সমালোচিত জার্মানির রাজধানী বার্লিন

সমালোচিত জার্মানির রাজধানী বার্লিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ● হামলার শিকার সেন্ট পিটার্সবুর্গ শহরের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে নিজেদের বিখ্যাত স্থাপত্য ব্রান্ডেনবুর্গ গেইটকে রাশিয়ার পতাকার রঙে আলোকিত না করে সমালোচিত হয়েছে জার্মানির রাজধানী বার্লিন। সাধারণত এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলার পর নিজেদের স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যগুলো আক্রান্ত দেশের পতাকার রঙে আলোকিত করে সহমর্মিতা জানায় বিশ্বের প্রধান প্রধান শহরগুলো। গত সোমবার রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবুর্গের পাতাল রেলে চালানো বোমা হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হন।

এর আগে ফ্রান্স, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাসী হামলার পর বিশ্বের অন্যান্য প্রধান শহরগুলোর মতো বার্লিনও নিজেদের সবচেয়ে বিখ্যাত স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য ব্রান্ডেনবুর্গ গেইট আক্রান্ত দেশগুলোর পতাকার রঙে আলোকিত করে একাত্মতা প্রকাশ করেছিল।

কিন্তু সেন্ট পিটার্সবুর্গে হামলার পর বার্লিন কর্তৃপক্ষ ব্রান্ডেনবুর্গ গেইট রাশিয়ার পতাকার রঙে আলোকিত না করার সিদ্ধান্ত নেয়। সিদ্ধান্তের বিষয়ে বার্লিন শহর কর্তৃপক্ষের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বার্লিনের মেয়র সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শুধু ‘অংশীদার শহরগুলো’ হামলার শিকার হলে তারা এ কাজ করবে, কিন্তু সেন্ট পিটার্সবুর্গ শহর তাদের ‘অংশীদার’ নয়। বার্লিন শহর কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তে অনেকে ক্ষুব্ধ হয়েছেন, সমালোচকরা এটিকে একটি কেলেঙ্কারি বলে অভিহিত করেছেন।

সমালোচকরা বলেছেন, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে সমকামীদের নৈশক্লাবে বন্দুকধারীর হামলায় ৪৯ জন নিহত হওয়ার পর ব্রান্ডেনবুর্গ গেইট রঙধনুর রঙে আলোকিত করা হয়েছিল, এছাড়া জেরুজালেমে হামলার পর ইসরায়েলি পতাকার রঙেও গেইটটি আলোকিত করা হয়েছিল, কিন্তু এই দুটি শহরের কোনোটিই বার্লিনের কথিত ‘অংশীদার’ শহর ছিল না।

জার্মান ব্রডকাস্টার ডয়েসে ভেলের রুশ বিভাগের প্রধান ইগনো মন্তেইফেল বলেছেন, ক্রেমলিনের সঙ্গে দ্বিমত থাকার পরও জার্মানি সরকার যখন সেন্ট পিটার্সবুর্গে নিহতদের জন্য শোক প্রকাশ করেছে তখন বার্লিন কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তে ওই নিহতদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হয়েছে। তিনি বলেন, “রাশিয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করার নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব আছে পশ্চিমা দেশগুলোর। ব্রান্ডেনবুর্গ গেইট রাশিয়ার পতাকার রঙে না রাঙানো ভুল, এটি একটি কেলেঙ্কারিও বটে।” জার্মান সাপ্তাহিকী স্টার্নের প্রকাশক আন্দ্রেজ পেটজোল্ড এই টুইটে বার্লিনের নেতাদের ‘হীনমনা’ অভিহিত করেছেন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর খবরে জানা গেছে, সন্ত্রাসী হামলার শিকারদের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে ইউরোপ দ্রুত তাদের বিশিষ্ট স্থাপনাগুলো আক্রান্ত দেশের পতাকার রঙে আলোকিত করে এলেও সেন্ট পিটার্সবুর্গের হামলা ক্ষেত্রে তা করেনি তারা। গত মঙ্গলবার রাতে একমাত্র ইসরায়েল ছাড়া বিশ্বের আর কোনো দেশের বিশিষ্ট স্থাপনাগুলো রাশিয়ার পতাকার রঙে আলোকিত করা হয়নি। -রয়টার্স

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *