২৮শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ২৬শে শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

সংক্রমণ বাড়লেও চাপ কম হাসপাতালে

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : রাজধানীসহ সারা দেশে করোনা শনাক্তের হার প্রতিদিনই বাড়ছে। গতকাল মঙ্গলবার শনাক্তের সংখ্যা আট হাজার ছাড়িয়েছে। তবে সংক্রমণের তুলনায় হাসপাতালগুলোতে এখনো রোগীর চাপ কম। সাধারণ বেডের পাশাপাশি বিভিন্ন হাসপাতালে খালি রয়েছে আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) ও এইচডিইউ শয্যা। রাজধানীর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা ও মুগদা জেনারেল হাসপাতাল এবং চট্টগ্রামের কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

ঢাকা মেডিক্যাল : গতকাল দুপুর পর্যন্ত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনা সন্দেহে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ১১। আগের ভর্তি ২৮৬ রোগীসহ ২৯৭ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতাল সূত্র জানায়, ১৫ জানুয়ারি ২৬, ১৬ জানুয়ারি ৩৮ ও ১৭ জানুয়ারি ৩৫ রোগী ভর্তি হয়। করোনা রোগীদের ২০টি আইসিইউর মধ্যে ১৪টিতে রোগী আছে। এখনো খালি ছয়টি শয্যা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালে করোনার লক্ষণ নিয়ে আসা সবাইকে ভর্তি নেওয়া হচ্ছে। এক রোগীর স্বজন জলিল আহমেদ বলেন, ‘কেরানীগঞ্জ থেকে ছোট বোনকে এনেছি। এই করোনা আমার পরিবারের বড় ভাইকে কেড়ে নিয়েছে। তখন হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরেছি, কোথাও চিকিৎসা পাইনি। এখন সেই পরিবেশ নেই।’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, হাসপাতালে আইসিইউ, এইচডিইউসহ প্রায় ৯০০ শয্যা করোনা ডেডিকেটেড করা হয়। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি করোনা ইউনিটে রোগী ভর্তি ছিল ১৬২, ২ জানুয়ারি ১৫৭, ৩ জানুয়ারি ১৬৬, ৪ জানুয়ারি ১৭১ ও ৫ জানুয়ারি ১৬৪ জন। বাড়তে বাড়তে গতকাল পর্যন্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯৭ জন। শুরুর দিকে সব আইসিইউ বেড ফাঁকা থাকলেও এখন রোগী বাড়ছে।

মুগদা জেনারেল হাসপাতাল : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে চিকিৎসা নিতে আসা ঝুনু নামের এক নারী বলেন, ‘ঠাণ্ডা লাগছে, জ্বর, গলার মইধ্যে ব্যথাও আছে। পোলারা জোর কইরা হাসপাতালে নিয়া আইছে। ডাক্তাররা কইছে সমস্যা নাই, এমনে ঠিক হয়ে যাইব।’

হাসপাতালের ১১ তলায় গিয়ে দেখা যায়, করোনা রোগীদের কেবিনে রেখে চিকিৎসা চলছে। চলতি সপ্তাহের রবিবার থেকে গতকাল পর্যন্ত করোনা রোগী ভর্তি হয়েছে ২৬ জন। এ সময় একজনের মৃত্যু হয়েছে। করোনার ১০০ শয্যার বেশির ভাগই খালি। এ ছাড়া ২৫টি আইসিইউ বেডের পাঁচটি করোনা রোগীদের জন্য রাখা হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত চারটিতে রোগী ভর্তি ছিল।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. নিয়াতুজ্জামান বলেন, ‘ওমিক্রনের প্রস্তুতি রয়েছে। রোগীর চাপ অনুযায়ী বেড বাড়ানো হচ্ছে। প্রয়োজনে করোনা রোগীদের জন্য আইসিইউ বাড়ানো যাবে।’

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল : সূত্র জানায়, গতকাল পর্যন্ত হাসপাতালে ৫৮ রোগী ভর্তি ছিল। এ ছাড়া আরো ২১ জনের করোনা সন্দেহ করা হচ্ছে। হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য ১০টি আইসিইউ রয়েছে। এর মধ্যে সাতটিতে রোগী আছে। এ ছাড়া ১৫টি এইচডিইউ শয্যার ১২টিই খালি।

কর্তৃপক্ষ জানায়, হাসপাতালে করোনার শুরুর চাপ সামলাতে ৩৫০ থেকে ৪০০ সাধারণ শয্যা ছিল। বর্তমানে ২৭৫ শয্যার ১৩৯টিই খালি।

চট্টগ্রামের হাসপাতাল : গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম নগরের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে ১৫ করোনা রোগী ভর্তি হয়। একই সময়ে নগর ও জেলায় নতুন করে ৭৩৮ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, চট্টগ্রামে ১০ দিন ধরে সংক্রমণ বাড়লেও হাসপাতালে রোগী ভর্তির হার কম।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, গত ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত করোনা রোগীদের চিকিৎসায় চট্টগ্রামে সরকারি-বেসরকারি চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, সংক্রমণ বাড়লেও হাসপাতালে তেমন চাপ নেই। আগামী এক সপ্তাহ দেখে পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে, ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com