছিল!

সিরাতে মুস্তাকিম দেখাতেই—আমাদেকে

তিনি এসেছিলেন বসুন্ধরায়

জন্মগ্রহণ করেন পবিত্রতম মক্কায়।

মুখোমুখি হতে হয়েছিল চ্যালেঞ্জ পূর্ণ এক জীবনের

ততক্ষণে ইহকাল ত্যাগ করেন বাবা আবদুল্লাহ

মা আমিনার কোলে দোলে দোলে

ঘুমিয়ে পড়েন শিশু মুহাম্মাদ—

তারপর,

দেখভালের দায়িত্ব নেন তাঁর—হালিমা সাদিয়া।

ছয় বছর বয়স অবধি সেখানই ছিলেন নবিজী আমার

মমতাময়ী মা-ও ইন্তেকাল করেন তখন,

তিনি বড়ো একা হয়ে পড়েন

আবদুল মুত্তালিব, দাদাজান

নিজের করে নেন তাঁর সোহাগ ছায়ায়

নবিজীর বয়স যখন নয়,

সেই ছায়াদার দাদাজানও মারা যান—

তারপর,

চাচা আবু তালিব হোন তাঁর নতুন পথপ্রদর্শক।

বিশ বছর বয়সে—

নবিজী আমার হয়ে ওঠেন একজন বিশ্বস্ত সওদাগর

ভূষিত হোন ‘আল-আমিন, উপাধি ভূষণে

চল্লিশ বছর বয়স খাদিজার,

নবিজীর কনে হয়েছিলেন তাঁর

পঁচিশ বছর বয়সে নবিজী আমার

তাঁর পাশে তাঁর সাথে জীবনান্দে করেন দিনপার।

আম্মাজান খাদিজাতুল কুবরা—

দরিদ্রদের জন্য বিলিয়ে দিয়েছিলেন

সমস্ত সম্পদ দুহাত ভরে

অসুস্থতা ও স্বাস্থ্যে ছিলেন

একজন নিবেদিতপ্রাণ।

তিন শত ষাটটি মূর্তি ছিল তখন কাবায়—

নবিজী আমার বুঝতে পেরেছিলেন

এ এক ঘোরতর অন্যায়

বিবিকে রেখে তিনি যেতেন সন্তর্পনে হেরা গুহায়

জীবনের অর্থ সম্পর্কে তাঁর চোখমুখে তুমুল বিস্ময়।

ভাবতে ভাবতে গভীর রাতে—

শুনতে পেলেন এক উচ্চস্বর

ভয়ও পেলেছিলেন তিনি ভীষণরকম।

ফেরেশতা জিবরাইল পড়তে বলেছিলেন তাকে

পড়তে পারেননি নবীজি

অতঃপর জড়িয়ে ধরলেন বুকে

বললেন আবার,

পড়ুন, আপনার প্রতিপালকের নামে।

সৃজন করেছেন যিনি—

এক ফোঁটা রক্ত থেকে—মানুষকে

কিংকর্তব্যবিমূঢ় নবিজী আমার

বুদ্ধিমতী স্ত্রী বুঝতে পেরেছিলেন এ ব্যাপার

ধীর কদমে কদমে হেঁটে গেলেন সোজা পথে

আমাদের প্রাণের নবী, আমাদের পরশমণি

শুনতে পেলেন জান্নাত থেকে এক কণ্ঠস্বর

বলা হয়েছিল—

মুহাম্মাদ, সত্যিই আপনি আল্লাহর রাসূল

তিনি ভয় পেয়েছিলেন—অদ্ভুত ভেবেছিলেন খুব।

‘আলহামদুলিল্লাহ‘ তাঁর স্ত্রী বললেন—

আমি জানি, আপনি আল্লাহর

বার্তাবাহক হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন”

এইভাবে খাদিজা (রা.) ইসলামের প্রথম মহিলা হয়েছিলেন

তারপর ওহী আসে তেইশ বছরে—আল-কুরআন।

প্রচার করেছিলেন তিনি ক্রমশ সত্যবাণী

মানুষ থেকে মানুষে,

গোত্র থেকে গোত্রে,

দেশ থেকে দেশে,

সম্মুখিন হতে হয়েছিল—

কষ্টের প্রাচীর ও পাহাড়ের

জীবনের ভয় ছিল পরতে পরতে।

তারপর একদিন,

হিজরত করেছিলেন

প্রবেশ করেন মদিনায়

অমনি মুনাওয়ারা হয়ে গেলে সমস্ত শহর

দিকে দিনে বয়ে গেল অভ্যর্থনা সুরনহর

আনসারদের মুখে মুখে আনন্দগান

মুহাজিরদের সাথে

ভাইয়ের মতো আচরণ করেছিলেন তাঁরা।

তারপর এলো যুদ্ধ,

মুখোমুখি লড়াই

বিজয় হল নবিজীর জন্মস্থান মক্কা

নুশরত ঝরল বৃষ্টি মতো দিকে দিকে

“ইযা যা আনাসরুল্লাহি ওয়াল ফাতহ্”।

বুঝলেন যখন নবিজী আমার

ঘনিয়ে এসেছে সময় তাঁর

আরাফাতের ময়দানে—

শেষ ভাষণ শোনালেন সাহাবীদের

শেষ করলেন এই বলে

“উপস্থিত ব্যক্তিদের দায়িত্ব হবে

আমার এ কথাগুলো,

অনুপস্থিত লোকদের কাছে

পৌঁছে দেওয়া।”

কী এক অলৌকিক কুরআন নিয়ে এলেন!

যার আলো অগণন মানুষের হৃদয়ে

আমাদের আদর্শ তিনি, মানবজাতির মডেল

কুরআন ও সুন্নাহর পথে হেঁটে যায় মুমিন

মানুষের হেদায়েতের আলোকবর্তিকা কুরআন

জান্নাত পাওয়ার এক অদ্বিতীয় পথ—সুন্নাহ

হে মানুষ, সালাম ও দরূদ পাঠাও তাঁর রওজায়।

তিনি এসেছিলেন দেখাতে—

সিরাতে মুস্তাকিম মানবজাতিকে

ইনশা-আল্লাহ, তাঁর সাথে দেখা করব,

আমরা তার সাথে দেখা করব একদিন

হাউজে কাউসারে ও জান্নাতে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *