সমুদ্রতটে

সমুদ্রতটে

আ‌‌‌দিল মাহমুদ : আমি চিরপথিক। পথ চলাতেই আনন্দ পাই। দেশ দেশান্তরে ভ্রমণ করেই সৌন্দর্য পিপাসু মনের খোরাক যোগাই।

প্রাকৃতিক রহস্যময় সৃষ্টিগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সমুদ্র। বিশাল সমুদ্রের পরতে পরতে লুকিয়ে আছে অপার রহস্য ও বিস্ময়। তেমনি এক সম্পদ, বঙ্গোপোসাগরের পূর্ব উপকূলে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। দিগন্ত যেখানে মাথা নুয়ে চলে। আজ আমি পিছনে ফেলে এসেছি অশান্ত কোলাহল বিশ্ব। দাড়িয়ে আছি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। আমার পায়ের নিচে নরম বালুর তট। সামনে অনন্ত জলরাশি, নীল জলরাশির ফেনায় ভর করে মন অজান্তেই নাচছে।

দিগন্ত পার থেকে গোটা আকাশে খুশির রক্তিম আবির ছড়িয়ে এখানে হয়েছে সূর্যোদয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সৈকতের উপকূলে দেশি-বিদেশি বিচিত্র মানুষের ভিড় বাড়তে থাকলো। পৃথিবীর জল ও স্থলভাগের সন্ধিস্থলে দাঁড়িয়ে অপার বিস্ময়ে মুগ্ধ নয়নে সৈকতের তীরে আছড়ে পড়া বিশাল বিশাল ঢেউয়ের দৃশ্য উপভোগ করলাম। দিন শেষে বিকেলের দিকে সমুদ্র যেন অনেকটাই শান্ত হয়ে গেছে। চারিদিকে আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, এখন সূর্যাস্ত হবে। সূর্যাস্ত কক্সবাজারের অন্যতম আকর্ষণের দিকের একটি। সমুদ্রের বুকে লাল সূর্যের লুটোপুটি খাওয়া যেন দারুণ চিত্তাকর্ষক। পশ্চিমাকাশে রক্তিম আভায় নীল সমুদ্র আর সূর্যের লুকোচুরি খেলার দৃশ্য যে কারোই মন জয় করতে পারে।

নীল আকাশ আর নীল জলরাশি এ দুইয়ের সমন্বয়ে যেন কক্সবাজার। সমুদ্রের গর্জন আর বাতাসের গুঞ্জন যেন আমার এতদিনের ক্লান্তিকে কাটিয়ে দিয়েছে এক মুহূর্তে। সন্ধ্যার পর দেখি অবিরত সমুদ্রের বুকে তৈরি হওয়া একটার পর একটা, বিরাট বিরাট ঢেউ আছড়ে পড়ছে সমুদ্রতটের বালিয়াড়িতে, আর আমার পদচিহ্ন গুলোকে নিঃস্ব করে দিচ্ছে। ওসব কিছু দেখে এক অনাবিল, অন্যরকম মোহ কাজ করছিল আমার মাঝে।
সমুদ্র সৈকত থেকে চলে আসার সময়, সমুদ্রতটের ভেজা ভেজা বালুতে আঙুল ডুবিয়ে কেটে কেটে লিখে এসেছি – ‘পরের জন্মে বিশ্বাসী হলে, সমুদ্র হয়ে জন্ম নিতাম।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *