পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ‘বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের চেতনাই আমাদের চেতনা। এই জন্মের চেতনা থেকে আওয়ামী লীগকে বিলুপ্ত করা সম্ভব নয়। শত ষড়যন্ত্র করেও আওয়ামী লীগকে বিলুপ্ত করা যাবে না।’
বুধবার (২৩ জুন) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সূচনা বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে যুক্ত হন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশ যখন স্বল্প সময়ের ব্যবধানে জাতির পিতার নেতৃত্বে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করছিল, তখনই মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শত্রুরা তথা বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কজনক হত্যাকাণ্ড ১৫ই আগস্টের মধ্য দিয়ে জাতি হারায় তার শ্রেষ্ঠ সন্তান স্বাধীন বাংলার স্থপতি, জাতীয় পতাকার মানচিত্রকর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।’
তিনি বলেন, ‘পঁচাত্তরের হত্যার মধ্য দিয়ে শুরু হয় ইতিহাসের উল্টো পথে যাত্রা। ফিরে আসে পাকিস্তানি ভাবাদর্শের প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতি। নির্বাসিত হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, নির্বাসিত হয় মুক্তিযুদ্ধের রণধ্বনি জয় বাংলা। আওয়ামী লীগ পতিত হয় এক বৈরী প্রতিকূল অবস্থায়। ফিরে আসেন আশার বাতিঘর বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।’
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার ৬ বছর পর তিনি বাংলাদেশে এসে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। প্রতিকূল স্রোতে দীপ্ত গতিতে এগিয়ে নেন এই দলকে। একটি দল ধীরে ধীরে ইতিহাসের চড়াই-উতরাই পেরিয়ে, সংকট মাড়িয়ে প্রবল জনশক্তি, জীবনঘনিষ্ঠ কর্মসূচি নিয়ে জনতার মনিকোঠায় ঠাঁই করে নিয়েছে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে।’
তিনি বলেন, ‘বাহাত্তর বছরের আওয়ামী লীগ আক্ষরিক অর্থে বৃদ্ধ। কিন্তু আওয়ামী লীগ কি বৃদ্ধ হয়েছে? আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার হাত ধরে চির সবুজ ও চির তারুণ্যের দল। আওয়ামী লীগ যেমন বৃদ্ধ হয়নি, তেমনই আমাদের তেহাত্তর বছর বয়সী সভাপতি শেখ হাসিনার গতিময়তা এরাবিয়ান হর্সের মতো। এটা আমাদের গর্ব, এটা আমাদের সম্পদ।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যারা উন্নয়ন দেখতে পায় না, এই অর্জন দেখতে পায় না, তারা দিনের আলোতে রাতের অন্ধকার দেখে। তারা পূর্ণিমার আলো ঝলমলে রাতে অমাবস্যার অন্ধকার দেখে। তারা হচ্ছে বিএনপি এবং তার দোসররা।’


