সমাজে মসজিদ ও মাদ্রাসার গুরুত্ব সমান : আল্লামা মাসঊদ

সমাজে মসজিদ ও মাদ্রাসার গুরুত্ব সমান : আল্লামা মাসঊদ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ইসলামকে টিকিয়ে রাখতে হলে সমাজে মসজিদ ও মাদ্রাসা সমান গুরুত্ব রাখে বলে মন্তব্য করেছেন শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শাইখুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।

শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) ইকরা ঝিল মসজিদের মিম্বারে জুমার বয়ানে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এ মন্তব্য করেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর জীবনে অসংখ্য মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন বলে দাবি করে তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পৃথিবীতে আগমনের অন্যতম একটি লক্ষ্য ছিলো দ্বীনি তা’লীম ( ধর্মীয় শিক্ষা)-র প্রচার ও প্রসার ঘটানো। সে লক্ষ্যে তিনি হিজরতের আগে ও পরে অসংখ্য মসজিদ-মাদ্রাসা বিনির্মাণ করেছেন। যেখানেই কোনো মসজিদ নির্মাণ করেছেন সাথে একটি মাদ্রাসাও প্রতিষ্ঠা করেছেন।

সমাজে দ্বীন (ধর্ম) টিকিয়ে রাখতে হলে মসজিদ ও মাদ্রাসা উভয়ই জরুরী বলে ব্যক্ত করে শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, মসজিদ ও মাদ্রাসা কোনোটিকেই বাদ দেয়া যাবে না। মসজিদ-মাদ্রাসা একটি অন্যটির জন্য পরিপূরক। মসজিদ প্রতিনিধিগণ যেমন মাদ্রাসার কাজে এগিয়ে আসবেন। ঠিক মাদ্রাসার দায়িত্বশীলগণও মসজিদ আবাদের কাজে স্বতস্ফুর্তভাবে শরীক হবেন। কারণ মাদ্রাসা না থাকলে মসজিদ আবাদের কোনো লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না। আবার মসজিদ না থাকলেও ইবাদাতের কোনো জায়গা বাকি থাকবে না। সুতরাং সমাজে দ্বীনকে টিকিয়ে রাখতে হলে মসজিদ ও মাদ্রাসার সমান প্রয়োজনীয়তা আছে।

ধর্মের সাথে জেনারেল শিক্ষার তেমন কোনো সম্পর্ক নেই মন্তব্য করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের সমাজের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা একজন ছাত্রকে দ্বীনের সঠিক জ্ঞান প্রদানে অক্ষম। জেনারেল শিক্ষায় ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই বললেই চলে। সুতরাং জেনারেল পড়ুয়া কারো মাঝে দীনের প্রতি দরদ থাকাটা দুরূহ ব্যাপার। এই সমস্যাকে সামনে রেখেই কওমি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। এখানে পড়ে একজন ছাত্র আল্লাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে বিস্তর জ্ঞান লাভ করতে পারে। দ্বীনের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা সৃষ্টি হয়। একজন খাঁটি মানুষে পরিণত হয়। তাই আসুন, বেশি বেশি মাদ্রাসা তৈরী করে দ্বীনি- ইলম (ধর্মীয় জ্ঞানের) প্রচার ও প্রসারের মতো মহৎ কাজে অংশগ্রহণ করি।

বাংলাদেশে ধর্ম পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে উল্লেখ করে আল্লামা মাসঊদ বলেন, অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মুসলমান অনেক শান্তিতে আছে। কোনো ধরণের বাঁধা বিপত্তি ছাড়াই এখানকার মুসলমানগণ ধর্ম-কর্ম পালন করতে পারে। অথচ বিশ্বের অনেক দেশের মুসলমানরা বহু নির্যাতন-নিপীড়নের মধ্যে দিনাতিপাত করছে। ইন্ডিয়ান মুসলমানরা কষ্টে আছে। বার্মার মুসলমানদের অবস্থাও ভালো নয়। উইঘুরের মুসলিমদের উপর অমানবিক নির্যাতন চলছে। অথচ বাংলাদেশে ধর্ম পালনে কতো সুন্দর ব্যবস্থা সৃষ্টি করে দিয়েছেন আল্লাহ তাআলা। তাই আমরা আল্লাহর এই নেয়ামতকে নষ্ট করবো না। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে নেয়ামতের কদর করার তাওফিক দান করুন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *