২৭শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৯শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

হে আদম সন্তান! – শাহ ওলিউল্লাহ (রহ.)

মূল: শাহ ওলিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলবি
অনুবাদ: মওলবি আশরাফ

আমি সর্বসাধারণ মুসলমানদের উদ্দেশ্যে বলছি, হে আদমসন্তান, তাকিয়ে দেখো তোমাদের চিন্তা আদর্শ ঘুমিয়ে পড়েছে। তোমরা অন্ধের মতো উলটোপথে হেঁটে চলছো। শয়তান তোমাদের কাবু করে ফেলেছে। তোমাদের নারীরা পুরুষদের মাথায় চড়ে বসেছে, আর তোমাদের পুরুষেরা নারীদের হক নষ্ট করছে। নিজেদের আরাম-আয়েশের জন্য দেদারসে হারাম কাজ করে যাচ্ছো। হালাল কাজ তোমাদের কাছে এখন আর ভালো লাগে না। আল্লাহর কসম, আল্লাহ কখনো কাউকে তার সাধ্যের বাইরে কিছু করতে বলেন নাই। তোমার যদি যৌন আবেগ খুব বেশি থাকে, বিয়ের মধ্য দিয়ে পূর্ণ করো, যদি এক নারীতে খাহেশ না মিটে তাহলে একাধিক বিয়ে করো। অপব্যয় করে কষ্টে জীবনযাপন কোরো না, পরিমিত ব্যয় করে শান্তিতে থাকো। মনে রেখো, একজনের বোঝা আরেকজন কাঁধে উঠায় না, আর নিজেও খামোখা পরিশ্রম কোরো না।

বান্দা সবসময় সহজতর পথ অবলম্বন করবে আল্লাহ তাআলা এমনটাই পছন্দ করেন। এবং এটাও পছন্দ করেন যে বান্দা তার হুকুম-আহকামের সর্বোচ্চ পাবন্দি করবে। নিজের পেট খালি রাখবে না, সবসময় এই পরিমাণ উপার্জন করবে যেন খেয়েদেয়েও অন্যান্য প্রয়োজন পূরণ সম্ভব। কখনো অন্যের বুকের বোঝা হওয়ার চিন্তা করবে না। এমন যেন না হয় মানুষের কাছে হাত পাতছো আর মানুষ তোমাকে তাড়িয়ে দিল। সরকারের ওপরেও নির্ভর হবে না। তুমি নিজে কামাই করে খাবে—এটাই সর্বোত্তম পন্থা। যদি তুমি এই কাজ করো তাহলে আল্লাহ তাআলা তোমাকে সচ্ছল জীবন দান করবেন, আর এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

হে আদমসন্তান, আল্লাহ যদি কাউকে এক জায়গায় নিশ্চিন্তে নির্বিঘ্নে রাখেন, তার তৃষ্ণা মিটাবার পানি দেন, পেটপুরে খেতে দেন, শরীর ঢাকার কাপড় দেন, এমন স্ত্রী দেন যে নিজের লজ্জাস্থান হেফাজত করে এবং স্বামীর সংসারে সবধরনের সহায়তা করে, তাহলে মনে রেখো—ওই লোক দুনিয়ার সবই পেয়েছে, তার আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা উচিৎ।

যেকোনো পন্থায় উপার্জনের পথ খুঁজে বের করবে, এবং তার সাথে অল্পেতুষ্ট হয়ে নিজের মতো করে জীবনযাপন করবে। সর্বক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করবে। সবসময় আল্লাহকে স্মরণ করবে। যেই সময় তুমি পেয়েছো তাকে গনিমত মনে করবে। দিন ও রাতে অন্তত তিনবার আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন হবে। আল্লাহর স্মরণে তাসবিহ-তাহলিল পড়বে। কোরআন পাঠ করবে। আল্লাহর মহানত্ব নিয়ে আলোচনা করবে। হাদিস শোনার মজলিস বানাবে।

হে আদমসন্তান, তোমরা এমন নষ্ট প্রথা পালন করেছো যার ফলে দীন-ধর্মের প্রকৃত রূপই বদলে গেছে। তোমরা আশুরার দিন মিথ্যার ওপর একত্র হও, তারপর শবে বরাতে খেলতামাশা করো আর খানাপিনার উৎসবে মেতে উঠো। এরকম আরও অনেক মন্দ রসম-রেওয়াজ তোমরা পালন করো—যেসব তোমাদেরকে আল্লাহর পথ থেকে সরিয়ে দিচ্ছে। আত্মীয়স্বজনকে দাওয়াত দিয়ে তোমরা ভাসা-ভাসা খাতিরদারি দেখাও। এছাড়াও তোমরা এই কুপ্রথা জিইয়ে রেখেছো যে—তালাকের প্রয়োজন হলেও স্ত্রীকে তালাক দিতে চাও না, যেন তালাক দেওয়া নাজায়েজ। বিধবাদের বিয়ে করতে নিরুৎসাহিত করো। এসব কুপ্রথা টিকিয়ে রাখতে তোমরা জান-মাল সব উজাড় করে দিচ্ছো। অন্যদিকে যেইসব রসম-রেওয়াজ তোমাদের অনুসরণ প্রয়োজন সেসব বেমালুম ভুলে গেছো।

তোমরা নামাজ ছেড়ে দিয়েছো। তোমাদের কিছু লোক দুনিয়াদারি আর অর্থ উপার্জনের চক্করে এমনভাবে আটকে গেছে যে নামাজেরই সময় পায় না। কিছু লোক গল্পগুজব করে সময় কাটায়, ভালো কথা, তারপরও সময় করে যদি মসজিদে যায় তাহলে তাদের নামাজ কাজা হয় না। তোমরা জাকাত দেওয়াও ছেড়ে দিয়েছো, অথচ এমন কোনো ধনবান লোক নাই যার আত্মীয়স্বজন ও আশপাশে জাকাত গ্রহণের উপযোগী লোক নাই। যদি তাদেরকে সাহায্য করে, তাদের খাওয়ায়-পরায়—সেটাও অনেক কিছু।

তোমাদের কেউ কেউ রোজা রাখা ছেড়ে দিয়েছে। বিশেষ করে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। বলা হয় তারা রোজা রাখতে সক্ষম না, মানে যেই পরিমাণ তারা মেহনত করে তার কারণে রোজার কষ্ট সইতে পারবে না। তোমাদের বোঝা উচিৎ তোমরা ভুল পথে চলছো, এবং রাষ্ট্রের ওপর বোঝা হয়ে আছো। অথচ কিছু লোক এমনও আছে যারা সেহরি করতে পারে না তবু রোজা রাখে, এবং এর ফলে তাদের অনেক কষ্ট হয়। [তাই তোমাদের কিছুতেই আল্লাহর হুকুমে ফাঁকফোকর খোঁজা উচিৎ নয়।]

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com