পাথেয় রিপোর্ট : সংলাপ সমাধানের দিকে না গেলে দায় সরকারের বলে জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আমরা প্রত্যাশা করি আলোচনার মধ্য দিয়ে সমাধান হবে। আমরা সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। আমাদের বলা হয়েছিল, আলোচনার সুযোগ আছে। এখন সরকার যদি না চায় বা সংলাপ সমাধানের দিকে না যায় সেই দায় সরকারের।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের দ্বিতীয় সংলাপের প্রতিক্রিয়ায় ৭ নভেম্বর বুধবার বিকেলে বেইলি রোডের ড. কামালা হোসেনের বাসায় সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা জনগণের দাবি নিয়ে গিয়েছিলাম। সংলাপ যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে চেষ্টা করব। সরকার যদি আমাদের দাবি না মানে, আগামীকাল তফসিল ঘোষণা করে- তাহলে আমরা আগেই আমাদের কর্মসূচি ঘোষণা করে রেখেছি। আমরা নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা করব বলেও জানান বিএনপির এই নেতা।
এদিকে দ্বিতীয় দফার সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, সংসদ ভেঙে দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। আশা করি, এ কথা তাদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, সংলাপ এখানেই শেষ। শিডিউল ঘোষণার পর তারা যদি কোনো ব্যাপারে আবার বসতে চান, আপত্তি নেই।
এর আগে বুধবার বেলা ১১টায় গণভবনে ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দ্বিতীয় দফা সংলাপ শুরু হয়। দুপুর ২টার দিকে এই সংলাপ শেষ হয়।
ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের মধ্যে ছিলেন ড. কামাল হোসেন, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফা মোহসীন মন্টু, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, নাগরিক ঐক্যের নেতা এস এম আকরাম, জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলের প্রতিনিধিদলে ছিলেন- আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদের, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ নাসিম, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, ডা. দীপু মনি, অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।


