৮ই অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ২৩শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ১১ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

সংঘাতের নূতন বিশ্বরূপ শঙ্কাজনক

ফাইল ছবি

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : দ্বন্দ্ব-সংঘাত নূতন কোনো বিষয় নহে। ধর্মীয় মিথে আছে, মানবজাতি সৃষ্টির শুরুতেই আদিপিতা হজরত আদম (আ.)-এর প্রথম সন্তান কাবিল হত্যা করিয়াছিল অনুজ হাবিলকে। ইহার পর হইতেই পৃথিবী যত ব্যাপৃত হইয়াছে, মানুষে মানুষে, জাতিতে জাতিতে এবং রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে সংঘাত দেখা গিয়াছে। অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী হইয়া এক জাতি ধ্বংস করিয়াছে আরেক জাতির শহর, বন্দর, জনপদ, সংস্কৃতি, সম্পদ; হত্যা করিয়াছে নিরীহ শত শত, হাজার হাজার মানুষ।

আধুনিক সময়ে আসিয়া গোলাবারুদ ট্যাংক-কামান আবিষ্কৃত হইবার পর, বিশ্বে যোগাযোগব্যবস্হা দ্রুততর হইবার পর আমরা দুইটি বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হইতে দেখিয়াছি, যাহাতে কোটি কোটি মানুষের জীবন হরণ হইয়াছে। এক পর্যায়ে গিয়া আলোচনার মাধ্যমেই হউক বা জয়পরাজয়ের মধ্য দিয়াই হউক সেই যুদ্ধের অবসান ঘটিয়াছে; কিন্তু বর্তমান বিশ্বে সংঘাত সহিংসতার যে রূপ ধারণ করিয়াছে তাহাতে যথেষ্ট শঙ্কা জাগাইয়া তুলিয়াছে যে এই পরিস্থিতি শীঘ্র সমাধানের সম্ভাবনা নাই।

ইহার শেষ কোথায় এবং বিশ্বকে কত হেনস্তা করিবে তাহা কেহই অনুমান করিতে পারিতেছেন না। কারণ একবিংশ শতাব্দীতে আসিয়া বিশ্বে বহু শক্তি বহু মুরুব্বির আবির্ভাব ঘটিয়াছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হওয়া ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধকে কেন্দ্র করিয়া যে খাদ্যনিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সংকট শুরু হইয়াছে, তাহা বিশ্বের বহু দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করিয়াছে।

সর্বত্র যে অস্থিরতা তাহার মধ্যে নিঃসন্দেহে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের আবহ রহিয়াছে। আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলিতে চলিতেছে খরা-দুর্ভিক্ষ। তাহার মধ্যেই শক্তিশালী দেশগুলি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে আরো তত্পর হইয়া উঠিয়াছে, যাহার ফলে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব আরো তীব্র হইয়া উঠিতে দেখা যাইতেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল-ইরান সংঘাত, ইয়েমেন-সৌদি আরব সংঘাত তীব্র হইয়া উঠিয়াছে।

পূর্ব ইউরোপের বলকান অঞ্চলের দেশগুলি আপাতদৃষ্টে এতকাল শান্ত থাকিলেও নূতন করিয়া তাহারা উগ্র জাতীয়তাবাদের দিকে চলিতে শুরু করিয়াছে। এশিয়ায় তাইওয়ান সংকট পূর্বের যে কোনো সময়ের তুলনায় প্রকট হইয়া উঠিয়াছে। সর্বোপরি অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ধনী-দরিদ্র প্রতিটি দেশকে হুমকির মধ্যে ফেলিয়া দিয়াছে। ইহা প্রকট হইয়া উঠিয়াছে যে ইউক্রেন যুদ্ধ পক্ষাবলম্বন করায় এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় দেশটি একের পর এক ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশসমূহে গ্যাস সরবরাহ কমাইতে শুরু করিয়াছে।

ইতিমধ্যেই রাশিয়া ফিনল্যান্ড এবং লাটভিয়ায় গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ করিয়াছে। শীতের মৌসুমে গ্যাসের তীব্র চাহিদা থাকে ইউরোপের দেশগুলিতে। রাশিয়াবিরোধী দেশগুলি ধারণা করিতেছে, সেই সময় রাশিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলিতে সকল ধরনের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করিয়া দিতে পারে। আর তাহা হইলে সেই সংকট আরো তীব্র হইয়া ছড়াইয়া পড়িবে সমগ্র বিশ্বে। শুধু জনজীবন বাঁচাইয়া রাখিতেই নয়, ইউরোপের কলকারখানা এবং সকল প্রকার উত্পাদনে ব্যাপক জ্বালানির প্রয়োজন হইয়া থাকে। আর সেই উত্পাদন বন্ধের খেসারত দিতে হইবে সকল দেশকেই। মনে রাখা দরকার, শিল্প উত্পাদনে এখনো ইউরোপের প্রভাব বিস্তর।

আরো আশঙ্কার বিষয় হইল, রাষ্ট্রগুলির মধ্যে আপসরফা করিবার জন্য, আলোচনা চালাইবার জন্য জাতিসংঘসহ যে সংগঠনগুলি সৃষ্টি হইয়াছিল, বিশেষ করিয়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে তাহা বহু মুরব্বির কবলে পড়িয়া আজ তাত্পর্য হারাইতে বসিয়াছে। কারণ এই সময় আসিয়া শক্তিধর দেশগুলির মধ্যে কেহ কাহাকেও পরোয়া না করিবার প্রবণতা দেখা দিয়াছে। এমন পরিস্থিতিতে উন্নয়নশীল দেশগুলিকে দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলার কথা মাথায় রাখিয়া আগাইতে হইবে।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com