২৮শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ২৬শে শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

শিবিরের রাজনীতিতেই জঙ্গি শামিমের হাতেখড়ি

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যার দায়ে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের আট সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তাদের মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত গলায় ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে রেখে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দিয়েছেন বিচারক।

বুধবার ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে মইনুল হাসান শামিম ওরফে সিফাত সামিরের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার মাধবপুর গ্রামে। তার বাবা মৃত আবদুল কুদ্দুছ ছিলেন এলাকার সুপরিচিত ব্যাক্তি।

ছাতক থানা​ সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্টে হিযবুত তাওহীদের প্রচারপত্র বিতরণের সময় পুলিশ শামীমকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে ছাতক থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা হয়। ওই মামলায় পুলিশ তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।

এক পর্যায়ে শামীম সুনামগঞ্জের সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে অস্থায়ী জামিনে মুক্তি পান। পরে উচ্চ আদালত মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে স্থায়ী জামিন দেন।

জামিন পেয়ে তিনি ছাতক থেকে সিলেটে লেখাপড়া করতে চলে যান। শামীম সিলেটে থাকা অবস্থায় বছরে দু-একবার বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন এবং খুব কম সময় বাড়িতে অবস্থান করতেন।

এ সময়ে তিনি যোগ দেন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমে (এবিটি)। এবিটি নিষিদ্ধের পর নেতাকর্মীরা আনসার আল-ইসলামের ব্যানারে সংগঠিত হয়। কয়েক মাস ঢাকার মোহাম্মদপুরের নবোদয় হাউজিং এলাকায় বোমা তৈরির প্রশিক্ষণও নেন তিনি। এরপর ব্লগার, মুক্তমনা লেখকের ওপর হামলার নেতৃত্ব দিতে থাকেন শামীম। জঙ্গিদের অস্ত্র প্রশিক্ষণও দিতে শুরু করেন। একপর্যায়ে শাহবাগে প্রকাশক দীপন ও সাভারে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র রিয়াদকে হত্যা করেন তিনি।

ছাতকের হাজী কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে শামীম শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেখানেই তার রাজনীতির হাতেখড়ি হয়। ছাতক থানা ও স্থানীয় সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

জানা গেছে, ছয় ভাইবোনের মধ্যে শামীম সবার ছোট। বড় ভাই আবু জাফর টিপু ছাতক শহরে একসময় রেস্টুরেন্টের ব্যবসা করতেন। অপর দুই ভাই নাজমুল হাসান লিটু ও মঞ্জুরুল হাসান মনজু লন্ডনে আছেন। দুই বোনের বিয়ে হয়েছে। বাবা আবদুল কুদ্দুছ প্রায় দশ বছর আগে মারা গেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, শামীমকে এলাকায় কম দেখা যেতো। এলাকার লোকজন জানেন, শামীম সিলেটের মদনমোহন কলেজে লেখাপড়া করছেন। এক প্রতিবেশী বলেন, শামীম খুবই বিনয়ী ছেলে ছিলেন। কম কথা বলতেন। মানুষের সঙ্গে মেলামেশাও করতেন কম। তাদের পরিবার এলাকায় বেশ পরিচিত। তার বাবা এলাকার একজন সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন।

শামীমের বড় ভাই আবু জাফর টিপু বলেন, আমার ভাই খুবই নিরীহ প্রকৃতির ছেলে। যে ছেলে রাতে ভয়ে ঘর থেকে বের হতো না, এখন শুনি সে ঢাকায় গিয়ে বড় সন্ত্রাসী হয়েছে, মানুষ খুন করেছে। আমরা এর কিছুই জানি না। তখন থেকে তার সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর বিকেলে আজিজ সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় জাগৃতি প্রকাশনীর কার্যালয়ে ফয়সল আরেফিন দীপনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই প্রকাশনা থেকে জঙ্গি হামলায় নিহত অভিজিৎ রায়ের ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’ বইটি প্রকাশ করা হয়েছিল। প্রকাশক দীপন হত্যা ছাড়াও ২০১৫ সালের ৪ জানুয়ারি সাভারের শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিয়াদ মোর্শেদ বাবুকেও হত্যার অভিযোগ রয়েছে শামীমের বিরুদ্ধে।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com