সতর্ক হয়েই ভাইরাস সংক্রমণ থেকে বাঁচতে হবে

সতর্ক হয়েই ভাইরাস সংক্রমণ থেকে বাঁচতে হবে

প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

সতর্ক হয়েই ভাইরাস সংক্রমণ থেকে বাঁচতে হবে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষকে বাঁচানোর জন্য দিয়েছে চারটি বার্তা। পরামর্শ দিয়েছেন করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় মানুষের করণীয় সম্পর্কে। জানিয়েছেন সুরক্ষা ও চিকিৎসা সামগ্রির কোনো ঘাটতি নেই। মানুষের মধ্যকার আতঙ্ক দূর করার আহ্বান জানিয়ে সহনশীল ও সংবেদনশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বলেছেন, করোনা ভাইরাসে ভীত হবেন না। কেউ কেউ ঘর থেকে বেরিয়ে এলেও দেশের বেশির ভাগ মানুষ ঘরবন্দি থাকছেন। রাজধানী ঢাকার পথঘাট একেবারেই ফাঁকা। ফাঁকা রাস্তায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে রিকশা ও অটো রিকশা। এরপরও অসতর্ক মানুষের পথচলা চোখে পড়ে। মানুষের মধ্যে সহনশীলতা, আস্থা-বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতেই প্রধানমন্ত্রী এই চার বার্তা দিয়েছেন।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হবেন না। বাইরে বের হলে মানুষের ভিড় এড়িয়ে চলুন। যারা করোনা ভাইরাস-আক্রান্ত হয়ে বিদেশ থেকে ফিরেছেন, তারা ১৪ দিন সম্পূর্ণ আলাদা থাকুন। ঘনঘন সাবান-পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে। হাঁচি-কাশি দিতে হলে রুমাল বা টিস্যু পেপার দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে নিন। যেখানে-সেখানে কফ-থুথু ফেলবেন না। করমর্দন বা কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন। মুসলমান ভাইয়েরা ঘরেই নামাজ আদায় করুন। অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও ঘরে বসে প্রার্থনা করুন। পরিবার, পাড়া-প্রতিবেশী এবং দেশের মানুষের জীবন রক্ষার্থে এসব পরামর্শ মেনে চলা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন।

প্রধানমন্ত্রীর বার্তায় আশ্বস্ত হোক মানুষ। সাধারণের মধ্যে যত বেশি সচেতনতা ফিরবে ততবেশি সুস্থ থাকবে দেশের মানুষ। দেশকে ও দেশের মানুষকে বাঁচাতেই এসব নির্দেশনা মানাটা জরুরি। আমাদের চারপাশের শিশু-বৃদ্ধকে বাঁচাতে এই নির্দেশনাগুলো জীবন রক্ষায় খুবই কার্যকর হবে। আশাপ্রদ বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, করোনা ভাইরাস দ্রুত ছড়ানোর ক্ষমতা রাখলেও ততটা প্রাণঘাতী নয়। এই ভাইরাসে আক্রান্ত সিংহভাগ মানুষই কয়েক দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠে। নানা রোগে আক্রান্ত এবং বয়স্ক মানুষদের জন্য এই ভাইরাস বেশ প্রাণ-সংহারী হয়ে উঠেছে। আপনার পরিবারের সংবেদনশীল মানুষটির প্রতি বেশি নজর দিন। আতঙ্কিত হবেন না। আতঙ্ক মানুষের যৌক্তিক চিন্তাভাবনার বিলোপ ঘটায়। আপনি, পরিবারের সদস্য এবং প্রতিবেশীরা যেন সংক্রমিত না হন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকুন।

দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সবার আগে সহনশীলতা প্রদর্শন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তায় মানুষের প্রতি যে দরদিয়া আবেগ ফুটে ওঠেছে তা সব বাহিনীকেই বোঝা উচিত। হৃদয়ঙ্গম করা উচিত। অপরিকল্পিত লাঠিচার্জ সমাজ সুন্দরে কোনো কাজ করবে না। মানুষের সমস্যাকে বড় করে দেখা উচিত। কে কী প্রয়োজনে বের হচ্ছে, কী সমস্যায় আছে? এখনই মানুষের ভালোবাসায় এগিয়ে যাওয়ার সর্বোচ্চ উত্তম সময়। আমরা মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর বার্তা আমলে নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় কাজ হওয়া উচিত।

— মাসউদুল কাদির

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *