২৭শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৯শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

সবজির দামে আগুন

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বাজারে সবজির সরবরাহ আগের চেয়ে বাড়লেও দাম কমার যেন নাম নেই। উল্টো বাড়ছে। গ্রীষ্মকালীন সবজির পাশাপাশি বাজারে ঢুকতে শুরু করেছে শীতের আগাম সবজি। নতুন যেসব সবজি বাজারে আসছে আগুন দামের কারণে সেগুলো ছুঁয়েও দেখতে পারছেন না ক্রেতারা।

বিক্রেতারা বলছেন, যেকোনো সবজি বাজারে নতুন নামলে দাম কিছুটা বেশি থাকে। এ ছাড়া এসব সবজি সংগ্রহ করতেও ব্যাপারীদের খরচ বেশি হয়। কারণ এগুলো একই অঞ্চলে পাওয়া যায় না। একেক অঞ্চলে থাকে একেকটা। তাই দাম কিছুটা চড়া। কৃষিবিদরা বলছেন, নতুন সবজির দাম কিছুটা বেশি এটা ঠিক, কিন্তু বাজারে যতটা বেশি, ততটা নয়। কোনো সবজিই কৃষক পর্যায়ে এত বেশি থাকে না। হাত বদলেই সবজির দাম বেশি বাড়ে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, আমদানি করা টমেটোর পাশাপাশি রয়েছে দেশি আধাপাকা টমেটোও। বিক্রেতারা বলছেন, খুলনা ও সিলেট অঞ্চল থেকে এসব টমেটো আসছে সপ্তাহ দুয়েক হলো। তবে দাম আমদানি টমেটোর সমান, ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি।

রাজধানীর বাজারগুলোতে শিম আসা শুরু করেছে মাসখানেক আগেই। খুলনা, কুষ্টিয়া, যশোর অঞ্চল থেকে এসব শিমের সরবরাহ এখন আরো বেড়েছে। তবে খুচরা বাজারগুলোতে দাম এখনো ১১০ টাকা কেজির ওপরে। অথচ খুলনায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কৃষক এসব শিম বিক্রি করেন ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি। কারওয়ান বাজারে অবশ্য খুচরা কিনলেও ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি মিলছে।

বাঁধাকপি আকারে কিছুটা ছোট হলেও দামে ছোট না, প্রতি পিস ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। একই রকম দাম ফুলকপিরও। আমদানি করা গাজরের সঙ্গে দেশে উৎপাদিত গাজরও আছে বাজারে। আমদানি করা এক কেজি গাজর ১২০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকা। এ হিসাবে সপ্তাহের ব্যবধানে গাজরের দাম কেজিতে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। দেশি গাজর ২০ থেকে ৩০ টাকা কমে পাওয়া গেলেও তা ১০০ টাকার ওপরেই। লাউ আছে বাজারের সর্বত্রই। দাম প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা। বাজারে ধনেপাতা ১০০ গ্রাম ২০ থেকে ২৫ টাকা। মুলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়।

জানতে চাইলে খিলগাঁও বাজারের বিক্রেতা আনোয়ার বলেন, ‘নতুন সবজি যে পরিমাণ আসছে তা চাহিদার চেয়ে অনেক কম। এসব সবজির চাহিদা বেশি। তাই পাইকাররা দামও রাখছেন বেশি। সে হিসাবে মিনতি খরচ, গাড়িভাড়া, দোকানভাড়া, লাভসহ সব কিছু যোগ করে আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।’

শুধু শীতের আগাম সবজি নয়, দাম বাড়ছে সব ধরনের সবজিরই। বাজারে হাতে গোনা এক-দুটি ছাড়া বেশির ভাগ সবজির দামই ৬০ টাকা কেজির ওপরে। কোনো কোনো সবজির কেজি ৮০ টাকায়ও ঠেকেছে।

বাজারে অন্যান্য সবজির মধ্যে ঝিঙে, চিচিঙ্গা, বরবটি, ঢেঁড়স, পটোল, করলাসহ সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। ঝিঙের কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা। বাজারে কাঁচা মরিচের দাম এ সপ্তাহে বেড়েছে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা। বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজিতে।

এ ছাড়া কাঁচকলার হালি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, লাল শাকের আঁটি ১০ থেকে ২০ টাকা, মুলা শাকের আঁটি ১০ থেকে ২০ টাকা, কলমি শাকের আঁটি বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ১০ টাকা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, ২০১৯-২০ সালে দেশে শীত ও গ্রীষ্ম মিলে সবজি উৎপাদন হয়েছিল ১৮৪ মেট্রিক টন। পরের বছর ২০২০-২১ সালে উৎপাদন সাড়ে ১১ লাখ টন বেড়ে মোট উৎপাদন হয়েছে ১৯৬ লাখ টন। গত বছরের উৎপাদিত সবজির মধ্যে গ্রীষ্মকালীন ছিল ৫৯ লাখ টন। আগের বছর গ্রীষ্মকালীন সবজি উৎপাদন হয়েছিল ৫৩ লাখ ৮০ হাজার টন। অর্থাৎ প্রায় পাঁচ লাখ টন গ্রীষ্মকালীন সবজির উৎপাদন বেড়েছে। গত বছর চার দফা বন্যার পরও এমন উৎপাদন চিত্রে আশাবাদী হয়েছিলেন ক্রেতারা। এ বছর উৎপাদন আরো বেশি হওয়ার কথা। বাজারে সবজিও দেখা যাচ্ছে প্রচুর। কিন্তু দামের লাগাম টানা যাচ্ছে না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (খুলনা) জি এম এ গফুর বলেন, ‘গত বছরের চেয়ে এবার সবজি আরো বেশি হবে। কারণ সব কৃষকই এখন মাছের ঘেরের ওপর মাচা করে আগাম জাতের সবজি চাষ করছেন। লাউ, শিম, করলা, শসা, তরমুজসহ নানা ধরনের ফসল তাঁরা ফলাচ্ছেন। এ অঞ্চলের উদ্বৃত্ত সবজি যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। তবে ঢাকার বাজারে যে দাম তার চার ভাগের তিন ভাগই মধ্যস্বত্বভোগী ও পরিবহনের কারণে বাড়ছে। কৃষক অল্প লাভ হলেই বিক্রি করে দিচ্ছেন।’

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com