১৭ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৩ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

শিক্ষকতায় প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই

শিক্ষকতায় প্রশিক্ষণ অতীব জরুরি বিষয়
শিক্ষকতায় প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই

মাসউদুল কাদির : মানসম্মত শিক্ষার কথা বলবার আগে ইসলামের শাশ্বত সৌন্দর্যকে যিনি তুলে ধরেছিলেন সেই নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি উদ্বৃতি দিয়ে শুরু করছি। তিনি বলেছেন, সাল্লু কামা রায়াইতমুুনি উ-সাল্লী। অর্থাৎ তোমরা ঠিক সেইভাবে নামায পড়ো যেইভাবে আমাকে পড়তে দেখেছো। [বুখারী ও মুসলিম]।

আজকাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে যেসব প্রশিক্ষণ হয় তা কতটুকু কার্যকর তা নিয়ে আমাদের ভাবা উচিত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধরন বদলেছে, বদলেছে দেশ-সমাজ-উন্নয়ন-তথ্যপ্রযুক্তি। প্রতিটি ক্ষেত্রেই মানের দিক থেকে উন্নয়ন ছাড়া বিকল্প কোনো সুযোগ নেই। আমরা জানি, দেশের প্রাথমিক থেকে শুরু করে মাধ্যমিকে ব্যাপক হারে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে এবং ক্রমাগত বাড়ছে। সুখের কথা হলো, প্রতি বছরই বই উৎসবের মাধ্যমে গ্রামগঞ্জেও শিক্ষার আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে। এতে গ্রামের অভিভাবক অভিভাবিকাগণও স্কুলে সন্তানদের পাঠাতে উৎসাহিত বোধ করছেন। পুলকিত হওয়ার বিষয় হলো, সবকিছু সে ঙ্গ পাল্লা দিয়ে প্রতিবছর পাসের হার বাড়ছে। পিইসি, জেএসসি, এসএসসিতে জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা আমাদের আশাবাদী করে তুলছে।

নবীজী যেমন নামাজের বেলায় বলেছিলেন, আমাকে যেমন দেখছো সেভাবে নামাজ পড়ো। সেই চর্চাটা শিক্ষায় কতটুকু আছে। এত এত জিপি ৫ দিয়ে কি শিক্ষার প্রকৃত মান যাচাই করা সম্ভব? আজকাল তো যত্রতত্রই স্কুল প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। কিন্তু মানের দিকে কার খেয়াল আছে?

কিন্তু প্রত্যন্ত এলাকায়ও এখন মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। হয়তো এমন কোনো গ্রাম এখন আর খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেখানে কোনো স্কুল নেই। সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। এসব স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু শিক্ষার মান কি নিশ্চিত করতে পারছে এসব প্রতিষ্ঠান? কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তো বাণিজ্যের অভিযোগও আছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, দেশের সরকারি ও এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল-কলেজ ও মাদরাসায় শিক্ষক সংখ্যা চার লাখ ৩১ হাজার ৩২২ জন। এর মধ্যে বিএড প্রশিক্ষণ নেই এক লাখ ৫৮ হাজার ৭২২ জন শিক্ষকের। প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষকের বেশির ভাগই মাদরাসার।

প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের তো সুযোগ আছে। প্রশিক্ষণ পাওয়া ও প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষকগণ নিজেরাই পার্থক্যটা আঁচ করতে পারবেন। নিজের শিক্ষণ যাচাইয়ের যে সুযোগ তৈরী হয় তা দিয়েই নিজেকে গড়তে পারেন। আবশ্যকীয় শিক্ষণ দক্ষতাও তিনি অর্জন করেন। এর পাশাপাশি শিক্ষা গবেষণা, জেন্ডার স্টাডিজ, শিক্ষণ কৌশল এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি সম্পর্কেও তিনি সম্যক জ্ঞান অর্জন করতে পারেন।

কেবল শিক্ষাগত-পুথিগত যোগ্যতায় একজন মানুষ শিক্ষক হয়ে উঠতে পারেন না। শিক্ষকতার সঙ্গে প্রশিক্ষণের সম্পর্ক নিবিড়। শিক্ষকগণের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে সরকারকে আরও কঠোর বাধ্যতামূলক নীতির দিকে অগ্রসর হতে হবে।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com