শুধু চাকরির পিছে না ছুটে কাজে লাগান নিজের সুপ্ত কর্মদক্ষতা: প্রধানমন্ত্রী

শুধু চাকরির পিছে না ছুটে কাজে লাগান নিজের সুপ্ত কর্মদক্ষতা: প্রধানমন্ত্রী

পাথেয় টেয়েনিটফোর ডটকম: শুধুমাত্র চাকরীর মুখাপেক্ষী হয়ে বসে না থেকে বেকার যুবসমাজকে তারুণ্যদীপ্ত সুপ্ত কর্মদক্ষতাকে ব্যববহার করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধুমাত্র চাকরির মুখাপেক্ষী হয়ে বসে থাকলে চলবে না। তরুণদের মাঝে যে সুপ্ত শক্তি রয়েছে একটা কিছু তৈরি করার, তার চিন্তা এবং মননকে বিকশিত করার, সেই কর্মদক্ষতাকে কাজে লাগাতে হবে। নিজে কাজ করবে এবং আরো দশজনকে সে কাজের সুযোগ করে দেবে।’

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে তার তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে (পিএমও) জাতীয় যুব পুরস্কার ২০১৯ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের অগ্রগতি আমাদের এই তারুণ্যের শক্তি। তারুণ্যই পারে বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে। কাজেই সেই লক্ষ্য নিয়েই যুব সমাজকে আরো কর্মক্ষম করে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।’

তিনি অনুষ্ঠানে ২২ জন আত্মকর্মী এবং পাঁচ যুব সংগঠনের মাঝে পদক প্রদান করেন। ১৯৮৬ সাল থেকে প্রদান করা এ পুরস্কারে এ পর্যন্ত ৪৪৫ জন আত্মকর্মী সম্মানীত হয়েছেন।

শেখ হাসিনা তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘চাকরি না করে চাকরি দেব বা দিতে পারবো। সেই সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। সেই চিন্তাটা মাথায় থাকতে হবে এবং আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। আত্মমর্যাদাবোধ থাকতে হবে। সেটা থাকলে আমারতো মনে হয় বাংলাদেশে আর কেউ বেকার থাকবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের একটা লক্ষ্য হচ্ছে যে, এই মুজিববর্ষকে ঘিরে বাংলাদেশে আর কেউ যেন বেকার না থাকে। তিনি দুটি ঘটনার উদাহারণ টেনে চাকরি না করলেই কাউকে বেকার ভাবার মন মানসিকতাও পরিবর্তনের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

শুধুমাত্র চাকরি করার মানসিকতাকে পাল্টাতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের এই মানসিকতাটা বদলাতে হবে। কারণ, আমাদের দেশের মানুষের মাথার মধ্যে ওই একটা জিনিস ঢুকে আছে, চাকরি ছাড়া যেন আর কিছুই করা যায় না। অথচ ফ্রিলান্সিং কাজ করে মাসে ২ থেকে ৩ লাখ পর্যন্ত টাকা আয় করা যায়।’

‘লার্নিং এন্ড আর্নিং’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রয়োজনে কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে এক একজন স্বাবলম্বী হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনলাইনে কাজ করেই এখন ঘরে বসেই মানুষ অনেক টাকা রোজগার করতে পারছে।’

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল । যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. আখতার হোসেন স্বাগত বক্তৃতা করেন। এছাড়াও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আখতারুজ্জামান খান কবির।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *