ক্রীড়া ডেস্ক : ডাবলের জন্য চার উইকেটের প্রয়োজন ছিল সাকিবের। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টেস্টে চার উইকেটের অপেক্ষা নিয়ে খেলতে নেমেছিলেন সাকিব আল হাসান। দ্বিতীয় দিন বল হাতে তিন উইকেট নিয়ে ডাবলের আরো কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন। তবে তৃতীয় দিন সেই অপেক্ষা আর দীর্ঘ করলেন না। ক্যারিবীয় ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই কাইরন পাওয়েলকে নিজের ২০০তম শিকার বানিয়ে ইতিহাসে প্রবেশ করলেন সাকিব আল হাসান।
প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ২০০ উইকেটের মালিক হলেন সাকিব। আর ‘ডাবল সেঞ্চুরি’ করে ইতিহাসের সবাইকে ছাড়িয়ে গেলেন বিশসেরা এই অলরাউন্ডার। সাদা পোশাকে ২০০ উইকেট এবং ৩০০০ রান নিয়ে অভিজাত ক্লাবে প্রবেশ করলেন সাকিব। ১৪ জনের এই ক্লাবে সবচেয়ে কম ম্যাচ খেলে সবার উপরে জায়গা করে নিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
সাকিবরে আগে তিন হাজার রান এবং ২০০ নেয়ার ক্লাবে প্রবেশ করেছিলেন, ইয়ান বোথাম, ক্রিস কেয়ার্নস ,অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ, কপিল দেব, ইমরান খান, গ্যারি সোবার্স, রিচার্ড হ্যাডলি, শন পোলক, ড্যানিয়েল ভেটোরি, জ্যাক ক্যালিস, চামিন্দা ভাস,স্টুয়ার্ট ব্রড, শেন ওয়ার্ন । এদের মধ্যে সবচেয়ে কম ৫৫ ম্যাচ খেলে এই ক্লাবের সবার উপরে ছিলেন ইয়ান বোথাম। এবার সেই বোথামকে সরিয়ে সবার উপরে জায়গা করে নিলেন বাংলাদেশি অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। সেরা হতে সাকিব খেলেন মাত্র ৫৪টি ম্যাচ।
এদিকে দাপট দেখিয়েই মাত্র আড়াই দিনে চট্টগ্রাম টেস্ট জিতে নিয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ঘূর্ণি উইকেটে স্পিনারদের সৌজন্যে ৬৪ রানের এই জয়ে স্বাগতিকরা ২ ম্যাচ সিরিজে সিরিজে এগিয়ে গেল ১-০ ব্যবধানে। জয়ের লক্ষ্যে ২০৪ রানের টার্গেট পেয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু সাকিব-তাইজুলদের ঘূর্ণিতে তাদের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয় ১৩৯ রানে। তাইজুল নিয়েছেন ৬ উইকেট। এছাড়া ২টি করে উইকেট নিয়েছেন সাকিব এবং মিরাজ।
চট্টগ্রাম টেস্টে দ্বিতীয় দিন থেকেই উইকেটে যথেষ্ট সহায়তা পাচ্ছিলেন স্পিনাররা। বল ব্যাপক টার্ন ও স্কিড করছিল। মাঝে মধ্যে লাফিয়ে উঠছিল, কখনও নিচু হয়ে যাচ্ছিল। সময় যত গড়িয়েছে এ মাত্রা তত বেড়েছে। স্বভাবতই তৃতীয় দিনে ব্যাট করা দুরূহ ছিল। শেষ পর্যন্ত তাই ফললো।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে সুবিধা করে উঠতে পারেননি ফর্মের মগডালে থাকা তাইজুল। পেয়েছিলেন মাত্র ১ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে ষোলকলা পূর্ণ করলেন এ বাঁহাতি স্পিনার। শিকার করলেন ৬ উইকেট। সাকিব-মিরাজের শিকার ২টি করে উইকেট।


