২৩শে মার্চ, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই চৈত্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ৩০শে শাবান, ১৪৪৪ হিজরি

শীতের সবজিতে আর স্বস্তি নেই

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : কয়েকদিন আগেও শীত মৌসুমের সব ধরনের সবজি ছিল ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে। স্বস্তি নিয়েই সবজিগুলো কিনতে পারতেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু কিছুদিনের ব্যবধানে হঠাৎ বেড়ে গেছে সব ধরনের সবজির দাম। প্রতিটি সবজি কেজি প্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, কয়েকদিন আগে দাম কম থাকলেও সবজির বাজারে এখন আর স্বস্তি নেই।

শীতের দোহাই দিয়ে ব্যবসায়ীরা বলছেন, গ্রামাঞ্চলে অতিরিক্ত শীতের কারণে ফসল তুলতে পারছেন না কৃষকরা। ফলে এর প্রভাব পড়েছে রাজধানীর বাজারে। এছাড়া কয়েকদিন আগে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের কারণে টঙ্গীতে প্রচুর পরিমাণে সবজির চাহিদা ছিল। সেসময় সবজির দাম বেড়ে আর কমেনি। পাশাপাশি আগামী ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের সময়ও সবজির দাম চড়া থাকতে পারে। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে শীত কিছুটা কমে এলে সবজির সরবরাহ বাড়বে। তখন আবারও সবজি দাম কমতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন সবজির বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় অস্বস্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

বাজার ঘুরে দেখে গেছে, কয়েক দিন আগেও যে টমেটো ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছিল সেটি এখন ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি কয়েকদিন আগেও বিক্রি হয়েছে ২৫/৩০ টাকায়। সেই ফুলকপি এখন আকার ভেদে ৪০/৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে কিছুদিন আগেও শসা বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকায়, এখন তা ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

পাশাপাশি প্রতি পিস বাঁধাকপি ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৩০ টাকা কেজির শিমের দাম ঠেঁকেছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। বেগুন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। এছাড়া শালগম ৩০ টাকা, ঝিঙে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বরবটি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১০০ টাকায়। নতুন পেঁয়াজ কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা ও নতুন আলু ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমরা প্রতি কেজি ৪০ টাকা ও পেঁপে প্রতি কেজি ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

হঠাৎ কেন শীতকালীন সবজির দাম বেড়ে গেল? এমন প্রশ্নের উত্তরে রাজধানীর শেওড়াপাড়া এলাকার সবজি বিক্রেতা নাসির উদ্দিন বলেন, গত কয়েকদিন ধরে গ্রামে প্রচুর শীত ও কুয়াশা পড়েছে। যে কারণে কৃষকরা তাদের ফসল তুলতে পারছে না। ফলে বাজারে কিছুটা এর প্রভাব পড়েছে, সরবরাহ কম থাকায় সব ধরনের সবজির দামই বেড়েছে। আমরা কারওয়ান বাজারসহ মিরপুর ১ নম্বর, আব্দুল্লাহপুর কাঁচা বাজারের আড়ৎ থেকে পাইকারি সবজির কিনতে গেলে দাম বেশি পড়েছে। পাইকারি বাজার থেকে সবজি কিনে আনার সময় পরিবহন খরচ ও শ্রমিক খরচ দিতে হয়। সে কারণে খুচরা বাজারে বিক্রির সময় এর প্রভাব পড়ে। আর তাতেই কিছুটা বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

একই বাজারে সকালে সবজি কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী খাদেমুল ইসলাম বলেন, কয়েকদিন আগেও কিছুটা কম দামে সব ধরনের সবজি কিনতে পেরেছি। তবে গত এক সপ্তাহের কিছু বেশি সময় ধরে সব ধরনের সবজির বাড়তি দাম যাচ্ছে। কয়েকদিন আগেও শিম ও টমেটো কিনেছি ৩০ টাকার মধ্যে, এখন সেগুলো হয়েছে ৫০ টাকা। ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমত যখন তখন দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে, কিন্তু সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে কেউ কথা বলছে না। বাধ্য হয়ে আমাদের মতো ক্রেতাদের বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। শীতের ভরা মৌসুমেও যদি সবজির দাম বাড়তি হয়ে যায়, তাহলে অন্য সময়ে এই দাম কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা ধারণা করতেও ভয় লাগে।

শীতের ভরা মৌসুমে হঠাৎ সবজির দাম বৃদ্ধির কারণ জানিয়ে রাজধানীর মালিবাগ এলাকার ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম বলেন, গ্রামে প্রচণ্ড শীতের কারণে ফসল তোলার শ্রমিকের সংকট। সেই সঙ্গে কুয়াশার কারণে পণ্য পরিবহন করাও কঠিন ছিল। সব মিলিয়ে কিছুদিন ধরে বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।

এই ব্যবসায়ী বলেন, রাজধানীতে প্রথম পর্বের ইজতেমার সময় লাখ লাখ মানুষের জন্য অতিরিক্ত সবজির চাহিদা ছিল। রাজধানীতে আসা সবজিগুলোর একটি বড় অংশ সেখানে সরবরাহ হয়েছে। যে কারণে হঠাৎ সবজির দাম বেড়ে যায়। তখন থেকে সবজির দাম বেড়েছে। একইভাবে ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের সময় সবজির দাম বেড়ে যেতে পারে। তবে কৃষকরা জমি থেকে ফসল থেকে তোলা শুরু করলে সবজির দাম আবার কমে আসবে।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com