৩রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২৭শে রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংবিধান ও আইন মেনে চলার নির্দেশ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মাদরাসাসহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সংবিধান ও প্রচলিত আইন মেনে চলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

চট্টগ্রামের হাটহাজারীর একটি মাদরাসায় আট বছরের এক শিশু ছাত্রকে বেধড়ক মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ আদেশ দিলেন আদালত।

এদিকে নির্যাতনের শিকার ওই শিশু ছাত্রের পড়ালেখা যাতে ব্যাহত না হয় সেদিকে নজর রাখতে চট্টগ্রামের স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শিশুটি ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিনের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল রবিবার স্বপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন। আট বছর বয়সী ছাত্রকে বেধড়ক মারধরের ঘটনায় পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার আদালতের নজরে আনার পর আদেশ দেন।

হাইকোর্ট গত ১১ মার্চ এক আদেশে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক মাওলানা ইয়াহিয়া ইসলামের বিরুদ্ধে আইনানুগভাবে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, নির্যাতনের শিকার শিশুর পরিবারকে কোনো চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল কি না, শিশুটিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে কি না, শিশুটির পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয় জানতে চান। রবিবারের মধ্যে তা জানাতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) ও হাটহাজারী থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ আদেশে গতকাল নির্ধারিত দিনে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক, এসপিসহ সংশ্লিষ্টরা হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্যাতনের শিকার শিশুটির মা-বাবা অত্যন্ত ধর্মভীরু হওয়ায় তাঁরা তাঁদের সন্তানের শিক্ষক এবং কোরআনে হাফেজের বিরুদ্ধে মামলা করতে রাজি হননি। পরে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয় ও মামলা করা হয়। এরপর তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার করে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশু শিক্ষার্থীকে মারধরের ভিডিও ভাইরালের পর ওই শিক্ষককে মাদরাসা থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: হেফজখানায় বেত্রাঘাতে ছাত্র অজ্ঞান, শিক্ষকের কারাদণ্ড

জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে যেন ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনা না ঘটে। এ ছাড়া শিশুটির গ্রামের বাড়িতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শিশুটিকে চিকিৎসাও দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিবেদন দেখার পর আদালত স্থানীয় প্রশাসনকে শিশুটির পড়ালেখা ও নিরাপত্তার বিষয়ে উল্লিখিত নির্দেশনা দেন।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com